দুনিয়ার চিরন্তন রুপ

“রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট প্রথম অহী নাযিলের পর উম্মুল মু’মিনীন খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) রাসুলুল্লাহকে (সা:) সংগে নিয়ে ওয়ারাকা ইবনু নাওফিলের নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি ছিলেন তার চাচাতো ভাই। আরবী ও হিব্রু ভাষায় ইনজিল কপি করতেন। খাদিজা রা: তাকে বললেন: ভাইজান আপনার ভাতিজার ঘটনাটা একটু শুনুন। ওয়ারাকা রাসুলুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলেন: ভাতিজা, তুমি কি দেখতে পেয়েছো? রাসুলুল্লাহ সা: অহী নাযিলের আদ্যোপান্ত বর্ণনা করলেন। শুনে ওয়ারাকা বললেন: এতো সেই নামুস (ওহী বহনকারী ফেরেশতা) যাকে আল্লাহ তায়ালা মুসা আলাইহিস সালামের নিকট পাঠাতেন। হায়! আমি যদি তোমার নবুয়াত কালে যুবক বয়সের হতাম! হায়! তোমার জাতির লোকেরা যখন তোমাকে বহিস্কৃত করবে তখন যদি আমি জীবিত থাকতাম! 

শুনে রাসুলুল্লাহ সা: অবাক হলেন এবং বললেন: জাতির লোকেরা কি আমাকে দেশ থেকে বের করে দেবে? ওয়ারাকা বললেন: হ্যা, তুমি যে জিনিস নিয়ে এসেছো, ইতিপুবে যারাই এ জিনিস নিয়ে এসেছে তাদের সকলের সাথেই মানুষ এ আচরণ করেছে। তবে আমি যদি তোমার সে দু:সময়ে জীবিত থাকি তাহলে অবশ্যই তোমাকে বলিষ্ঠভাবে সাহায্য করবো”। কিন্তু এর কিছুকাল পরই ওয়ারাকা ইবনু নাওফিলের ইনতেকাল হয়।    

এটি একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশ বিশেষ। বর্ণনাকারী: উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) দ্রষ্টব্য: বুখারী, মুসলিম।

ঘটনাটিতে অবাধ্য মানবকুলের এক চিরন্তন চিত্র ফুটে উঠেছে।

যে বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা আক্ষেপ করে বলেছেন:

“বান্দাদের জন্য আক্ষেপ, যে রাসুলই তাদের নিকট এসেছে তাকেই তারা বিদ্রুপ করেছে, মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে” (সুরা ইয়াসীন, আয়াত ৩০) 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None