অভিনব পারিবারিক নেটওয়ার্ক

অভিনব পন্থায় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে জঙ্গিরা। পারিবারিক সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে দেশে উগ্রবাদের বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন হামলা-মামলার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা স্বামী-স্ত্রী এমনকি পুরো পরিবারের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পেয়েছেন। বিশেষ করে গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁ ও শোলাকিয়ায় হামলার পর উগ্রপন্থিদের বিষয়ে গোয়েন্দাদের কাছে যেসব তথ্য-উপাত্ত এসেছে, তা বিশ্লেষণ করে জঙ্গিদের এই পারিবারিক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে । পরিবারের একাধিক সদস্য নিয়ে উগ্রবাদে জড়ানোর এ তালিকায় চিকিৎসক এবং শিক্ষকও রয়েছে। সাধারণত তিনটি কারণে পুরো পরিবার উগ্রবাদে জড়ায়। তা হলো আদর্শিক, আর্থিক প্রণোদনা ও সামাজিকভাবে নিগৃহীতের ভয়। পরিবারের এক সদস্য উগ্রবাদে জড়িয়ে দেশের বাইরে চলে গেলে ভয় থাকে, বিষয়টি জানাজানি হলে তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে অনেকে পুরো পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে পাড়ি জমায়। এ ছাড়া অনেক চিকিৎসক ও প্রকৌশলী মোটা বেতনে আইএসের হয়ে 'চাকরি' করে। যখন কোনো পরিবারের প্রধান ব্যক্তি জঙ্গিবাদে জড়ায়, তখন পরিবারের অন্যদের ওপর তার এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকে। এক পর্যায়ে সে অন্যদের তার 'আদর্শে' উদ্বুদ্ধ করে। দেশে জেএমবির উত্থানের শুরুর দিকে এমন কিছু নজির ছিল, যেখানে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ওই সংগঠনে জড়িয়েছিল।  যারা জীবিত অবস্থায় ঠিক করে যায়, সে মারা গেলে কে পরে তার স্ত্রীকে বিয়ে করবে। জঙ্গিদের মধ্যে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনকে অন্য জঙ্গির কাছে বিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None