বিচার দিব কার কাছে!!

**যার গর্ভে পৃথিবীর আলো দেখেছেন সেই মায়ের হাতেই বিদায় "সার্থক জনম মাগো জন্মেছি এই দেশে" আরো 'সার্থক হল তোমার কোলে মাথা রেখে শেষ নিঃশ্বাষ ত্যাগ করতে পেরেছি ভেবে' (ভাই বোন দুইটি হয়ত এভাবেই বলেছিল কিন্তু আমরা পাষান, নিষ্ঠুর শুনতে পাইনি) বলছি বনশ্রির সেই মা নামক পাষানীর কথা যিনি নিজের দুই সন্তানকে ওড়না পেচিয় নির্মম ভাবে হত্যা করলেন"

---

"মহান আল্লাহ তায়লা পৃথিবীর সর্বশেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষকে পাঠিয়েছেন এই পৃথিবীতে। তাকে সুন্দর একটা হৃদয় দিয়ে তাতে ভাললাগা,ভালবাসা, অনুভূতি,সহানুভূতি,আনন্দ, বেদনা, সুখ-দুঃখ অনুভব করার ক্ষমতা দিয়েছেন... সেই মানুষের মনুষত্ব কিনা প্রকাশ পায় এই ধরনের নির্মম কর্মের দ্বারা। যে কারনেই আজ মানুষের পরিবর্তে আসছে রোবট। বিলীন হচ্ছে মানুষের সহানুভূতি, 'ভাইয়ের হাতে ভাই', 'ভাগিনার হাতে মামা', 'ভাতিজার হাতে চাচা', 'সন্তানের হাতে বাবা- মা + উল্টোটা' খুন হচ্ছে নির্মমভাবে... আর এই নির্মম অপ্রিয় সত্যগুলোর সাক্ষী হয়ে আছে এই বাংলার জনগন"

(বিচার দিব কার কাছে!! দেখতে যে পাইনা তাকে, তবুও রইল বিচার আপনার আদালতে... সাথে সকলের বিবেকের কাছে)

---

"এক ভদ্রলোককে এই ব্যাপারে জিঙ্গেস করলে! তার ভাষ্যমতে, 'বিভিন্ন টিভি সিরিয়াল দেখে দেখে এক ধরনের ঘোরের মধ্যে নেশার মতো জরিয়ে যাচ্ছে এই কালের মা-মেয়েরা, যার নির্মম বলি হচ্ছে আজকের ফুটফুটে সুন্দর শিশু'

---

"এই ফুটফুটে সুন্দর শিশু মায়ায় আবদ্ধ, ও মমতায় আবদ্ধ, ও ভাললাগার ভালবাসায় আবদ্ধ... চিরন্তন, চিরস্থায়ী, চিরজ্ঞ্নীব হোক মানুষের মনুষত্ব" 

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)
এ ধরনের বর্বরতাকে সমর্থন করবার মতন মানুষেরও অভাব নেই এই সমাজে। সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তি এবং তার সমমনা অর্থাৎ তার মতন একই ধ্যান-ধারণা পোষণকারী ব্যক্তিরা হয়তো বলবেন, "যিনি জন্ম দিয়েছেন, মারার অধিকারও তার আছে। যার বাচ্চা তিনি মারবেন, এতে কার কী বলার আছে?" অথবা হয়তো বলবেন, "পারিবারিক অশান্তির কারণে, জুলুম ও বঞ্চনার কারণে হতাশ হয়ে সেই হতাশা প্রকাশের এছাড়া আর কোন উপায় ছিল না বলেই হয়তো এ কাজ করেছেন। আল্লাহর ভয় বা পাপের ভয় না থাকলে আমিও এ কাজ করতাম।" (নাউজুবিল্লাহ) ঠিক যেমন পেট্রোল বোমাবাজরা মানুষ পোড়ানোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে তাদের উপর শাসকদের জুলুমের কথাকে বাহানা হিসেবে পেশ করে। কিন্তু যে যেরূপ যুক্তি দিয়েই এসব বর্বরতার পক্ষে সাফাই গাওয়ার ও এগুলোকে বৈধ করবার চেষ্টা করুন না কেন, কোন সুস্থ বিবেক এগুলোকে ভাল কাজ বলে সায় দেবে না।

শিশু নির্যাতনের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শনকারীদের কুযুক্তি খণ্ডন করে আমার একটি লেখা দেখতে পারেন নিম্নলিখিত পোস্টে:

শিশু নির্যাতন করা কি পিতামাতার অধিকার?

আলোচ্য ঘটনায় অনেকেই বিশেষত খুনী মহিলার ভাই-বোনেরা প্রশ্ন তুলেছেন ঘটনাটির সম্ভাব্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। তাদের বক্তব্য হল, তাদের বোনই যে কাজটি করেছেন এবং শুধু লেখাপড়া ও ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে করেছেন, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। কিন্তু রেজাল্টপাগল অভিভাবকদের psychology ও দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের আগ্রাসী প্রবণতা সম্পর্কে যারা ওয়াকিবহাল আছেন, তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, সম্পদলোভী যেমন তার সম্পদ নিয়ে কখনো সন্তুষ্ট হয় না [রসূলুল্লাহ (সা:) এক হাদীসে বলেছেন, তোমাদের কাউকে ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দেয়া হলেও সে এরকম দুটি পাহাড় চাইবে। আদম সন্তানের পেট মাটি ছাড়া কিছু দিয়ে ভরবে না।], কামলোভী নারী-পুরুষ যেমন বিপরীত লিঙ্গের হাজারো সঙ্গীকে পেলেও তৃপ্ত হয় না, ক্ষমতালোভী যেমন শুধু একটি দেশের ক্ষমতা পেয়েই সন্তুষ্ট হয় না বরং আরো দেশ দখল করে নিজের সাম্রাজ্য বাড়াতে চায়, ঠিক তেমনি বাচ্চার রেজাল্ট নিয়ে ফুটানি মারা ও সুনাম কুড়ানি জুয়াড়ী অভিভাবকরা বাচ্চার লেখাপড়া ও রেজাল্ট যতই সন্তোষজনক হোক না কেন, তা নিয়ে তুষ্ট থাকতে পারে না। বাচ্চা যখন পরীক্ষায় ফার্স্ট না হয়ে সেকেন্ড হয়, তখনই এসব গার্জিয়ানের মাথায় রক্ত উঠে যায়। পরীক্ষায় ৮০০ নম্বরের মধ্যে ৭৯৯ পেলেও হাউমাউ করে বুক চাপড়ে বিলাপ জুড়ে দেয়। রোল নম্বর ও পজিশন এক ঘর নিচে নামা বা স্কোর এক নম্বর কম পাওয়াটা তারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারে না। অতএব, এসব মাতাল বদ্ধ উন্মাদদের দ্বারা যেকোন বিশ্রী ঘটনাই ঘটা সম্ভব।
খুনী মহিলার বোন নিজের বোনকে নির্দোষ প্রমাণের/ভাবার জন্য বলছেন, "তিনি আমাকেও বলতেন বাচ্চার পজিশন দ্বিতীয়র জায়গায় চতুর্থ হওয়া নিয়ে টেনশন করো না, বাচ্চাকে অযথা চাপ দিও না; সেখানে তিনি নিজের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এমন কাজ করবেন এটা কী করে সম্ভব?" এক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, অনেক মানুষ আছে অন্যকে সদুপদেশ দিতে পারলেও নিজের বেলায় ধৈর্য্য ধারণ করতে পারে না। কারণ, যেকোন ক্ষেত্রেই অন্যকে নসীহত করা সহজ, কিন্তু নিজে ঠিক থাকা কঠিন।
খুনী মহিলা এখন আবার ভোল পাল্টে তার পূর্বের বক্তব্য (অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে সন্তানদের রেজাল্ট ও ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা) থেকে সরে এসে স্বামীর পরকীয়া নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছে এবং পরকীয়াকারী স্বামীকে শায়েস্তা করবার জন্যই বাচ্চাদের হত্যার দাবি করছে। কিন্তু একথা সত্যি হয়ে থাকলে সে পূর্বে বলেনি কেন? আসল কথা হল, স্বামীর প্রতি তার ক্ষোভ কথিত পরকীয়ার কারণে নয়, বরং স্বামীও কেন তার মত বাচ্চাদের কথিত লেখাপড়া ও ক্যারিয়ার নিয়ে সমানভাবে দুশ্চিন্তা ও মাতলামি করেনি, কেন আর সব কাজ বাদ দিয়ে বাচ্চাদের পুঁথি মুখস্থ করানোতে বসে পড়েনি, এটাই ক্ষোভের প্রকৃত কারণ।
নামকরা স্কুলগুলোতে সন্তান ভর্তি করানোর জন্য যারা ভর্তিযুদ্ধে নামেন, তাদের প্রায় সবাই এই কোয়ালিটির অভিভাবক। অর্থাৎ, তাদের চিন্তা-চেতনা ও প্রবণতা এই দুই শিশুর হত্যাকারী মায়ের মতই। তবে সবাই হয়তো প্রাকটিক্যালি এতটা চরম পর্যায়ে যায়নি, তাই খুন-খারাবির ঘটনা ওভাবে ঘটছে না। কিন্তু সবাই ঐ দুই হতভাগা শিশুর মত নিজ মায়ের হাতে নিহত না হলেও কমবেশি শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্যে কিন্তু দিনাতিপাত করে শহরের স্কুলগামী সব শিশুই।
কোন কোন অনুসন্ধানী সাংবাদিক গবেষণা করতে শুরু করে দিয়েছেন, যে কারণে যার দ্বারা খুনের খবর প্রকাশিত হয়েছে সেটা কতটা বিশ্বাসযোগ্য, নিহত শিশুদ্বয়ের মা নেপথ্যের অন্য কোন ব্যক্তিকে কিংবা অন্য কোন আসল কারণকে আড়াল করতে চাচ্ছেন কিনা ইত্যাদি। আসলে যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনার ক্ষেত্রে কোন অদৃশ্য প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মহলের হাত থাকার খবর বের করতে পারালে সাংবাদিক ও সংবাদ পাঠকরা অধিক চাঞ্চল্য অনুভব করে থাকেন বলেই হয়তো এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে চোখের সামনে আসা ব্যক্তি ও কারণকে বাদ দিয়ে অদৃশ্য শক্তি বা অদৃশ্য কারণ নিয়ে ঘাটাঘাটি করাতে মানুষকে বেশী উৎসাহী দেখা যায়। কিন্তু আমার  মতে, অদৃশ্য কারণ নিয়ে ঘাটাঘাটি করে সময় নষ্ট না করে দৃশ্যমান ও প্রকাশিত কারণটির মাঝেই শিক্ষণীয় কিছু আছে কিনা এবং তা আমাদের জন্য কোন সুদূরপ্রসারী সতর্কবার্তা বহন করছে কিনা, সেটা প্রথমে খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ, এখানে যে কারণটি প্রকাশিত হয়েছে, সেটাই সর্বাপেক্ষা অধিক বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়। বর্তমান যুগে বাংলাদেশে শিশু হত্যার জন্য এই একটা কারণই (অর্থাৎ বাচ্চার লেখাপড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা) যথেষ্ট।
লেখাপড়ায় সবার টপে থাকতে না পারলে তাকে বাঁচিয়ে রেখে লাভ নেই— এই মানসিকতা পোষণ করেন শতকরা ৬০ ভাগ অভিভাবক। বিশ্বাস না হলে প্রত্যেকে নিজ নিজ মা-বোনদের মাঝে জরিপ করে দেখতে পারেন। আমি কিন্তু আমার চোখের সামনে একাধারে তিনটি প্রজন্মকে দেখেছি এই একই জাহেলী দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ ও পোষণ করতে।
লেখাপড়া ও ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশার কারণে নিজের সন্তানকে হত্যার ইচ্ছা জীবনে একবারের জন্যও প্রকাশ করেননি- এমন মা কয়জন আছেন?
"এক ভদ্রলোককে এই ব্যাপারে জিঙ্গেস করলে! তার ভাষ্যমতে, 'বিভিন্ন টিভি সিরিয়াল দেখে দেখে এক ধরনের ঘোরের মধ্যে নেশার মতো জরিয়ে যাচ্ছে এই কালের মা-মেয়েরা, যার নির্মম বলি হচ্ছে আজকের ফুটফুটে সুন্দর শিশু'"— এই পর্যবেক্ষণকেও আমার কাছে প্রাসঙ্গিক মনে হয়নি। টিভি সিরিয়ালের ভাল-মন্দ প্রভাব মানুষের জীবনে রয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এই ঘটনাটিকে টিভি সিরিয়াল দেখার সাথে সম্পর্কিত বলে মনে হয় না।
আসলে প্রত্যেক মানুষ তার নিজ নিজ দৃষ্টিকোণ ও চিন্তাধারা থেকে ঘটনা ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে। সাধারণত নিজের মনে যেই বিষয় বা জিনিসের প্রতি এলার্জি বা বিরক্তি ও বিরূপ ধারণা বিদ্যমান থাকে কিংবা যেই ব্যক্তি, দল বা মহলের সাথে শত্রুতা থাকে; যেকোন অঘটনের জন্য সেই বিষয় বা গোষ্ঠীকে দায়ী করে মানুষ সান্ত্বনা পেতে চায়। এ ঘটনাটির ব্যাপারেও যদি খালেদা জিয়াকে প্রশ্ন করেন, তিনি বলবেন, দেশে গণতন্ত্র না থাকার কারণে এমনটি ঘটেছে। আবার যদি শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞেস করেন, তাহলে তিনি হয়তো বলবেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হবার কারণেই এসব ঘটছে। এককথায়, প্রত্যেকেই নিজ নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে যেকোন ঘটনা ও পরিস্থিতি বিচার করবেন এবং কারণ ব্যাখ্যা করবেন। কিন্তু আসল সত্য জানতে হলে আমাদেরকে কার্যকারণ সম্বন্ধ মিলিয়ে দেখতে হবে। যে কর্ম বা ঘটনার সাথে যেই কারণটা বেশি সম্ভাব্য ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতীয়মান হয়, সেটাই ধরে নিতে হবে।
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। উগ্র গার্জিয়ানদের খামখেয়ালীপনা ও মাতলামির শিকার হয়ে শিশুদের জীবন ও প্রতিভা যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যত অন্ধকার। সুতরাং এই সামাজিক ব্যাধি ও অসুস্থ মানসিকতা এখনই থামিয়ে দেয়া জরুরী।
বাংলার মাটিতে সংক্রমিত সবচাইতে সর্বনাশা ও সর্বগ্রাসী ভাইরাসটির নাম হলো এই ক্যারিয়ারবাতিকগ্রস্ততা। ক্যারিয়ার নিয়ে আগাম উদ্বেগের কারণে সন্তানদের শৈশব থেকে জীবন বিষিয়ে তোলার এ প্রবণতা নি:সন্দেহে এক মারাত্মক সামাজিক সমস্যা। জনগণ যখন এমন একটি মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত, তখন এ ধরনের সামাজিক সমস্যার দিকে মনোযোগ না দিয়ে শুধু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে বা একজনকে গদি থেকে নামিয়ে আরেকজনকে বসিয়ে দেশের সমস্যার সমাধান যারা করতে চান তারা ভুলের মধ্যে আছেন।

একদিক দিয়ে বলতে গেলে বাচ্চা দুটো একপ্রকার মরে বেঁচেছে। কারণ, যে মহিলা ক্লাসের লেখাপড়ার জন্য বাচ্চাদেরকে হত্যা করতে পারে, বাচ্চারা জীবিত থাকলেও সেই মহিলা ওদেরকে একাডেমিক পড়ালেখা ছাড়া আর কিছু করার সুযোগ দিত না। পড়ার চাপে বাচ্চারা ধর্মকর্ম শেখা ও এবাদত-বন্দেগি করবার সময় পেত না। ফলে আখেরাতটাও বরবাদ হয়ে যেত। যাক, তবু ইহজীবনটার উপর দিয়ে গেছে, পরকালটা তো রক্ষা পেয়েছে!

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)