সুন্দর আগামীর জন্য

 

 

আমাদের
সন্তানেরা আমাদের সুন্দর আগামীর স্বপ্ন। প্রতিটি
মানুষই সন্তানের মাঝে তার জীবনের অপূর্ণ স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখতে চায়, সন্তানের
সাফল্যে উদ্বেলিত হয়ে ভুলে যেতে চায় যাপিত জীবনে প্রাত্যহিক নানা সীমাবদ্ধতাকে।
আমাদের আগামী, সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন জাগানিয়া আজকের শিশুদের স্বাস্থ্যকর ও
শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে তাদের জীবনের প্রথম তিন বছর অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের সুস্থ-সবল করে গড়ে তুলতে তাদের
দেহে মাইক্রোবায়োটারের বিকাশের দিকে বাবা-মায়ের বিশেষ নজর
দিতে হয় কারণ বিষয়টির সঙ্গে দেহের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতার বিকাশ জড়িত থাকে। মাইক্রোবায়োটা এক ধরনের মাইক্রো অর্গানিজম যা মানুষের
শরীরে বাস করে। মানব দেহের অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া
থাকে, এগুলোই আমাদের সবচেয়ে বড় বোঝা। মানুষের দেহে যত কোষ তার চেয়ে দশ গুণ বেশি
ব্যাকটেরিয়া থাকে। তাই শরীরিক সুস্থতার অনেক বিষয়েই এদের উপর নির্ভর করতে হয়। মানব
শিশুর জন্মের প্রথম তিন বছরের মধ্যে এসব জীবাণুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশে স্বাস্থ্যকর
মাইক্রোবায়োটা সৃষ্টি হয়, যা মানুষের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে করে পরবর্তী জীবনে দেহের রোগ প্রতিরোধীব্যবস্থা
শক্তিশালী হয়ে ওটে। এই বিষয়টি কোনভাবে বাধাগ্রস্ত হলে অন্ত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব
পড়ে। মাইক্রোবায়োটা বিকাশের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়াকে বলে 'ডিসবায়োসিস'। এটা
সব ধরনের ক্রনিক অবস্থার কারণেই হতে পারে। আধুনিক
সমাজে অ্যালার্জির সমস্যা থেকে বিপাকক্রিয়া সবখানেই অস্বাভাবিক অবস্থা মহামারী
আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। খাদ্য উৎপাদনে গতানুগতিক কৃষি পদ্ধতি বদলে যাওয়ার কারণে
মাইক্রোবায়োটার বৈশিষ্ট্যও বদলে গেছে। প্রথম তিন বছরের মধ্যে শিশুর রোগ
প্রতিরোধীব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিশুদের প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে
হবে। শিশুর শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ
ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে। নয়তো তাদের রোগ
প্রতিরোধব্যবস্থা পরিপূর্ণভাবে বিকশিত গতে পারে না। মুখে খাওয়া অ্যান্টিবায়োটিক অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া মেরে
ফেলে, কিন্তু যেগুলো টিকে যায় সেগুলো অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠে দেহের
অভ্যন্তরে মাইক্রোবায়োটার বিকল্প তৈরি করে। শিশুদের দেহে স্বাস্থ্যকর
মাইক্রোবায়োটা সৃষ্টিতে তাদেরকে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াতে হবে। এতে অন্ত্রে
উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হবে। খাদ্য তালিকায় বেশি বেশি শস্য, কম মাংস এবং স্যাটুরেটেড খাবার রাখতে হবে যাতে দেহে স্বাস্থ্যকর
মাইক্রোবায়োটা বিকশিত হয়। শিশুর
দেহে মাইক্রোবায়োটারের বিকাশ মায়ের মাওক্রোবায়োটা, শিশু
জন্মদানের পদ্ধতি, শিশুকে খাওয়ানোর উপায় এবং খাদ্য বাছাইয়ের
উপরও নির্ভর করে – তাই এ সকল বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। শিশুদের সঠিক
বৃদ্ধি আর পরিপূর্ণ বিকাশেই নিশ্চিত হবে আমাদের সুন্দর আগামী। সুতরাং সুন্দর
আগামীর জন্য শিশুদের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিতের কোন বিকল্প নেই।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None