আসুন ভাল কাজ করি (পর্ব ৫ম)

হযরত আবু যার (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এরশাদ করেছেন, আমি ঐসমস্ত বস্তু দেখি যা তোমরা দেখনা, এবং ঐসমস্ত কথা শুনি যা তোমরা শুন না। আসমান (আল্লাহর আজমত ও বড়ত্বের ভারে) মড় মড় করে আওয়াজ করে, (যেমন খাট পালং ইত্যাদি ভারি জিনিসের কারনে আওয়াজ করে। আর আসমানের জন্য মড় মড় করাই উচিৎ। উহাতে চার আঙ্গুল পরিমানও জায়গা খালি নাই যেখানে কোন না কোন ফেরেশতা আপন কপাল আল্লাহ তা’য়ালার সামনে সিজদায় ফেলে রাখে নাই।
আল্লাহর কসম! যদি তোমরা জানতে যা আমি জানি, তবে কম হাসতে ও বেশী কাঁদতে এবং বিছানায় স্ত্রীদের সহিত আনন্দ উপভোগ করতে না। আর আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করতে করতে (জঙ্গলের) পথে বের হয়ে যেতে। হায়! আমি যদি একটি গাছ হতাম যা (মূলহতে) কেটে ফেলা হতো।

(তিরমিযী)

হযরত সালামা ইবনে আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী করিম (সঃ) এর নিকট একটি জানাযা আনা হল। যাতে তিনি জানাযার নামাজ পড়ে দেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এই মৃত ব্যক্তির উপর কোন করজ আছে কি? লোকেরা আরজ করল, নাই। তিনি তার জানাযার নামাজ পড়ে দিলেন। অতঃপর দ্বিতীয় জানাযা আনা হল। নবী করিম (সঃ) জিজ্ঞাসা করল, এই মৃত ব্যক্তির উপর কারো করজ আছে কি? লোকেরা আরজ করল, জ্বি হাঁ আছে। নবীজি (সঃ) সাহাবীগণকে এরশাদ করল, তোমরা আপন সাথীর জানাযা পড়ে লও। হযরত আবু কাতাদা (রাযিঃ) আরজ করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সঃ)! তার করজ আমি আমার জিম্মায় নিয়ে নিলাম। তখন নবীজি (সঃ) দ্বিতীয় জানাযার নামাজও পড়ে দিলেন।

(বোখারী)

হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী করিম (সঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি লোকদের নিকট হতে সম্পদ (করজ) গ্রহন করে এবং সে এই করজ আদায় করার নিয়্যত করে থাকে, আল্লাহ তা’য়ালা তার পক্ষ থেকে আদায় করে দেবেন।
(সুবহানাল্লাহ)
আর যে ব্যক্তি কারো নিকট হতে করজ গ্রহন করে এবং উহা আদায় করার ইচ্ছাই তার মনে না থাকে, তখন আল্লাহ তা’য়ালা আর সম্পদ ধবংস করে দেবেন।
(নাউযুবিল্লাহ)

উপকারীতাঃ- আল্লাহ তা’য়ালা তার পক্ষ হতে আদায় করে দিবেন’ একথাটির অর্থ এই যে, আল্লাহ তা’য়ালা করজ আদায়ে তাকে সাহায্য করবেন। যদি জিন্দগীতে আদায় করতে না পারে তবে আল্লাহ তা’য়ালা আখেরাতে তার পক্ষ থেকে আদায় করে দিবেন। ‘আল্লাহ তা’য়ালা তার সম্পদ ধবংস করে দিবেন’ একথাটির অর্থ এই যে, এই খারাপ নিয়্যতের কারনে ঐব্যক্তিকে জানের অথবা মালের লোকসান উঠাতে হবে।

(ফতহুল বারী)

পরিশেষেঃ- আমাদের ভাবনার বিষয়, নবীজি (সঃ) এর সাহাবী হয়েও করজ জিম্মায় আছে বলে, নবী করিম (সঃ) তার জানাযার নামাজ পড়তে অস্বীকার করল। তখন আমাদের করজ নিয়ে আমাদের কেমন ভয়ে থাকা উচিৎ। মহান আল্লাহ তা’য়ালার কাছে দোয়া! আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলের নিয়্যতকে ঠিক করে দিন। এবং আমাদের মধ্যে যাদের করজ আছে তা আদায় করার মত মন-মানষিকতা তৈরি করে দিন। এবং করজ আদায়ের সুযোগ করে দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর কবুল করে নিন।

আমিন!

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

জাযাকিল্লাহ্ খায়ের। অত্যন্ত চমৎকার শিক্ষামূলক পোষ্ট। আল্লাহ্ আমাদের তৌফিক দিন।

-

আমার প্রিয় একটি ওয়েবসাইট: www.islam.net.bd

সালাম

আপনাকেও অনেক অনেক যাযায়ে খায়ের।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)