খোশ আমদেদ মাহে রমজান : ব্যবসায় সততা এ মাসের শিক্ষা

সালাম

খোশ আমদেদ মাহে রমজান : ব্যবসায় সততা এ মাসের শিক্ষা

মুহাম্মদ তৈয়্যেব হোসাইন

 

নেকি লাভের মাস রমজান। নিজেকে বাঁচানো ও রক্ষার মাসও রমজান। এ রক্ষা ও সংযমের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র উপার্জন। সাধারণত মানুষ উপার্জনের ক্ষেত্রটাতে নগদ লাভালাভের দিকে নজর বেশি দেয়। এতে অসদুপায় অবলম্বনের পেছনে ছুটে তারা। কিন্তু রমজানের সংযমের দীক্ষা নেয়ার মানে হলো উপার্জনে ও ব্যবসায় সততা অবলম্বন করা।

এটা রমজানের অন্যতম শিক্ষা।

হাকিমুল উম্মত হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেছেন—‘নিজের জীবনকে এমনভাবে গড়ে তোল এবং এই অঙ্গীকার কর যে, একটি মাস গোনাহ ছাড়া কাটিয়ে দেব। এক মাস পর তোমার অন্তর যেভাবে পরিচালিত হতে চায় সেভাবেই পরিচালিত কর।’ এরপর তিনি বলেন : ‘এক মাস পাপমুক্ত কেটে গেলে এরপর আল্লাহ তায়ালার কাছে আশা করা যায় যে, পরবর্তী সময়ে তার অন্তরে গোনাহ ছেড়ে দেয়ার আকাঙ্ক্ষা এমনিতেই পয়দা হয়ে যাবে।’ কিন্তু প্রথমে অন্তরে দৃঢ়ভাবে এই অঙ্গীকার করে নিতে হবে যে, ‘আল্লাহর মাস এসেছে, ইবাদতের মাস এসেছে, তাকওয়া পয়দা করার মাস এসেছে। আমি এই মাসে গোনাহ করব না।’ এভাবে অঙ্গীকার করবে যে, আমার দৃষ্টিশক্তি ভুল স্থানে নিপতিত করব না, শ্রবণশক্তির অযথা ব্যবহার করব না, মিথ্যার আশ্রয় নেব না, কারবারে মানুষকে ঠকাব না, সুদ খাব না, ঘুষের লেনদেন করব না। যারা দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে এভাবে এই মাসটি কাটিয়ে দেবে, তাদের জন্যই রয়েছে রমজানের সুসংবাদ।

রমজানের এই পুণ্যপ্রাপ্তির মাসটিতে পুণ্য অর্জনে যেখানে মুসলমানদের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়া দরকার ছিল, আমাদের সমাজে পরিলক্ষিত হয় তার বিপরীত কিছু অবস্থা। ব্যবসা-বাণিজ্যে পরিলক্ষিত হয় অসততা। মুনাফাবাজি চলে এ মাসে অন্য সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি। রমজান একটি পবিত্র মাস। এ মাসে নফল ইবাদত করলে অন্য মাসের ফরজের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। এ মাসে একটি ফরজ ইবাদতে মিলে ৭০টি ফরজের সওয়াব। কোনো কোনো হাদিসে আরও বেশি সওয়াবের উল্লেখ পাওয়া যায়। এ মাসে ইবাদতে যেমন অধিক সওয়াব পাওয়া যায়, পাপ কাজে তেমন গোনাহর পরিমাণটাও বেশি হবে তা বলাই বাহুল্য।

কিন্তু আমাদের সমাজের চিত্রটা সম্পূর্ণ এর বিপরীত। এ মাসটি এলেই কিছু কিছু মানুষের ভেতর পুণ্য অর্জনের চেয়ে ভুল উপায়ে মুনাফা অর্জনের প্রতিযোগিতা পরিলক্ষিত হয়। বিশেষত ব্যবসার সততা শঠতায় পরিণত হয়। এক ধরনের ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় ভেজাল মেশানোর প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। অধিক মুনাফা অর্জন তাদের নেশায় পরিণত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে মুনাফা অর্জনের অপচেষ্টা চলে। অথচ আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন : ‘কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির লক্ষ্যে যে ব্যক্তি পণ্যসামগ্রী গুদামজাত করে, বাজারমূল্য হ্রাস হলে মনোক্ষুণ্ন হয় আর বাজারদর চড়া হলে আনন্দে উত্ফুল্ল হয়, সে হলো সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি।’

কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি আর গুদামজাতকরণ একটি মহা অন্যায়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্যায় হলো—খাদ্যসামগ্রীর কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করা আর এভাবে মূল্যবৃদ্ধি ঘটানো। এতে মানুষকে যেভাবে ঠকানো হয় ও উত্পীড়ন করা হয়, তার সঙ্গে সিয়ামের মাহাত্ম্যের কোনো মিল নেই। এজন্য যারা রমজান ও সিয়ামের বরকত নিতে চাই, তাদের উচিত পুণ্য অর্জনের পথে বেশি মনোযোগ দেয়া। কোনোভাবেই অসদুপায়ে বেশি উপার্জনের পেছনে না ছোটা।

ইসলাম ব্যবসায় সত্ ও সততাকে উত্সাহিত করেছে। এক হাদিসে বলা হয়েছে : ‘সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক এবং শহীদদের কাতারে থাকবে।’

সুতরাং আমাদের সত্ ব্যবসা করে এই মর্যাদা অর্জন করতে হবে। রমজানের মতো এমন একটি পুণ্যময় মাসে অসত্ ব্যবসায় জড়িয়ে নিজের সবকিছু বরবাদ করা কোনোক্রমেই ঠিক হবে না।

* আরও জানতে দেখুন বিশেষ আয়োজন ‘রমজান প্রতিদিন’
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

ব্যবসায়ীদের (অপ)তৎপরতা দেখলে মনে হয়, তারা যেন মুমিনদের মত "নেকী" নয়; বরং অধিক পরিমাণ "আর্থিক মুনাফা"র জন্যই রমাদ্বানের অপেক্ষা করে।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

ঠিক বলেছেন। এসব ব্যবসায়ীদের রুখে দিতে হবে।

-

minar

রমাদ্বান আসলেই ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় মুনাফার প্রতিযোগীতায় নামে, কে কত ব্যবসা করবে এই রমাদ্বানে, আপনারা ঠিকই বলেছেন।

আপনাকে ধন্যবাদ

''সাদামেঘ''

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)