যুক্তির নিরিখে কুরআন – চার

১৩) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম এর সাথে মাদিনার ইয়াহুদীরা কিরুপ আচরণ করেছে দুনিয়াবাসী তা অবগত। যদি
মুহাম্মাদ সা: নাবী না হতেন, কুরআন কারিম যদি তার নিজের লিখা হতো তাহলে
প্রতিউত্তরে এ কুরআনে মুসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বিরুপ কথাবার্তা থাকতো।
মানবীয় দুবলতাহেতু এমনটা হওয়া ছিল অতি স্বাভাবিক। কিন্তু অবাক ব্যাপার, কুরআনে
মুসা (আলাইহিস সালাম) কে এক অতি উচ্চ মাকাম দান করা হয়েছে।

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম যখন মাদিনায় যান, দেখলেন যে, সেখানকার ইয়াহুদী সম্প্রদায় ১০ই মুহাররাম তারিখে রোজা রাখছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এটি কিসের রোজা? তারা উত্তর দিল, এ
দিনটি অনেক বড়।
এ দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা মুসা
(আলাইহিস সালাম) ও বানু ইসরাইলকে ফিরআউনের কবল থেকে রক্ষা করেছিলেন। এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মুসা (আ.) রোজা রাখতেন, তাই আমরাও এ দিনে রোজা পালন করে থাকি। তাদের উত্তর শুনে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘তোমাদের চেয়ে আমরা মুসা (আ.)-এর অধিক নিকটবর্তী’। অতঃপর তিনি নিজে এ দিনে রোজা রাখেন এবং সাহাবীগনকেও তা
পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেন। (বুখারি-৩৩৯৭, মুসলিম-১১৩৯ বর্ণনাকারী:
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু)। ‘তোমাদের চেয়ে আমরা মুসা (আ.) এর
অধিক নিকটবর্তী’ – মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম এর এ উক্তিতেও সত্য
অনুসন্ধানীদের জন্য পথের দিশা রয়েছে। এ ধরণের উক্তি কেবলমাত্র তারাই করতে পারেন যাদের
জীবনপথ অহী দ্বারা পরিচালিত।

ইসা ইবনু মারিয়াম (আলাইহিমাস সালাম) এর ইতিহাস বর্ণনায়ও
কুরআন একই নীতি অবলম্বন করেছে। যদিও খৃষ্টান সমাজ কুরআনকে আল্লাহর প্রত্যাদেশ, মুহাম্মাদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নাবী মানতে নারাজ।

ইসা (আলাইহিস
সালাম) এর মায়ের নামে কুরআনে রয়েছে একটি সুরা। যেখানে বিরুদ্ধবাদীদের সন্দেহ ও
সমালোচনার জওয়াব দিয়ে প্রকৃত সত্যকে সুস্পষ্ট করা হয়েছে এবং যেখানে মারিয়াম
(আলাইহাস সালাম) এর পুত পবিত্র হবার ব্যাপারে আল্লাহ স্বয়ং সাক্ষ্য দিয়েছেন।

শুধু কি তাই?
যে চারজন মহিলা জান্নাতে সুউচ্চ সম্মানের অধিকারিণী হবেন তাদের মধ্যে মারিয়াম (আ.)
এর স্থান পাবার সুসংবাদটি দিয়েছেন এই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। (তিরমিযি ১১৩৫)
   

 ১৪) কুরআনে বর্ণিত হয়েছে হাজার বছর
আগে অতীত হয়ে যাওয়া নাবী/রাসুল এবং তাদের অনুসারীদের ইতিহাস। ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্বিক
গবেষণা এবং এসবের অকাট্য নিদর্শনাদি একথা জোর দিয়ে বলে যে, অহীর জ্ঞান অথবা হাজার
বছর আয়ু ব্যতিরেকে এসব তথ্য উপস্থাপন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বলা বাহুল্য, কুরআনে উপস্থাপিত এসব
ইতিহাসকে অস্বীকার করার কোন যুক্তি খুজে না পেয়ে ইসলাম বিদ্বেষীগন সবশেষে এটা
বলেছেন যে, মুহাম্মাদ সা. কুরআন নকল করেছেন তাওরাত/ইঞ্জিল থেকে।                                                                                (চলবে)

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None