ড. মুর যা বলেছিলেন..

কুরআন কারিমে উল্লেখিত মানবভ্রণ (Human Embryology) এবং এর ক্রমবিকাশ সম্পর্কিত আয়াতগুলো ড. কিথ মুরকে (ভ্রুনত্বত্তের অধ্যাপক, টরন্টো ইউনিভার্সিটি, কানাডা) এত বেশি আশ্চযান্বিত ও মুগ্ধ করে যে, তিনি তাঁর পাঠ্যপুস্তকগুলোকে পরিবর্তন করেন। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জন্য ড. কিথ মুরের সাক্ষাৎকার নেয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল, এগুলো বিভিন্ন স্লাইডশো এবং অন্যান্য মাধ্যমে দেখানো হয়। কানাডা জুড়ে একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিষয় ছিল সেটি। কয়েকটি পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় তা ছাপা হয়। কিছু পত্রিকার শিরোণাম ছিল মজার। একটি পত্রিকা লিখে: ‘প্রাচীন গ্রন্থে আশ্চযজনক বিষয় প্রাপ্তি’। অর্থাৎ মানুষ পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেনি যে, বিষয়টি কী।

একটি পত্রিকার রিপোর্টার প্রফেসর মুরকে প্রশ্ন করেন: ‘আপনার কি মনে হয়না, ভ্রুণ এর অবস্থা এবং এটি কীভাবে পরিবর্তিত হয় ও বেড়ে ওঠে হয়তো আরবরা এসব বিষয় সম্পর্কে জানতো? হতে পারে, সেখানে কোন বিজ্ঞানী ছিলেন না, কিন্তু তারা কোনভাবে মানুষকে ব্যবচ্ছেদ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়।’

ড. মুর তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে বলেন যে, তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে গেছেন। ভ্রুণ সংক্রান্ত সকল স্লাইড এবং ফিল্মে যা প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে তার সকল ছবিই মাইক্রোসকোপ দিয়ে তোলা হয়েছে। চৌদ্দশ বছর পুবে কেউ ভ্রুণতত্ত্ব আবিষ্কারের চেষ্টা করেছেন কি না এটা কোন বিষয়ই নয়, কেননা, তারা তা দেখতে পেতেন না। ভ্রুণের আকৃতি-প্রকৃতি সম্পর্কে কুরআনে যেসব বর্ণনা এসেছে সেগুলো খালি চোখে দেখার মতো বিষয় নয়; এগুলোর জন্য মাইক্রোসকোপের প্রয়োজন। অথচ এ ধরনের যন্ত্র মাত্র দু’শ’ বছরের কিছু পুবে আবিষ্কৃত হয়েছে।’

ড. মুর ব্যঙ্গ করে আরও বললেন: ‘হয়তো চৌদ্দশ বছর পূর্র্বে কারও কাছে গোপন মাইক্রোসকোপ ছিল; সে এই গবেষণা করেছে এবং কোন স্থানেই ভুল করেনি। তারপর সে তা যে কোনভাবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শিক্ষা দিয়েছে এবং তাঁকে এ তথ্যটি তাঁর বইয়ে সন্নিবেশিত করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে। তারপর সে তার সকল উপকরণ ধ্বংস করে ফেলেছে এবং বিষয়টিকে চিরদিনের জন্য গোপন করেছে। আপনি কি তা বিশ্বাস করেন? আপনার অবশ্যই তা করা উচিত নয় যতক্ষণ না আপনি এর সপক্ষে কোন প্রমাণ উপস্থাপন করছেন। কারণ, এটি একটি হাস্যকর তত্ত্ব।’
 
ড. মুরকে যখন জিজ্ঞাসা করা হল: ‘কুরআনে বর্ণিত এসব তথ্যকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?’
ড. মুরের উত্তর ছিল: ‘এটি কেবলমাত্র প্রত্যাদেশ তথা অহীর মাধ্যমেই হতে পারে।’
 
মুল: ড. গ্যারী মিলার।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None