তবুও কি দেশটির শুভ বুদ্ধির উদয় হবে না?

স্বজন হারানো দুঃখ মর্মবেদনা কত গভীর, তা কেবল ভুক্তভোগীরাই বুঝতে পারে। বাঙালি জনগণের জীবনে ৭১-এর দুঃসহ কালো রাত্রি অতিক্রান্ত হয়েছে চার দশকের বেশী সময় হলো। ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র জনগণের ওপর সশস্ত্র হামলা, বুদ্ধিজীবীসহ নির্বিচারে গণহত্যা ও ধর্ষণ সংঘটিত করার দায়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র নিজেই বাংলাদেশের জনগণের নিকট অপরাধী হয়ে আছে, তার দায় স্বীকার ও আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা তো তারা করছেই না বরং না করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ায় মতামত দিয়ে বিতর্কতার সৃষ্টি
করছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের
বিচারে কানাডায় পাকিস্তানীদের নানান প্রতিক্রিয়ার খবর প্রকাশ পাচ্ছে। একাত্তরের
মুক্তিযুদ্ধে খুন-হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতনের কথা পাকিস্তানের অস্বীকার করায় পাকিস্তানি-কানাডিয়ান লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক  সম্প্রতি তাদের আচরণ এবং মিথ্যাচারের তীব্র
সমালোচনা করছেন। সেই সঙ্গে একাত্তরে পরাজয়ের স্মৃতিচারণ করে তারা
তাঁর দেশকে ক্ষমা চাইতে বলেন। ডেইলি টরন্টো স্টার ও টরন্টো সানের নিয়মিত লেখক
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার জন্য শেখ হাসিনার প্রশংসা করে তাঁর নেতৃত্বের
কৃতিত্ব তুলে ধরেন। অপর দিকে, অনলাইনেও এই নিয়ে প্রতিবাদ, স্বাক্ষর সংগ্রহ ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি তোলপাড় হচ্ছে। রোয়ান্ডার
কিগালী থেকে জনৈক একাত্তরের গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা
প্রার্থনায় বিশ্বের সকল পাকিস্তানিকে আহবান জানিয়ে লিখেছেন- ‘আমরা পাকিস্তানিরা
বাংলাদেশিদের কাছে ক্ষমা চাইছি’ ও গভীরভাবে দু:খ প্রকাশ করছি, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যে নৃশংসতা হয়েছে তার জন্য’। একজন বিবেকবান পাকিস্তানির উচিত হবে এ
বিষয়টি  গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None