সৃষ্টিরাজ্যের বিস্ময় দেখে সত্যের নাগাল পেলেন যিনি ( এক )

সৃষ্টির সৌন্দর্য এক অপার বিস্ময়। সেই প্রাচীনকাল থেকেই এই বিস্ময়ের প্রতি সবাই আকর্ষণ বোধ করে এসেছে। মানুষের জ্ঞান ও বিবেক-বুদ্ধি যতোই বেড়েছে ততোই এই সৃষ্টি রহস্যের জটিল গ্রন্থিগুলো ধীরে ধীরে খুলতে সক্ষম হয়েছে, উপলব্ধি করতে পেরেছে এর শৃঙ্খলা। সুশৃঙ্খল এই বিশাল সৃষ্টিজগত নিয়ে তাই সর্বযুগেই একটি প্রশ্ন চিন্তাশীলদের মাথায় খেলেছে-তাহলো কে এই বিশাল সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা,এর ওপর কার শাসন চলে? সৃষ্টির আদি থেকে অদ্যাবধি এই জিজ্ঞাসা মানুষকে তাড়িত করেছে। কেউ এই প্রশ্নের যথার্থ উত্তর পেয়ে সঠিক পথে পরিচালিত হয়েছে, কেউবা স্রষ্টাকে অস্বীকার করে হয়েছে বিপথগামী। এ্যান্থনি ফ্লিউ এরকমই এক ব্রিটিশ চিন্তাবিদ যিনি ৬৬ বছর স্রষ্টাকে অস্বীকার করার পর ৮১ বছর বয়সে শেষ পর্যন্ত স্রষ্টার অস্তিত্ব স্বীকার করে সঠিক পথে এসেছেন। এ্যান্থনি ফ্লিউয়ের আস্তিক হওয়ার কাহিনী বর্ণনার আগে সৃষ্টিজগত সম্পর্কে খানিকটা আলোচনা করা যাক।

সৃষ্টিজগত যে বিশাল তার একটা ছোট্ট উদাহরণ হচ্ছে নক্ষত্ররাজি। সৌরমণ্ডলীয় নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্যে সূর্যই একমাত্র আলো এবং উষ্ণতার উৎস। এই নক্ষত্রটির ব্যাস হচ্ছে ১৩ লক্ষ ৯০ হাজার কিলোমিটার। তবে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে ৩০ হাজার কোটি নক্ষত্র রয়েছে যার মধ্যে সূর্য একটি। আর মহাশূন্যে আবিষ্কৃত এ রকম ১০ হাজার কোটি গ্যালাক্সির মধ্যে মিল্কিওয়ে একটি। নক্ষত্রবিদদের মতে মরুভূমিতে বালির সংখ্যার চেয়ে মহাশূন্যে তারকার সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা কেবল তিন হাজার নক্ষত্রের মতো দেখতে পাবো। প্রতিটি নক্ষত্রেরই মানুষের মতো জন্ম-মৃত্যু-শৈশব-যৌবন-বার্ধক্য আছে।

ভূ-পৃষ্ঠ নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করলেই বিশ্বের সকল সৃষ্টির শৃঙ্খলা এবং বিশালত্ব সুস্পষ্ট হয়ে যায়। পৃথিবীর তিন ধরনের সঞ্চালন বা ঘুর্ণন রয়েছে। পরিস্থিতিগত, স্থানান্তরিত এবং কক্ষপথ বা কেন্দ্রবিন্দুভিত্তিক। পরিস্থিতিগত সঞ্চালন হলো, পৃথিবীর নিজস্ব কক্ষপথে ঘোরা যার গতি হচ্ছে ঘণ্টায় ১৬৮০ কিলোমিটার। নিজস্ব কক্ষপথে পৃথিবীর ঘুর্ণনের ফলে দিন এবং রাত্রি আসে। পৃথিবীর স্থানান্তরমূলক ঘুর্ণন সূর্যের চারদিকে তার আবর্তনকে বোঝায়। সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর এই ঘুর্ননের গতি হচ্ছে সেকেন্ডে ত্রিশ কিলোমিটারেরও বেশি, যার ফলে বিভিন্ন ঋতুর আবির্ভাব ঘটে। আর পৃথিবী তার নিজস্ব কক্ষপথে আবর্তিত হবার মধ্য দিয়ে ঋতুর মাঝে পরিবর্তন আসে এবং রাত ও দিনের দৈর্ঘের মাঝে পরিবর্তন সূচিত হয়-অর্থাৎ কখনো রাত বড় হয়ে যায় কখনো দিন।

পৃথিবী নামক গ্রহটি দু’ধরনের শক্তি দ্বারা প্রভাবিত। এক সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং দ্বিতীয়ত বিকর্ষণমূলক শক্তি। এই দ্বিবিধ শক্তির কারণে কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবী তার নিজস্ব কক্ষপথে অপরিবর্তিতভাবে ঘুরছে আর মানুষ তার মাঝেই আনমনে পরম প্রশান্তিতে বসবাস করছে। যদি তাই না হতো বা সূর্যের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণে যদি সামান্যতম পরিবর্তনও আসতো তাহলে পৃথিবীর অস্তিত্ব লোপ পাওয়ার আশঙ্কা ছিল, সেইসাথে মানুষসহ পৃথিবীর সকল সৃষ্টিই তার অস্তিত্ব হারাতো।

পৃথিবীতে প্রাকৃতিক যেসব আবিষ্কার কিংবা জলে-স্থলে যে বিচিত্র সৃষ্টির বসবাস রয়েছে তার সবকিছুর মাঝেই রয়েছে অনন্ত বিস্ময়। আমরা আমাদের অর্থাৎ মানুষের অবয়ব সৃষ্টির প্রতি যদি একটু মনোযোগ দেই কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং সেগুলোর কাজের যে শৃঙ্খলা রয়েছে তার দিকে যদি একবার তাকাই তাহলে এর বিস্ময়করতা আমাদের সামনে এসে ধরা দেবে। 

যেমন,একজন বৃদ্ধবয়সী লোকের শরীরে সাধারণত এক'শ’ ট্রিলিয়ন কোষ থাকে। এগুলোকে যদি একটার পর একটা সাজানো হয় তাহলে পনেরো হাজার কিলোমিটার লম্বা হবে। এই দেহকোষগুলো সর্বদা মরে যেতে থাকে এবং তার পরিবর্তে নতুন কোষ জন্ম নেয়। তবে স্নায়ুকোষগুলো মরে না। মজার ব্যাপার হলো, দেহকোষগুলোর পুনর্গঠন সত্ত্বেও এগুলো বার্ধক্যের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। মানুষ ধীরে ধীরে বার্ধক্যের পথে এগিয়ে যায়। এই বিস্ময়, এই শৃঙ্খলা এবং সৃষ্টির প্রতি এই মনোযোগ থেকেই প্রমাণিত হয় সৃষ্ট বস্তুর স্রষ্টা কতো শক্তিমান। স্রষ্টা তাঁর অসীম শক্তি ও জ্ঞান দিয়ে নজিরবিহীন শৃঙ্খলার সাথে এই বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.2 (5টি রেটিং)

আশরাফ ভাই, এ ধরনের লেখাগুলো অনেক আবেগ নিয়ে পড়ে থাকি। আপনাকে আল্লাহ্ সর্বোত্তম প্রতিদান দিন। আশা করবো অনেক দীর্ঘ করবেন এ ধারাবাহিকতা।

অপেক্ষায় থাকবো এ ধারাবাহিকের।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

লেখাটা মূলত এ্যান্থনি ফ্লিউকে নিয়ে। তাই খুব লম্বা হবে না।

ভাল পোষ্ট। আরো চাই। একজনের কাহিনী শেষ হলে আরো বহু নওমুসলিমের কাহিনী নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন। এটাই আশা করছি।

দেখি, সময় করে উঠতে পারি কিনা।

ভাল পোস্ট

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.2 (5টি রেটিং)