ইরানীদের কাফের বলে ফতোয়া জারি করল ওয়াহাবী মুফতি/ জাওয়াদ জারিফ উপযুক্ত উত্তর

ওয়াহাবি মুফতিদের মনগড়া ফতোয়া সম্পর্কে সকলেই অবগত রয়েছে। সম্প্রতি
সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি 'আব্দুল আজিজ আশ-শাইখ' ইরানের সকল নাগরিকদের
কাফের খেতাব করে ফতোয়া জারি করেছে!

ইরানীদের কাফের বলে ফতোয়া জারি করল ওয়াহাবী মুফতি/ জাওয়াদ জারিফ উপযুক্ত উত্তর

বার্তা সংস্থা ইকনা: পবিত্র হজ অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে
সম্প্রতি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী
সারা বিশ্বের মুসলমান ও হজযাত্রীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বাণী দিয়েছেন। সর্বোচ্চ নেতার
হজবাণীর প্রতিবাদে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি 'আব্দুল আজিজ আশ-শাইখ' ইরানের জনগণকে "ইসলাম ও আকায়েদে ইসলামের শত্রু
এবং আগুন উপাসকের বংশধর" বলে অবিহিত করেছে।

ওয়াহাবী মুফতি তার ফতোয়ায় বলেছে: "অবশ্যই আমদের
জান উচিত এরা (ইরানিরা) মুসলমান নয়। বরং তারা অগ্নি পুজারকদের বংশধর এবং মুসলমান বিশেষ
করে আহলে সুন্নতদের প্রাচীন শত্রু"।

ওয়াহাবী মুফতির এধরণের বক্তব্যের কিছুদিন পূর্বে অর্থাৎ
২৫ থেকে ২৭শে আগস্ট চেচনিয়ায় শেইখুল আজহারের তত্ত্বাবধানে মুসলিম বিশ্ব আলেমদের শীর্ষক
সম্মেলনে আহলে সুন্নতের ২০০ জন শীর্ষ আলেম অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঐ সম্মেলনে ওয়াহাবি সম্প্রদায়কে
আহেল সুন্নত হতে ভিন্ন বলে অবিহিত করেছে এবং আশয়ারি এবং সুফিদের শত্রু হিসেবে তুলে
ধরা হয়েছে।

সৌদি মুফতি আরও দাবী করেছে: "যারা সৌদি আরব ও হাজিদের
সেবকদের ক্ষতি করতে চাচ্ছে, তারা কখনোই তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাবে না; কারণ, সকল মুসলমান সম্প্রসারণের
ব্যাপারে সৌদি সরকারের সাথে একমত পোষণ করেছে।

আলে সৌদের মুফতি আলে শেখ হাজিদের সেবা কথা বলছে;
অথচ গতবছর সৌদি কর্তৃপক্ষের হজ
অনুষ্ঠানে পরিচালনার ব্যর্থের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৭৪০০ জন হাজি, যাদের মধ্যে শুধুমাত্র ইরানের ৪৬৪ জন হাজি নিহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী হজবাণীতে বলেন: "ইসলাম যে
ইব্রাহিমি (প্রকৃত) হজ মুসলমানদেরকে উপহার দিয়েছে তা গৌরব, আধ্যাত্মিকতা, ঐক্য ও মর্যাদার প্রতীক। এই হজ ইসলামের শত্রু ও অমঙ্গলকামীদের
কাছে তুলে ধরে মুসলিম উম্মাহর মহত্ত্ব বা বিশালত্ব ও মহান আল্লাহর অশেষ শক্তির ওপর
তাদের নির্ভরতা। এ ছাড়াও তা স্পষ্ট করে দেয় বলদর্পি আর বিশ্ব-মোড়লদের পক্ষ থেকে মানবজাতির
ওপর চাপিয়ে দেয়া দুর্নীতি, লাঞ্ছনা ও জুলুমের চোরাবালি থেকে মুসলিম উম্মাহর দূরত্বকে। (প্রকৃত) ইসলামী ও তাওহিদি হজ হচ্ছে সুরা ফাতহের
২৯ নম্বর আয়াতের একাংশে বর্ণিত «اَشِدّآءُ عَلَی الکُفّارِ رُحَمآءُ بَینَهُم» শীর্ষক বক্তব্যের প্রতীক যার অর্থ হল,
মুসলমানরা পরস্পরের প্রতি দয়ার্দ্র
ও কাফির বা অবিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর। এই হজ হচ্ছে মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করার
এবং মু’মিনদের সঙ্গে ঐক্য ও
ভালবাসা জোরদারের স্থান। যারা হজকে নিছক ধর্মীয় প্রমোদ-ভ্রমণের পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে
এবং ইরানের মু’মিন ও বিপ্লবী জাতির
প্রতি তাদের শত্রুতা আর ক্ষোভকে লুকিয়ে রেখেছে ‘হজের রাজনীতিকরণ’ শিরোনামের আড়ালে তারা ক্ষুদ্র ও অপমানিত শয়তান মাত্র।
তারা বড় শয়তান আমেরিকার অশুভ লক্ষ্যগুলোকে বিপদাপন্ন হতে দেখা মাত্রই কাঁপতে থাকে।
সৌদি শাসকগোষ্ঠী এ বছর ‘আল্লাহর পথে ও মসজিদুল হারামের পথে’ সৃষ্টি করেছে বাঁধ এবং ইরানের মু’মিন ও সাহসী হাজিদের জন্য তাদের প্রেমাস্পদের ঘরে যাওয়ার পথ বন্ধ করেছে। এই সৌদি
শাসকগোষ্ঠী হল বিভ্রান্ত ও কলঙ্কিত কিছু লোক যারা তাদের জুলুমপূর্ণ ক্ষমতার সিংহাসনের
অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাকে বিশ্ব-সাম্রাজ্যবাদী-দাম্ভিক শক্তিগুলোর স্বার্থ রক্ষা ও ইহুদীবাদ
আর আমেরিকার সঙ্গে জোটবদ্ধতা এবং তাদের ইচ্ছাগুলো পূরণের চেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে
মনে করছে। আর এই প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে তারা যে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করতেও লজ্জা
বোধ করে না।"

হজবাণীতে সর্বোচ্চ নেতা গুরুত্বারোপ করে বলেন: মিনার
ভয়াবহ ঘটনার পর প্রায় এক বছর অতিবাহিত হয়েছে। যে ঘটনায় ঈদের দিন ইহরাম বাধা অবস্থায়
প্রখর রোদের মধ্যে তৃষ্ণার্ত কয়েক হাজার মানুষ নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছে। এর কিছু
দিন আগেই মসজিদুল হারামেও এক দল হাজী ইবাদতরত অবস্থায় অর্থাৎ তওয়াফ ও নামাজ পড়ার সময়
নিহত হয়েছেন। এ দুই ঘটনার জন্যই দায়ী হলো সৌদি শাসকরা। দু'টি ঘটনার জন্যই যে সৌদি শাসকরা দায়ী সে বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী,পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকসহ সবাই একমত। এছাড়া কোনো কোনো
বিশেষজ্ঞ এ সন্দেহও প্রকাশ করেছেন যে, ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। (তবে) অর্ধমৃত আহতদেরকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে তাদের
বিলম্ব ও অবহেলার বিষয়টি নিশ্চিত ও প্রমাণিত। এসব ব্যক্তি ঈদুল আজহার দিন মোহিত হৃদয়
ও আত্মা দিয়ে আল্লাহর জিকির করছিলেন এবং কুরআনের আয়াত পাঠ করছিলেন। কিন্তু সৌদি আরবের
নির্দয় ও অপরাধী ব্যক্তিরা এসব আহত হাজীকেও মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে তালাবন্ধ কন্টেইনারগুলোতে
আটকে রাখে এবং চিকিৎসা তথা সাহায্য এমনকি তৃষ্ণার্ত ঠোটগুলোতে পানি দেয়ার পরিবর্তে
তাদেরকে শহীদ করা হয়।

তিনি তার গুরুত্বপূর্ণ বাণীতে আরও বলেছেন: সৌদি শাসকরা
এ ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দুঃখ প্রকাশ ও সরাসরি জড়িত অপরাধীদের বিচারের পরিবর্তে চরম নির্লজ্জভাবে ও ধৃষ্টতার
সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইসলামি সত্য-সন্ধানী কমিটি গঠন করা থেকেও বিরত থেকেছে। তারা নিজেদেরকে
অভিযুক্তের স্থানে দাঁড় না করিয়ে অভিযোগকারী সেজেছে। তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্র এবং কুফরি
ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মোকাবিলায় উড্ডীয়মান যে কোনো ইসলামি পতাকার বিরুদ্ধে পুরনো
শত্রুতাকে আরও বেশি ঔদ্ধত্য ও বিদ্বেষপূর্ণভাবে প্রকাশ করেছে।

ওয়াহাবী মুফতির ফতোয়ার উপযুক্ত উত্তর
দিলেন জাওয়াদ জারিফ

সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতির ফতোয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেন: চরমপন্থা ওয়াহাবী মুফতি এবং সৌদি পোষিত সন্ত্রাসবাদ প্রচারণার সাথে
ইরানের ইসলামের কোন মিল নেই।

সৌদি আরবের ওয়াহাবি আলেমরা ইসলামের পরিবর্তে উগ্রবাদের
প্রচার ও প্রসার ঘটাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ। তিনি আরো বলেছেন, ইরানসহ বেশিরভাগ মুসলিম দেশে যে ইসলাম প্রচলিত রয়েছে
তার সঙ্গে সৌদি ওয়াহাবিদের ইসলামের কোনো মিল নেই।

মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ ৬ সেপ্টেম্বর সামাজিক নেটওয়ার্ক
টুইটারে তার ব্যক্তিগত পেজে লিখেছেন: বলেছেন, "প্রকৃতপক্ষে; শীর্ষস্থানীয় ওয়াহাবি আলেম ও সৌদি সন্ত্রাসী ধর্মপ্রচারকরা
যে ধর্মান্ধ উগ্রবাদ প্রচার করছেন তার সঙ্গে ইরানি ও বেশিরভাগ মুসলমানের ইসলামের কোনো
মিল নেই।”

iqna

 

আপনার রেটিং: None
একদল যদি অগ্নিউপাসকদের বংশধর হয়ে থাকে, তাহলে আরেকদল লাত-মানতের উপাসকদের বংশধর। কারো পূর্বপুরুষ কোন্‌ পথের অনুসারী ছিল শুধু তা দিয়ে কাউকে বিচার করা যায় না, যদি সেই ভ্রান্ত পথ ও আকীদা তাদের মধ্যে বর্তমান না থাকে। আল্লাহ বলেন, "সেই উম্মত অতিক্রান্ত হয়ে গেছে, তারা কি করতো না করতো সে ব্যাপারে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না।"
অবশ্য উভয় পক্ষের মাঝেই জাহেলিয়াতের প্রভাব রয়ে গেছে। একপক্ষ আবু সুফিয়ানের রক্তকে ধারণ করে নিপীড়নমূলক রাজতন্ত্রকে বৈধ করবার জন্য এজিদের গুণগাণ করছে, আরেক পক্ষ ওমরের (রা:) আমলে তাদের রাজ্য বিজিত হবার কারণে ওমরের প্রতি বিদ্বেষ জারি রেখেছে। (প্রকৃত) ইসলামী ও তাওহিদি হজ বলতে সুরা ফাতহের ২৯ নম্বর আয়াতের একাংশে বর্ণিত যে আদর্শের কথা বলা হয়েছে, সেই নীতিমালা থেকেও উভয় পক্ষই বহু দূরে অবস্থান করছে। একপক্ষ ইহুদীদের সাথে, আরেকপক্ষ কমুনিষ্টদের সাথে সখ্য বজায় রেখে চলেছে। আল্লাহ এই উভয় গোষ্ঠীর কুপ্রভাব ও আধিপত্য থেকে বিশ্ব মুসলিমকে হেফাজত করুন।

Rate This

আপনার রেটিং: None