বিশিষ্ট সাহাবী হযরত মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) পর্ব-৩

দরবারে রিসালাতের সাথে নিবিড় সম্পর্কঃ ইসলাম গ্রহণের পর মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর সার্বক্ষণিক সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। ফলে নবীজীর পক্ষ থেকে তাঁর উপর অর্পিত হয় ওহী লিপিবদ্ধ করার সুমহান দায়িত্ব। আল্লাহর পক্ষ থেকে জীবরাইল ( আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর মাধ্যমে রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) –এর উপর যে ওহী অবতীর্ণ হতো, তা হযরত মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। ( আন-নুজমুজ-যাহিরাহ ফি মুলকি মিছর অয়াল কাহিরাহ খঃ৪,পৃ-১৪৫ , মাজমাউয জাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ খঃ৮,পৃ-২১, আল বিদায়া খঃ৯,পৃ-৩৫৭, আল ইসতিয়াব তাহতাল ইসাবাহ খঃ৩ পৃ-৪৫ )

তাই সাহাবীদের মাহফিলে তাঁর পদবী ছিল ওহী লিপিবদ্ধকারী। এছাড়া দরবারে রিসালাত থেকে প্রেরিত যাবতীয় চিঠিপত্র ও আদেশ ফরমানের মুসাবিদাও তিনি তৈরী করতেন। আল্লামা ইবনে হাজম লিখেছেন-

নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর লেখদের মধ্যে হযরত যায়েদ বিন সাবেত ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) সর্বাধিক হাজির থাকতেন। দ্বিতীয় স্থান ছিল হযরত মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু আনহু )-এর। দিনরাত এদুজন ছায়ার মত নবীজীর সঙ্গে সঙ্গে থাকতেন। এ ছাড়া আর কন দায়িত্ব তাঁদের ছিল না।  ( জাওয়ামিউস সাহীহ পৃ-২৭ )

 

রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জমানায় ওহী লিপিবদ্ধ করার কাজ কেমন নাজুক ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং সেজন্য কতটা নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধ, আমানত ও বিশ্বস্ততা এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রয়োজন ছিল, আশা করি তা বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। এই সার্বক্ষণিক সেবা ও দায়িত্বপূর্ণ খেদমত এবং অতুলনীয় জ্ঞান ও প্রজ্ঞাসহ আল্লাহপ্রদত্ত বিভিন্ন গুণ যোগ্যতার কারণে তিনি ছিলেন রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর অতি প্রিয়পাত্র। ফলে নবীজীর যে পরিমাণ দুয়া ও স্নেহ তিনি লাভ করেছেন খুব কম সাহাবীরই সে সৌভাগ্য হয়েছিল। তিরমিজী শরীফে বর্ণিত হয়েছে নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) একবার তাঁকে এভাবে দুয়া করেছেন-

হে আল্লাহ তাঁকে পথ প্রদর্শক ও পথপ্রাপ্ত করে দাও এবং তাঁর মাধ্যমে মানুষকে হেদায়াত দান করো।                                                  জাওয়ামিউস সাহীহ খঃ২ পৃ-২৪৭ )

অন্য হাদীসে এরশাদ হয়েছেঃ

হে আল্লাহ! মুয়াবিয়াকে হিসাব ও কিতাবের জ্ঞান দান করো এবং ( জাহান্নামের ) আযাব থেকে তা৬কে রক্ষা করো। ( উসদুল গাবাহ খঃ৪ পৃ-৩৮৬ )

অদূর ভবিষ্যতে হযরত মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু আনহু )-এর হাতে যে ইসলামী উম্মাহর দায়িত্বভার অর্পিত হবে সে সম্পর্কে স্বয়ং নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেনঃ

একবার আমি নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর জন্য ওযুর পানি নিয়ে গেলাম। সে পানি দিয়ে তিনি ওযূ করলেনএবং ওযূর পর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন মুয়াবিয়া! তোমার হাতে যদি শস ক্ষমতা অর্পিত হয় তাহলে তখন তুমি আল্লাহকে ভয় করে চলবে এবং ইনসাফ কায়েম করবে। এ হাদীস বর্ণনার পর হযরত মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) বলেন, রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )-এর এই এরশাদের কারণে আমার বদ্ধমূল ধারণা হল যে, অবশ্যই আমি এ পরীক্ষার সন্মুখীন হব। শেষ পর্যন্ত তাই হল।  ( আল ইসাবাহ পৃ-৪১৩ )

দরবারে রিসালাতে হযরত মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু )-এর কি পরিমাণ মর্যাদা ছিল, আল্লাহর রাসূলের প্রতি তাঁর ইখলাস ও ভালবাসা কত গভীর ছিল তা উপরোল্লিখিত রেওয়াত গুলো থেকেই সুস্পষ্ট হয়ে উঠে।

অন্য এক রেওয়াতে তো এমনও বর্ণিত আছে যে, নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) আবু বকর ও হযরত উমর ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু )-কে ডেকে পাঠালেন। কিন্তু তাঁদের পরামর্শ সন্তোষজনক হল না। তখন নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এরশাদ করলেন, মুয়াবিয়াকে ডেকে বিষয়টি তাঁর সামনে পেশ কর। কেননা সে ( পরামর্শ দানে ) সক্ষম এবং ( পরামর্শ দানের ক্ষেত্রে ) বিশ্বস্ত।  ( মাজমাউয জাওয়াইদ খঃ৯ পৃ-৩৫৬, অবশ্য হাদীসটির সনদে কিঞ্চিত আপত্তি র‍য়েছে )

আল্লামা হাফেয যাহাবীও অনুরূপ এক হাদীস বর্ণনা করেছেন।

নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) হযরত মুয়াবিয়া ( রাদিয়াল্লাহু আনহু )-কে এক সওয়ারিতে নিজের পিছনে বসিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। কিছুদূর গিয়ে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, মুয়াবিয়া তোমার দেহের কোন অংশ আমার দেহের সাথে মিশে আছে? তিনি আরয করলেন হে আল্লাহর রাসূল! আমার পেট (ও বুক) আপনার পবিত্র দেহের সাথে মিশে আছে। নবী করীম ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) তখন দুয়া দিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! সেটাকে এলেম দ্বারা পূর্ণ করে দাও।

                                                                                 ( তারীখুল ইসলাম খঃ২ পৃ-৩১৯ )

পরবর্তী লেখায় সাহাবাদের দৃষ্টিতে তিনি কেমন ছিলেন তা আলোচনা করা হবে ইনশাল্লাহ।

 

 

 

 

 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.2 (5টি রেটিং)

শুকরান জিদ্দা।।

সাহাবীদের নামের আগে হজরত লাগানোর কি দরকার?

হযরত নামটি সম্মান প্রদ্রর্শনের জন্যই মূলত মহান ব্যাক্তিত্বদের পূর্বে যোগ করা হয়....................................

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.2 (5টি রেটিং)