‘’কলিজার টুকরাকে ছাড়া একটি রাত’’

আজ মে মাসের সতের তারিখ গিয়ে এখন চলছে আঠার তারিখ। রাতটাকে এত দীর্ঘ মনে হচ্ছে কেন? জানেন কেন? আমার কলিজার টুকরাকে ছাড়া রাত কাটাচ্ছি তাই।  এখন রাত প্রায় একটা বিশ মিনিট। পৃথিবীর সবাই না হলেও এদেশের সবাই এখন গভীর ঘুমে মগ্ন। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে নিজেকে সপে দিয়েছে রাতের কোলে। সব মানুষই পরিশ্রমের ক্লান্তির কাছে হেরে গিয়ে নিজেকে সপে দেয় আরামের নিদ্রার কাছে। যথারীতি আমারও তাই করার কথা কিন্তু আজ আমি ব্যতিক্রম কারন আমার নুসাইবা আজকে ওর দাদা বাসায় গেছে। আর গেছে তো সেই সকালে এখন রাতের দেড়টার মত বাজছে। এই প্রথম আমাকে ছাড়া নুসাইবা একা একা রাত কাটাচ্ছে আর আমিও তাই। ওকে বুকে নিয়ে ঘুমাই ও আমার কোল জুড়ে আসার পর থেকে, আর নুসাইবা ও আমার নাক ধরে ঘুমানোর অভ্যাস আজকে কি করছে আমার পাখিটি আমি জানিনা। খোজ নিয়েছি অনেকবার কিন্তু কাউকে দিয়ে আনাতে পারিনি কারন সবাই ব্যস্ত কে নিয়ে আসবে আমার পাখিকে? আর ও কাছে নেই বলে আজকে তাই ঘুম আসছে না শুধুই কান্না পাচ্ছে। সেই সন্ধ্যা থেকেই কাঁদছি আমি। কল করে কথাও বলেছি বারংবার। সন্ধ্যাতে তো নুসাইবা কেঁদেই অস্থীর। বলে যে, আম্মু আমি তোমার জন্য কাঁদছি কিন্তু কেউ আমাকে নিয়ে যাচ্ছে না। আমার আন্টি কোথায়? আমি তোমার কাছে আসবো আম্মু এটা বলেই কেঁদে ফেলেছে তখন আমিও আর কান্নাকে রুখতে পারিনি। সেই যে মনটা খারাপ হলো আর ভাল লাগছেনা। আজ ওর নানার বাসায় ছিল মোটামুটি বিশাল আয়োজন কিন্তু সারাদিন সবাই ওকে খুবই মিস করেছে আর ভেবেছে বিকেলে বাসায় আসবে। কিন্তু না নুসাইবা আসলো না। নুসাইবাকে ছাড়া কাজে কর্মে ব্যস্ততার মাঝে কেটেছে দিনের সময়গুলো। কিন্তু এখন তো রাত, আর রাত বলেই সে তো কিছুতেই কাটছেনা। প্রতিটা মিনিটকে যেন ঘন্টার মত মনে হচ্ছে আমার কাছে। কিভাবে যে, বাকি রাত পাড় হবে? আর বাজবে সকাল সাড়ে দশটা থেকে এগারটা। অনেকবার কল করে জেনে নিয়েছি কখন কি করছে? কি খেয়েছে? আরো পৌনে একঘন্টা বা একঘন্টা আগে খবর নিলাম নুসাইবা কি করছে ওর দাদা জানালো এই তো আধা ঘন্টা আগে ঘুমালো। আমি বললাম যদি রাতে কাঁদে তবে আমাকে কল দিয়ে কথা বলিয়ে দিতে। জবাবে বলল ও তো সারাদিনই খেলায় খেলায় মত্ত ছিল একটুও কাঁদেনি। আর আসা করি রাতেও কাঁদবেনা, আর তোমার ওকে নিয়ে টেনশন করা লাগবেনা। শুনে মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল। নুসাইবা তো আমাকে ছাড়া একটি রাত থাকছে কিন্তু আমি তো ওকে ছাড়া রাত পাড় করতে পারছিনা। কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। মাত্র তিন বছর চারমাস চলছে ওর, এর মাঝে আমি সাত রাত ওকে ছাড়া ছিলাম কিন্তু তখন ওর সাথে ছিল ওর খালা আমার ছোট বোন। যে ওকে সেই জম্মের প্রথম দিন থেকেই লালন পালন করে আসছে। ওর কাছে থাকাতে আমি এতটা কষ্টে ছিলাম না। বা এত পেরেশানেও ছিলামনা। কিন্তু আজকে খুবই খুবই খারাপ লাগছে ওর জন্য। আজ কেবলই মনে পড়ছে নুসাইবার দুষ্টোমি গুলো, ওর মিষ্টি মিষ্টি কথা গুলো, ওর আদর গুলো খুবই মিস করছি এই কষ্টের রাতে। আমার মামনি অবুঝ বলে আমাকে ছাড়া থাকতে পারছে। কিন্তু আমার খুবই কষ্ট হচ্ছে এটা হয়তো ও এখন বুঝবেনা কোন একদিন ওযখন বড় হবে তখন হয়তো বুঝবে। আসলেই লোকে কথায় বলে শরীরে ব্যথা হলে এক বুঝে মায়’’ এক বুঝে গায়’’ আর এক বুঝে আল্লায়’’ আমার কষ্টটাও এখন বুঝবে শুধুই আল্লায় আর কেউ নয়। এতরাতে এখন আর কল করা যাবেনা। কিন্তু আমি যে থাকতেও পারছিনা আমার কলিজার টুকরাকে ছাড়া। যারাই মা হয়েছেন তারা হয়তো আমার ব্যথাটা কিছুটা অনুভব করবেন আর অন্যরা আমার কষ্টের মানে বুঝবেন না। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন আর নুসাইবার জন্যও। কঠিন রাত কাটাচ্ছি এত কষ্ট আর কোন রাতে হয়নি। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কোন মাকেই যেন এভাবে কষ্ট না দেন। নুসাইবার আগামি দিনগুলো সুন্দর হোক এই দোয়ার দরখাস্ত আপনাদের সবার কাছে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

আমি তো আড়াই বছরেই নানীর সাথে ঢাকায় চলে গিয়েছিলাম। Cool

যাইহোক, ব্যাপারটা আসলেই কষ্টের। নুসাইবা এলে সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

নুসাইবা আসছে আর আল...................লাহ এখন ভালো লাগছে আমার।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

"নুসাইবার আগামি দিনগুলো সুন্দর হোক "

সাথে নুসাইবার বাবা মা'র ও :)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)