বাংলাদেশে ভিন্নমত দমনে পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে: অ্যামনেস্টি

বাংলাদেশে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনে বল প্রয়োগ এবং পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনার সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনে অপ্রয়োজনীয় এবং মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা ব্যবহার করছে পুলিশ। বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নারী নির্যাতনও অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মানবাধিকার প্রতিবেদন-২০১০ এ সংগঠনটি এই তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে ২০০৯ সালের ১৫৯ দেশের মানবাধিকারের চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, পুলিশি হেফাজতে বিডিআর সদস্যদের মৃত্যু এবং নারী নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ রাইফেল্‌স (বিডিআর) সদরদপ্তরে জওয়ানদের বিদ্রোহের ঘটনায় সেনা কর্মকর্তা ও বেসামরিক লোকসহ কমপক্ষে ৭৪ জন নিহত হয়। ওই ঘটনায় আটক ৩ হাজার জওয়ানের ৪৮ জন পুলিশ হেফাজতে মারা যায়।

ক্রসফায়ার বন্ধে ক্ষমতাসীন দলের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচার বহির্ভূতভাবে ৭৪ জন নিহত হয়। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৬৪ জনের ৩ জনের দণ্ড কার্যকর করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীরা অব্যাহতভাবে হামলা, ধর্ষণ, মারধর এবং অন্যান্য নির্যাতনের শিকার হলেও এক্ষেত্রে সামন্যই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।

প্রতিবেদনে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয় এবং বিচারের সচ্ছতার ওপর জোর দেয়া হয়।

রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমনপীড়নে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বরে তেলগ্যাস রক্ষা কমিটির শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের হামলায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। ওই হামলার কোনো স্বাধীন তদন্ত হয়নি।

বিডিআর জওয়ানদের ওপর নির্যাতন এবং অস্বচ্ছ বিচারে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিডিআর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, এক সেনা সদস্য ও নয় বিডিআর জওয়ানসহ ৭৪ জন নিহত হয়।

ওই ঘটনায় কয়েক হাজার জওয়ানকে ব্যারাকের মধ্যে আটক রাখা হয়েছে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। আটক জওয়ানদের ৪৮ জন নিহত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্যাতনের কারণেই তারা মারা গেছে।

এদিকে আরেকটি তদন্ত প্রতিবেদনে সিআইডি হত্যা, জিম্মি এবং লুটপাটের ঘটনায় আরো ৩ হাজার বিডিআর জওয়ানের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযোগ দাখিল করতে যাচ্ছে। জওয়ানদেন বিচারে দায়িত্বপ্রাপ্ত আদালতের এ ধরনের বিচারের অভিজ্ঞতা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ক্রসফায়ারের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু, ২০০৯ সালের প্রথম নয় মাসে কমপক্ষে ৭০ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।

নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, স্বামী কর্তৃক প্রহৃত হয়ে কমপক্ষে ২১ জন নারী নিহত হওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া ওই সময় পুলিশ নির্যাতন ও মারধরের কমপক্ষে ৩ হাজার ৪১৩ টি অভিযোগ গ্রহণ করে। এ পরিস্থিতি উন্নয়নে খুব সামান্যই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.3 (3টি রেটিং)

এমনেস্টির উদ্বেগ দিয়ে এ সরকারের কিছু আসে যায় না।

সেটাই, তার এখন এমনেষ্টির বাবাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ।

 

যারা অরিজিনাল রিপোর্টটি দেখতে চান তাদের জন্য ডাউনলোড লিংক

আমি মনে করি অ্যামনেস্টি ইন্টারনেশনালের মত আন্তর্জাতিক সংগঠনের গুরুত্ব অনেক। বিশ্বের অনেক সরকার তো বটেই, অনেক মানুষও ওদের রিপোর্টকে খুবই গুরুত্ব দেয়। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক যে বামপন্থী এক নেতার ওপর ছোট এটা আঘাতের কথা ফলাও করে এসেছে এই রিপোর্টে, অথচ ইসলামপন্থীদের ওপর যে দমন-নিপীড়ন চলছে তার কোন উল্লেখ নেই।

এ ধরনের সংগঠনের সাথে আমাদের সম্পর্ক আরও বাড়ানো উচিৎ এবং দেশের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে ওদেরকে সহায়তা করা উচিৎ।

 

বাংলাদেশে ভিন্নমত দমনে
পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে: অ্যামনেস্টি

অ্যামনেষ্টির বুঝা উচিত যে, পুশিল বাহিনীর সঠিক(?) ব্যবহার ছাড়া 'ডিজিটাল বাকশাল' প্রতিষ্টা সম্ভব নয়।

-

আড্ডার দাওয়াত রইল।

> > > প্রতি শুক্রবার আড্ডা নতুন বিষয়ে আড্ডা শুরু হবে।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.3 (3টি রেটিং)