ইমাম মাহদীর (আ.) বিশ্বজনীন হুকুমতের বৈশিষ্ট্য!

সমগ্র
সৃষ্টির উদ্দেশ্য যেহেতু পূর্ণতায় পৌঁছানো এবং আল্লাহর নৈকট্যলাভ আর এ
মহান উদ্দেশ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন তার সরঞ্জাম প্রস্তুত করা৷ মাহদী
(আ.)-এর বিশ্বজনীন হুকুমতের উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং তাতে
উপনীত হতে সকল প্রতিকূলতাকে অপসারণ করা৷

বার্তা সংস্থা ইকনা: মানুষ যেহেতু শরীর ও আত্মা
দিয়ে তৈরি কাজেই তার প্রয়োজনও, পার্থিব ও আধ্যাত্মিক দুই ভাগে বিভক্ত৷
সুতরাং পূর্ণতায় পৌঁছানোর জন্য দুদিকেই সমানভাবে অগ্রসর হতে হবে৷
ন্যায়পরায়ণতা যেহেতু ঐশী হুকুমতের মূলমন্ত্র কাজেই তা মানুষের দুদিকেই
উন্নত করার জামানত দিতে পারে৷

১- আধ্যাত্মিক উন্নতি: ইমাম মাহদী
(আ.)-এর বিশ্বজনীন হুকুমতে মানুষের জীবনের এ অধ্যায়কে জীবিত এবং তাতে
প্রাণ সঞ্চার করার জন্য চেষ্টা করা হবে৷ এর মাধ্যমে প্রকৃত জীবনের মিষ্টি
স্বাদ মানুষকে আস্বাদন করাবেন এবং সকলকে স্মরণ করিয়ে দিবেন যে, প্রথম
থেকেই তাদেরকে এমন পবিত্রতাকে অনুভব করার কথা ছিল৷

২-
ন্যায়পরায়ণতার প্রসার: ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন: যদি মহাপ্রলয়ের মাত্র
একটি দিনও অবশিষ্ট থাকে আল্লাহ তায়ালা সে দিনকে এত বেশী দীর্ঘায়ত করবেন
যে, আমার বংশ থেকে একজন আবির্ভূত হবে এবং পৃথিবী যেমন: অন্যায়-অত্যাচারে
ভরে গিয়েছিল তেমনিভাবে ন্যায়নীতিতে ভরে তুলবেন৷ রাসুল(সা.)-এর কাছে আমি
এমনটি শুনেছি (কামালুদ্দিন, খণ্ড-১, বাব ৩০, হা: ৪ এবং৫৮৪)৷

৩-
কুরআন ও  সুন্নত জীবন্তকরণ: ইমাম আলী (আ.) ইমাম মাহদী (আ.)-এর কুরআনী
হুকুমতকে স্পষ্ট ভাষায় এভাবে বর্ণনা করেছেন: যখন মানুষের নফস হুকুমত করবে
তখন (ইমাম মাহদী আবির্ভূত হবেন) এবং হেদায়েত ও সাফল্যকে নফসের
স্থলাভিষিক্ত করবেন৷ যেখানে ব্যক্তির মতকে কুরআনের উপর প্রাধান্য দেওয়া হত
তা পরিবর্তন হয়ে কুরআনকে সমাজের উপর হাকেম করা হবে (নাহজুল বালাগা খোতবা
১৩৮)৷

৪- মারেফাত ও আখলাকের প্রসার : পবিত্র কুরআন ও আহলে বাইতের শিক্ষাতে
মানুষের চারিত্রিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা
হয়েছে৷ কেননা, মানুষের উদ্দেশ্যের পথে অগ্রগতি ও উন্নতির মূলমন্ত্র হচেছ
তার উত্তম চরিত্র৷ রাসূল (সা.) নিজেও তাঁর নবুয়্যতের উদ্দেশ্যকে চারিত্রিক
গুণাবলীকে পরিপূর্ণতায় পৌঁছানো বুঝিয়েছেন।

৫- জ্ঞানের প্রসার:
ইমাম মাহদী (আ.)-এর হুকুমতের অপর সাংস্কৃতিক কর্মসূচী হচেছ জ্ঞানের বিপ্লব৷
ইমাম  মাহদী (আ.) তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম (ইমাম আলী (আ) বলেছেন: তার
জ্ঞান তোমাদের সবার চেয়ে বেশী৷ গাইবাতে নোমানি, বাব ১৩, হা: ১)৷ তাঁর
সময়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ঘটবে৷
iqna

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None