গাধারাই চালায়...

বহু বছর আগে এক রাজ্যের এক বুদ্ধিমান(!) রাজা ছিল। তাঁর রাজ্যে জ্যোতিষীরা
বেশ সমাদর পেত। সত্যি বলতে রাজ্যের সব সিদ্ধান্তই নেয়া হত জ্যোতিষীদের
সমর্থন পেলে তবেই। কিন্তু জ্যোতিষীরাও কিন্তু সেই সমর্থন নিজ থেকে দিত না।
তারা এ সিদ্ধান্তকে যাচাই করে নিত একটা বিশেষ প্রানীর মাধ্যমে। অবিশ্বাস্য
হলেও সত্য (!!) এই যে, সেই প্রানীটাকে আমরা একনামে গাধা বলে চিনি। রাজ্যের
যে কোন নতুন সমস্যার সমাধান নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবার আগে জ্যোতিষীরা তা গাধা
দিয়ে যাচাই করে নিত। একটা প্রাঙ্গনে চার দিকে চারটা পাত্রকে চারটে
সিদ্ধান্ত হিসেবে চিহ্নিত করে মাঝ খান বরাবর ছেড়ে দেয়া হত একটা গাধাকে।
সেই গাধা যে পাত্র থেকে খাবার খেত তার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত বাছাই করা
হত। ভাগ্যিস সে রাজ্যে সংবাদপত্র ছিলনা, যার ফলে এসব সিদ্ধান্তের
বাস্তবায়নের ফলাফলের সমালোচনা শুনতে কিংবা পড়তে পাওয়া যেত না।

সেই
দেশের এক বড় ব্যবসায়ী ছিল। সেই ব্যবসায়ী তার মালপত্র গাধার ঘাড়ে চাপিয়ে
নিজেও একটা গাধার ঘাড়ে চেপে ঘুমিয়ে পড়ত। আর গাধা তাকে যেদিকে চালিয়ে নিয়ে
যেত সেখানেই সে তার বানিজ্যকর্ম সম্পাদন করে নিত। লাভ কম হত কি বেশি হত তা
নিয়ে ঐ ব্যাটা একটুও ভাবত না বরং রাজ্যের গুরুত্বপূর্ন প্রানীকে গুরুত্ব
দিতে পেরে সে আনন্দিত হত।

উপরোক্ত কাল্পনিক রাজ্যের গাধার নিয়ম
আমাদের দেশেও প্রচলিত আছে। সেদিন কে যেন বলছিল, "যারা দেশ চালায় তাদের
মধ্যে কয়েকটা গাধা আছে, তাই দেশের এই দুরবস্থা।" তার উত্তরে আরেকজন
বলেছিল, "কয়েকটা মানে, সবগুলোইতো গাধা।" আজ আমার দ্বিতীয় জনের কথাটা
সমর্থন করতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রনের জন্য যে
জরিমানা অভিযান চলছে তার পদ্ধতি দেখে বোঝাই যায়, গাধাদের দিয়েই অভিযান
চালানো হচ্ছে, কিংবা এদেরকে কোন গাধারাই চালায়।

নিত্যপ্রয়োজনীয়
দ্রব্যের খুচরা বিক্রেতাদেরকে জরিমানা করলে কেমন করে দ্রব্যমূল্য
নিয়ন্ত্রিত হবে তা কারো বোধগম্য হবার কথা নয়। একজন খুচরা বিক্রেতা বিশেষ
করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের খুচরা বিক্রেতা তাঁর জিনিসপত্র পাইকারী
মূল্য থেকে মাত্র দুয়েক টাকা লাভ রেখে বিক্রয় করে থাকে। আজ ম্যাজিস্ট্রেট
সাহেব যখন এক দোকানীকে চিনির দাম জিজ্ঞেস করলেন তখন দোকানী ভয়ে পড়ে
পাইকারী মূল্যটাই খুচরা মূল্য বলে জানিয়ে দিলেন। আর এই মূল্য শুনেও
ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব সন্তুষ্ট হতে পারলেননা, দিলেন পাঁচ হাজার টাকা
জরিমানা করে। এই দোকানী কি তবে পাইকারী মূল্যের চেয়েও দাম কমিয়ে চিনি
বিক্রি করবে? জরিমানার ভয়ে এই দোকানীরা কি দাম কমিয়ে চিনি বেচতে পারবে?
যদি না পারে, তবে একে কেন জরিমানা করা হল?

এ প্রশ্নের একটা উত্তর
আছে। ক্ষুধার্ত গাধাকে যদি কোন ফাঁকা মাঠে ছেড়ে দেয়া হয়, তবে সে ঘাসের
দিকেই ছুটবে। যেহেতু খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারী ব্যবসায়ীদের মত চেক দিয়ে
টাকা আদান প্রদান না করে নগদে আদান প্রদান করে বলে তাদের কাছ থেকে সহজেই
জরিমানা আদায় করা যায়। আর সেই কারনেই ম্যাজিস্ট্রেটরাও হয়ত গাধার ভূমিকায়
অবতীর্ন হয়। যাই হোক না কেন, এদের ক্যাশ থেকে নগদ টাকা পেতে কোন সমস্যা
হবে না, খালি হাতে ফেরার সম্ভাবনা নেই। আর যে যত বড় ব্যবসায়ী তার হাতও তত
বড়, খুচরা ব্যবসায়ীরা ছোট ব্যবসায়ী বলে এদের হাতও কম চওড়া, এদের কষে
কয়েকটা দিলেও কারো এদের পক্ষে কিছু বলার সম্ভাবনা নেই।

গাধারা
জুলুম করছে, গাধাগিরির মাধ্যমে জুলুম করছে। জুলুমে জুলুমে ভরে গেছে সারা
দেশ। সুবিচার এদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে কিংবা হয়ে্ই গেছে। আর যে দেশে
জুলুমে ভরে যায়, সেই দেশ আল্লাহর কোপে পড়ে থাকে। এ এমন দেশ, এখানে সন্ত্রাস করে পুলিশের পাহারায় সুখে থাকে একদল, আর নিরীহ ছাত্ররা জেলে পড়ে থাকে দিনের পর দিন। দাড়ি-টুপিওলা ধার্মিক লোকেরা এদেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় ঝুলে, আর বিধর্মীরা সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মকে চ্যালেন্জ করেও সম্মানের সাথে চলাফেরা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কেউই
আমাদের উপর নির্ধারিত গযব থেকে রক্ষা করতে পারবেনা। সবাই আল্লাহর কাছে
দোয়া করুন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

"গাধারাই দেশ চালায়..." শিরোনাম থেকে কি শিখলাম আমরা?

-

আড্ডার দাওয়াত রইল।

> > > প্রতি শুক্রবার আড্ডা নতুন বিষয়ে আড্ডা শুরু হবে।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)