'সেতু জোহরা' -এর ব্লগ

হ্যলুসিনেসান,ইলিউসান এন্ড ডিলিউসান….

কিছুদিন আগেই সাইকিয়াট্রি ওয়ার্ড শেষ হল। মনোজগতের কিছু অস্বাভাবিকতার সাথে
পরিচিত হলাম। অনেক কেইস হিস্ট্রি রেকর্ড করলাম, হিস্ট্রি নিয়ে স্যারের
সাথে অনেক ডিসকাশনও হল। প্রতিটা হিস্ট্রির পিছনে যে গভীর প্রভাববিস্তারকারী
ফ্যক্টর আছে সেগুলো নিয়ে স্যার ডিপলি লেকচার দিলেন। মেডিক্যাল লাইফে এই
প্রথম আমি কিছু ব্যাপার খুব আগ্রহ ও চরম উদ্দ্যম নিয়ে স্টাডি করলাম। আসলে
মেডিসিন/সার্জারি ওয়ার্ড যখন করতাম তখন এটা মনে করতাম যে মেডিক্যালে যখন
পড়তেছি তখনতো এসব করতেই হবে।এটলিস্ট পরীক্ষা হবে, পাশ করতে হবে এসব চিন্তা
করেই পড়াশুনা। কিন্তু সাইকিয়াট্রি ওয়ার্ডে আমি নিজেকে ভিন্নভাবে ফিল করলাম।

সাইকোলজি আর সাইকিয়াট্রির মধ্যে যে বেসিক পার্থক্য আমি বুঝলাম তা হল
সাইকোলজি ডিল করে মানুষের স্বাভাবিক ব্যবহার ও তার সমস্যার পরিব্যাপ্তি
নিয়ে যা কাউন্সিলিং এর গুরুত্ব প্রমোট করে। আর সাইকিয়াট্রি ডিল করে মানুষের
অস্বাভাবিক ব্যবহারের জটিলতা নিয়ে যা অবশ্যই মেডিকেশানের সাথে রিলেইটেড।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

তুমি নারী বলেই এই লেখা তোমার জন্য উৎসর্গিত !!!

লেখাটা শুরুর করার পূর্বেই বলে নেই এই চিন্তা ভাবনার প্রেরণা পেয়েছি আমার সবচেয়ে প্রিয় আপুর কাছ থেকে। নারী কেন্দ্রিক লেখাটা খুব সাহস করেই লিখে ফেললাম যেহেতু আমি নিজেও একজন নারী। তাই একজন নারী হিসাবে নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই ও অন্য নারীদের প্রতি প্রত্যাশা করি সেটাই অকপটে বলে ফেললাম। কেউ এটা পড়ে যদি মাইন্ড করেন তবে সেটার দায় দায়িত্ব তার উপর পড়বে, লেখকের উপর নয়।

নিজ পরিবার, সমাজ ও দেশের সীমানা পেরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির এই বিশ্বে একজন নারী যখন উন্নত বিশ্বের দিকে দৃষ্টিপাত করে তখন এক জটিল সমস্যা অনুভব করে সে। একদিকে নারী স্বাধীনতা, নারী অধিকার পাবার চরম আকাঙ্ক্ষা অন্যদিকে নিজ অস্তিত্ব সংকট। সবকিছুর সংমিশ্রন একজন নারীর চিন্তা জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (6টি রেটিং)

ইভটিজিংঃ নেপথ্যের আড়ালে ও আমাদের দায়বদ্ধতা।

অনেকদিন ধরে ভাবছি কিছু লিখব। কিন্তু চারপাশের পরিবেশ, সাম্প্রতিক ঘটনা
সব মিলিয়ে চিন্তা-ভাবনা গুলো জট পাকিয়ে যাচ্ছে। সমস্যা ও দুর্যোগের এমন এক
চেইন রিএ্যকশানের মধ্যে পড়ে গেছি , যে, চিন্তা ভাবনার জট একটি খুলার পর
দেখি আরেকটিতে জট লেগে গেছে। তারপরও কী-বোর্ড হাতে নিলাম। নিজের একদম
ভিতরের স্বত্তার জোরেই কিছু লেখার সাহস খুজে পেলাম।


ফার্মগেট হতে রিক্সা করে আমি আর আমার এক ফ্রেন্ড বাসায় ফিরছিলাম। তখন
সম্ভবত এইচ.এস.সি পরীক্ষা চলছিল। যাইহোক পরীক্ষার্থীদের ভিড় ছিল চারপাশে।
হঠাৎ খেয়াল করলাম আমাদের ঠিক সামনের রিক্সাতে দুইজন কলেজ ইউনিফর্ম পরা
মেয়েকে একটি ছেলে খুব বাজে মন্তব্য করতেছে। ছেলেটি রিক্সার পাশে পাশে দৌড়ে
যাচ্ছিল। ঘটনাটা আরো বেশি নজরে আসল তখন দেখি ছেলেটি তার হাতে কোমল পানীয়ের
একটি বোতল মেয়েগুলোর দিকে সজোরে ছুড়ে মারে। সাথে কিছু কথা “ তুমি আমার জীবন
নষ্ট করে দিয়েছ। আমি তোমাকে ছাড়বোনা।এভাবে তুমি আমাকে রেখে ওই ছেলের সাথে
প্রেম করলে আমি দেখে নিব...............”

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (4টি রেটিং)

লাভগুরু আপনাকেই বলছি..

আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যদি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে অন্য কোন প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে ভালবাসে এবং সেক্ষেত্রে যদি দুই পরিবার এই বিয়েতে রাজি না থাকে তাহলে তারা কি করতে পারে?

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (10টি রেটিং)

আত্বকথন...

দুখঃবোধ পুরা মন জুড়ে ব্যপ্ত থাকে। মনের কষ্ট যে এত উপকারী সেটা আগে বুঝিনি।
খুব কাছের কেউ কষ্ট দিলে সেটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন। এতদিন পরে বুঝতে
পারলাম যে উদার হওয়া এত্ত সহজ না। অথচ নিজেকে একসময় খুব উদার মনে হত।
কিন্তু উদার হবার সুযোগ যখন এল তখনই বুঝলাম উদারতা প্রদর্শনের জন্য মানসিক
শক্তি কত প্রকট হতে হয়। মনটা যদিও খুব খারাপ লাগছে, তারপরও ভাল লাগছে । চরম
কঠিন সত্য নিজের কাছে প্রকাশিত হল। মানুষ সর্ব প্রথম পরাজিত হয় নিজ সত্তার
কাছে। আমিও হলাম। কিন্তু এই পরাজয় আমাকে যে শিক্ষা দিল তা হাজার বিজয়ের
চেয়েও অনেক বেশি।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (4টি রেটিং)

প্রকৃত সুখের সন্ধান...

মানব মনের প্রকৃতি বড়ই বিচিত্র। কিসে সে কষ্ট পায় কিসে সে সুখী হয় তা সে নিজেই জানেইনা। হয়ত বিচিত্র মনের বৈচিত্রতায় আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। রাতের আকাশের যে মোহনীয় চাঁদ দেখে মন আনন্দে উদ্বেলিত হয় সেই একই চাঁদ দেখে চোখের কোণে জমে দুঃখের অশ্রুবিন্দু। সমুদ্রের বিশালতা কখনও এনে দেয় অসীম শূণ্যতা কখনওবা পূর্ণতা। বহুরূপী মনের এই সত্তা তাই বিশ্লেষণ করা খুব সহজ না।

কতটা অভিজ্ঞতা অর্জন করলে একজন নিজেকে পরিপূর্ণ ভাবতে পারে? হঠাৎ এই প্রশ্নে চিন্তার জগতে ছেদ ধরল। আসলেই কি মানুষ কখনও পরিপূর্ণ হতে পারে? খুব চিরন্তন ও আদি প্রশ্ন। অভিজ্ঞতা অর্জনের মাপকাঠি নাকি বয়স! কিন্তু বয়সই কি সবসময় সেই মাপকাঠি হতে পারে?

আট/দশ বছরের কোন ছেলের অভিজ্ঞতার পরিসীমা কতটুকু? সাথে সাথে একটি চিত্র মনের পর্দায় ভেসে আসল । সকালে ঘুম থেকে উঠেই কিভাবে স্কুল ফাঁকি দেওয়া যায়, কিভাবে আজ বিকালে ক্রিকেট খেলায় জেতা যায় কিংবা বাবাকে যে নতুন গাড়ি,ক্যাটবেরি কিনতে বলা হয়েছে তা আনতে ভুলে যাবেনাতো!

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.8 (5টি রেটিং)

একরাশ হতাশা ও প্রত্যাশা...

বাস থেকে যখন ক্যাম্পাসের সামনে নামলাম ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে নিজেই কিছুটা
সারপ্রাইজড হলাম। ছয়টা চুয়ান্ন বাজে। ছয় মিনিট আগে আমি লেকচার ক্লাসে
যাচ্ছি। বিশাল একটা ব্যাপার। ঠিক কবে একদিন সময়মত ক্লাসে যেতে পেরেছি বিশেষ
করে থার্ড ইয়ারে সকাল ৭টার ক্লাসে সেটা অনেক কষ্ট করেও মনে করতে
পারলয়ামনা। ৭টার ক্লাসে সবসময় ১০-২০ মিনিট লেইট। এখনও সেই চরম শীতে ডিজিটাল
সাড়ে ৬টার ক্লাসের কথা মনে পড়লে গা শিউরে উঠে। সবচেয়ে অবাক ব্যাপার আমি
বুঝিনা এত্ত সকালে টিচাররা ৫-১০ মিনিট আগে কিভাবে ক্লাসে এসে বসে থাকে।
আজব!!! তবে ভরসা একটাই লেইট করলেও টিচাররা মাইন্ড করেননা।
যাইহোক ক্লাসে ঢুকেই দেখি চশমা পরা বয়স্ক একজন নতুন টিচার। প্রজেক্টারে
মাল্টিমিডিয়া প্রেসেন্টেশান দিচ্ছেন। একজন মানুষের যখন ইমোশনাল
এপ্রোচমেন্টের ইমব্যালান্স হয় তখনই সাইকিয়াট্রিক প্রবলেম দেখা যায়।
ব্লা...ব্লা...ব্লা...

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (4টি রেটিং)

স্মৃতির পর্দায় বন্দী করে রাখা কিছু মুহূর্ত…

স্টার কাবাবে প্রায় ৯/১০ জনের মত বসে খাচ্ছিলাম। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা
হচ্ছিল। হঠাৎ বাইরে লাঠি হাতে জীর্ন-শীর্ণ এক বৃদ্ধ ফকিরকে দেখা গেল। দেখা
মাত্রই তিনি উঠে গেলেন। নিজ হাতে তাকে পিৎজা খাওয়ালেন, কোক দিলেন। সবচেয়ে
নতুন ৫০টাকার একটা নোট দিলেন বেছে বেছে। অবাক হয়ে দেখছিলাম এই দৃশ্যটা।
কিন্তু আমার অবাক হবার যে আরো বাকি ছিল সেটি তখনও বুঝতে পারিনি।
স্টার কাবাব থেকে বের হলাম সবাই। তিনি চিন্তা করছেন সবাই কিভাবে বাসায়
যাবে? অতঃপর সবার ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে তাদের যাবার ব্যবস্থা করলেন। এরপর
বাকি ছিলাম আমি,যুথি আর মামুন। আমাদের জন্য একটি ট্যাক্সি ক্যাব ঠিক করে
নিজে সি.এন.জি করে রওনা দিলেন।
গন্তব্য আমাদের মোহাম্মদপুর, তার বাসায়। বিশেষ আতিথেয়তায় তিনি আমাদের
নিয়ে যাচ্ছেন তার বাসায়। বয়সে অনেক অনেক সিনিয়র হবেন, তবুও মনে হচ্ছিল
আমাদের অন্তরংগ বন্ধুর মত। রাস্তা জুড়ে মনে আরো অনেক জল্পনা-কল্পনা
করছিলাম। অবশেষে উনার বাসায় পৌছলাম।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (4টি রেটিং)

স্বপ্ন দেখব বলে দুচোখ পেতেছি...

সারকেডিয়ান রিদম আমার অনেক আগেই চেইঞ্জ হয়ে গিয়েছে। তাই রাত জাগা পাখির মত
নিয়ত জেগে থাকা নিয়ত অভ্যাসে দাড়িয়েছে। আর রাত জেগে পড়ার সুবাদে এই অভ্যাস
আরো বেশি পাকাপোক্ত হয়েছে।
রাতের দৃশ্য দেখছিলাম। কি যেন মায়ার বন্ধনে জড়িয়ে যাচ্ছিলাম ক্রমাগত।
জানালার ওপাশে ফ্লাইওভারে সোডিয়াম বাতির আলোতে সবকিছুকে আরো বেশি মায়াবী
করে তুলছিল। মাঝে মাঝে দুই একটা গাড়ি যাচ্ছে,সাথে সাথে প্যা প্যা
ধ্বনি...ফ্লাইওভারের অপর পাশেই পাঁচতলা একটি সাদা বাড়ি। সোডিয়াম বাতির আলোর
প্রতিফলনে সাদা বাড়িকে ঠিক যেন আলিফ লায়লার কোন ভুতড়ে বাড়ি বলে মনে
হচ্ছিল। জানালার ওপাশের দৃশ্যের একটি ফ্লোচার্ট করে ফেললাম। ফ্লোচার্ট
হচ্ছেঃ আমার জানালা, বস্তি, ফ্লাইওভার,সাদা পাঁচতলা বাড়ি। অসীম আকাশে তখন
নিকষ নীল অন্ধকারের প্রতিচ্ছায়া।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.8 (5টি রেটিং)
Syndicate content