ভাল বন্ধু হয়ে!! ( ধারাবাহিক গল্প ৮)

রোকেয়ার স্বামী বলে পরশ বোইন তুই আমাদের ঘরে না আসলে শয়তান আবারো আমাদেরকে গ্রাস করবে। তুই আমাদের ঘরে আসার পর থেকে আমার শালিকারা পর্যন্ত নিয়মিত নামাজ পড়ে, পর্দা কি তা তারা জানতোই না তুই তাদেরকে পর্দা করা শিখিয়েছিস এখন তুমি যদি না আসিস তো সবকিছুই আবারো ভেসে যাবে অলসতার বন্যায়। তুই সবাইকে সুন্দর কি তা চিনিয়েছিস, সরল সঠিক পথ দেখিয়েছিস এখন তুই আসা বন্ধ করে দিলে সব তো আগের মতই হয়ে যাবে পরশ বোইন আমার তুই বললে আমি তোর পায়ে ধরবো তবুও তুই নিয়মিত আসবি আমাদের ঘরে। পরশ কি করবে কি বলবে ভেবে পায়না। কোন ভাষা খুজে না পেয়ে পরশ বলে ভাইয়া আপনারা এমন করে বলবেন না। আপনারা আমার আপন ভাইয়া ভাবি না হলেও আমি আপনাদেরকে আপন ভাইয়া ভাবির মতই সম্মান করি শ্রদ্ধা করি আপনারা এভাবে বললে যে আমি গুনাহগার হয়ে যাবো আমি তো কিছুই করিনি সব আল্লাহই করিয়েছেন! আমাকে একটু সময় দেন আমি নিয়মিত না গেলেও ভাবিকে কোরআন পড়া শিখিয়ে দেব ইনশা-আল্লাহ। 

পরশের কথা শুনে ভাইয়া তবুও পাগলের মত বলছে তুই আমার ঘরে যাবি না আমি তা মানতেই পারবোনা। তুই যাবি এটাই আমার শেষ কথা। চাচী পরশ আমাদের ঘরে যাবে, খাবে, থাকবে আপনার কাছে কেউ কিছু বললে আপনি সরাসরি আমাকে জানাবেন আমি তাকে দেখে নেবো বলেই রোকেয়া ও তার স্বামী বাসার দিকে রওয়ানা দেয়। পরশ সারা রাত ভাবে সে কি করবে? মাকে সে কথা দিয়েছিলো কিন্তু সে কি করে মায়ের কথা রাখবে? আর কি করেই বা ভাইয়া ভাবির কথাকে অবমূল্যায়ন করবে? একদিকে ভাইয়া ভাবির আদর ও তাদেরকে সঠিক পথ দেখানো আরেক দিকে মাকে দেয়া কথা রাখা, এসব ভাবতে ভাবতে সে রাতে আর পরশ আর দুটি চোখের পাতা এক করতে পারেনি। সকালে উঠেই নিয়মানুযায়ী মাদ্রাসাতে চলে যায়। 

পরশ রোকেয়া ভাবির ঘরে আগের থেকে যাওয়া কমিয়ে দিলেও সপ্তাহে দুইদিন কোরআন শিখায় ভাবিকে! পরশ কোন বিনিময় না চাইলেও ভাবি আরো কয়েকজন যোগাড় করে নেন যাতে করে পরশের হাত খরচ যোগাড় হয় এখান থেকে! পরশ সেটা নিতে নারাজ! ভাবিকে বলে আমি তো কোরআন শিক্ষার জন্য টাকা নিতে পারবোনা কারন কোরআন আল্লাহর কিতাব তিনি যাকে ইচ্ছা এই নেয়ামত দেন আর আমি পড়তে জানি বলেই আপনাদেরকে শেখাতে পারছি এতে আমার কোরআন পড়ার চর্চা হচ্ছে তাতেই আমার লাভ! কিন্তু ভাবি কোন ভাবেই শুনে না সামান্য কিছু টাকা প্রতিমাসেই পরশের জন্য জমা করে রাখে। পরশ কখনো সে টাকা নেয়নি টাকাটা ভাবির কাছেই জমা থাকে। পরশ রোকেয়া ভাবিকে আল-কোরআন শেখানোর পাশাপাশি কিছু হাদীস ও শিখিয়ে দেন এবং সেই হাদীস পড়ে পড়ে ভাবি অনেক অনেক নেক আমল করতে আগ্রহী হয় আর নিয়মিত আমল করতে থাকে। ভাবি তাতে অনেক খুশী হয় আর মন থেকে পরশের জন্য দোয়া করতে থাকে।

হযরত আবু হোরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্নিত আছে, রাসূল (সাঃ) বলেন, দুটি বাক্য এমন রয়েছে যা আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়, জিহবায় উচ্চারন অতি সহজ এবং মিজানের পাল্লায় খুবই ভারী। (বাক্য দুটি হচ্ছে) সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজীম।

(বুখারী)

আয়েশা (রাযিঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ‘আত্মীয়তা হল, আল্লাহর পক্ষ হতে একটি বন্ধন, যে ব্যক্তি তার সম্পর্ককে অটুট রাখে আল্লাহ তা‘আলা তার সাথে সম্পর্ক অটুট রাখবেন আর যে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহ তা‘আলা তার সাথে সম্পর্ককে নিশ্চিহ্ন করেন।’

(বুখারী) ৫৯৮৯, মুসলিম;২৫৫৫]

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ “তোমাদের কারো দোয়া কবুল করা হয় না, যদি সে দোয়ায়তাড়াহুড়া করে। অথচ, বান্দা বলতে থাকেঃ আমি আমার রবের কাছে দোয়া করেছিলাম কিন্তু তিনি আমার দোয়া কবুল করেননি। (তাই, ধীরে দোয়া করো)।”

(বুখারী ও মুসলিম)

দরূদ পড়াঃ-

قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّى أُكْثِرُ الصَّلاَةَ عَلَيْكَ فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلاَتِى فَقَالَ « مَا شِئْتَ ». قَالَ قُلْتُ الرُّبُعَ. قَالَ « مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ». قُلْتُ النِّصْفَ. قَالَ « مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ». قَالَ قُلْتُ فَالثُّلُثَيْنِ. قَالَ « مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ». قُلْتُ أَجْعَلُ لَكَ صَلاَتِى كُلَّهَا. قَالَ « إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ ». قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ.

আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) আমি আপনার প্রতি অধিকহারে দরূদ পড়তে চাই, অতএব আমার দু‘আর মধ্যে আপনার দরূদের জন্য কতটুকু অংশ রাখব? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। কা‘ব বলেন, আমি বললাম, এক চতুর্থাংশ। তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে যদি তুমি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, অর্ধেক? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। কা‘ব বলেন, আমি বললাম, তাহলে দুই তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, আমার দু‘আর পুরোটা জুড়েই শুধু আপনার দরূদ রাখব। তিনি বললেন, তাহলে তা তোমার ঝামেলা ও প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে। 

(তিরমিযী: ২৬৪৫; হাকেম, মুস্তাদরাক: ৭৬৭৭ )(আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি ‘হাসান’ সহীহ।)]

যে সকল পুরুষদের সাথে মহিলাদের দেখা দেয়া জায়েয আছে।

১. জন্মদাতা পিতা

২. আপন চাচা

৩. আপন মামা

৪. নিজ ছেলে

৫. আপন শশুর

৬. নিজ ভাই

৭. নিজ ভাতিজা

৮. নিজ বোনের ছেলে

৯. আপন দাদা

১০. আপন ছেলের দিকের নাতি

১১. আপন মেয়ের দিকের নাতি 

১২. আপন নানা

১৩. দুধ মাতার ছেলে

১৪. দুধ মাতার স্বামী। 

পরশ রোকেয়া ভাবিকে অনেক গুলো হাদীস শেখায় সে নিজে ও আমল করে আর ভাবিকে ও আমল করতে উৎসাহিত করে। আল্লাহর ইচ্ছায় আল্লাহর জন্য তাদের উভয়ের সম্পর্ক খুবই ভালো হয়। আর রোকেয়া ও তার স্বামীর সম্পর্ক হয় জান্নাতী সম্পর্ক পরশের স্পর্সে। রোকেয়া ও তার স্বামী পরশের জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করে, দোয়ায় আরো বলে পৃথিবীর প্রত্যেক ঘরে একটি করে পরশ জন্ম হোক আর সেই পরশের স্পর্সে পৃথিবীর সকল ভাবি ও বোনেরা নিজেদেরকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাক। রোকেয়া দোয়া করে আর তার স্বামী আমিন বলে ইনশা-আল্লাহ আল্লাহ কবুল করবেন এই দোয়া সকল। 

চলছে............চলবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)