কুন দা’য়ীয়ান

আল্লাহ তায়ালা শুধুমাত্র দয়ালু নন, তিনি ইনসাফেরও প্রতিষ্ঠাতা। তার অগাধ জ্ঞান, অসীম কর্তৃত্ব ও ন্যায়বিচারের কাছ থেকে এটা আশা করা যেতে পারেনা যে, মানুষ আল্লাহ তথা হেদায়াতের পথ সম্পর্কে জানতে পারবেনা অথচ সেপথে না চলার দরুন তিনি তাদেরকে ধরে শাস্তি দেবেন। 

কোন বস্তুটি সম্পর্কে জওয়াবদিহী করতে হবে তা মানুষের অজ্ঞাত থাকবে, আর তার নিকট থেকে সে বস্তুটি সম্পর্কেই জওয়াব চাওয়া হবে এটি হতে পারেনা।

আর এজন্যেই তিনি এ দুনিয়ার প্রথম মানুষটিকেই একজন নবীরুপে সৃষ্টি করেন। অত:পর মানবজাতিকে আল্লাহর পথ সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং দুনিয়ায় জীবন যাপনের নির্ভুল পদ্ধতি শেখানোর জন্য যুগে যুগে আরো নাবী পাঠিয়েছেন। তারা মানুষকে এ শিক্ষা দিয়ে গেছেন যে, দেখো – এটি হচ্ছে আল্লাহর পথ। আর, এটি শয়তানের। 

একথাটি আল্লাহ তায়ালা তার সবশেষ কিতাব কুরআনেও অবহিত করেছেন এভাবে:

“আল্লাহ তায়ালা নাবীদেরকে সুসংবাদ প্রদানকারী এবং পরিণতির ভীতি প্রদর্শনকারীরুপে পাঠিয়েছেন, যাতে করে মানুষ কখনো এরুপ প্রশ্ন তোলার সুযোগ না পায় যে, আমরাতো সত্য সঠিক পথ সম্পর্কে অবহিত ছিলামনা .....” (সুরা আন নিসা ১৬৫)

নাবীগন তাদের এ দায়ীত্বের গুরুত্ব তীব্রভাবে অনুভব করতেন। বিদায় হাজ্জ এর প্রাক্কালে শেষ নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ উক্তি তারই প্রমাণ:

“হে মানবসকল, তোমরা আমার কথা হৃদয়ংগম করার চেষ্ঠা কর। আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌছে দেয়ার দায়ীত্ব আমি সম্পন্ন করেছি। আর তোমাদের কাছে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি যা দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে তোমরা কখনো বিপথগামী হবেনা। ......... হে আল্লাহ আমি কি তোমার দ্বীন মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছি?

লোকেরা সমস্বরে বললো: হে আল্লাহ নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে তোমার দ্বীন পৌছে দিয়েছেন। এটা শুনে রাসুলুল্লাহ সা: বললেন: হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাক”। (সীরাতে ইবনে হিশাম। পৃ: ৩৩৭)

কুরআন ও সহীহ হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, নাবীর অবর্তমানে এ দায়ীত্ব এই উম্মাতের উপর ন্যস্ত। এ উম্মাত এখন নাবীদের উত্তরাধীকারীর মযাদায় অভিষিক্ত। (সুরা আল বাকারা ১৪৩, সুরা আলে ইমরান ১১০) 

অর্থাৎ নিজেদের অযোগ্যতা ও পথভ্রষ্টতার কারনে বানু ইসরাঈলদেরকে যে আসন থেকে বিচ্যুত করা হয়েছে সেখানে এখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মাতকে বসানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে এ উম্মাতের জন্য আল্লাহভীতি, সত্য-সঠিক পথ অবলম্বন, সুবিচার, ন্যায়-নিষ্ঠা ও সত্যপ্রীতির জীবন্ত সাক্ষী হয়েছেন, তেমনিভাবে তোমরাও সারা পৃথিবীর জন্য জীবন্ত সাক্ষীতে পরিণত হবে। যেন দুনিয়াবাসী তোমাদের কথা, কর্ম ও আচরণ প্রত্যক্ষ করে ভাল ও মন্দ, সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য অনুধাবন করতে পারে।

কুরআন এ দায়ীত্বকে সত্যের সাক্ষ্যদান হিসেবে ঘোষণা করেছে। সুতরাং তারা যদি এ দায়ীত্ব পালন এবং সাক্ষ্যদানে অবহেলা করে কিংবা সত্যের পরিবর্তে অসত্য তথা বাতিলের সাক্ষী হয়ে দাড়ায় তাহলে সাধারণ মানুষদের আগে তারাই আখিরাতের আদালতে আসামী হবে।

তারা নিজেদের কাযাবলী সম্পর্কেতো জিজ্ঞাসিত হবেই, তদুপরি সাক্ষ্যদানে অবহেলার দরুণ যেসব মানুষ গোমরাহী, অন্ধকার ও ভ্রান্তির পথে জীবন অতিবাহিত করেছে, যতো যুলুম-নিযাতন, অন্যায়-অত্যাচার এবং পাপ ও ভ্রষ্টতার রাজত্ব বিস্তৃত হয়েছে – সেসবের সম্পর্কেও জওয়াবদিহী করতে হবে।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None