কি সুন্দর এই পৃথিবী! চোখ জুড়ানো বিস্তীর্ণ শ্যামল শস্য ক্ষেত।



আমাদের ব্লগার ইকবাল আহমেদ ভাই

!

শিশুদের বিস্কুট দৌড়ের দৃশ্য
খাবার সংগ্রহে লাইন


অন্ধের হাড়ি ভাংগা খেলা


অন্ধের হাড়ি ভাংগা খেলা


কিশোরদের মেধা যাচাই
কৌতুকাভিনয়


কৌতুকাভিনয়
শিশুদের উপস্থাপনা

কৌতুকাভিনয়


পুরস্কার বিতরণী

ভ্রমন করলাম কাতারের ওয়াকরা গার্ডেন    কি সুন্দর এই পৃথিবী! চোখ জুড়ানো বিস্তীর্ণ শ্যামল শস্য ক্ষেত। গাছের ডালে ডালে রঙ-বেরঙের ফল ফুল, তারই মাঝে রঙ-বেরঙের পাখ-পাখালি প্রজাপতির মনভোলানো খেলা। মন জুড়িয়ে যায় বিরাট আকাশটার দিকে তাকিয়ে থেকে।

 মেঘের কোলে ভেসে বেড়াচ্ছে স্বাধীন ডানা মেলা পাখিরা, রোদ হাসছে ঝিকমিক। কি সুন্দর! কি সুন্দর এই সৃষ্টি! কি বিরাট বিষ্ময়কর এই সৃষ্টি! সৃষ্টির এই সৌন্দর্য উপভোগ করে শেষ করা যায় না। এর সীমা-সংখ্যা গুণে শেষ করা যায় না। বিশ্বের প্রতিটি অণু-পরমাণু মেনে চলছে আল্লাহর আইন। এই শৃংখলার কোন ব্যতিক্রম নেই।

  দিনটি ছিল জুম্মাবার।হঠাৎ কামরুল ইসলাম ভাইয়ের ফোন আসলো। আমি সালাম দিলাম সে হাসতে হাসতে বল্ল আমরা আগামি জুম্মাদিন ভ্রমনে যাব। আমি একথায় স্বাত যানালাম। অনুমানিক এক ঘন্টা পরে ব্লগার মাহমুদ১২ ভাইকে ফোন দিলাম। সে ওহাসার জন্য কিছুই বলতে পারছেন। আমি বল্লাম কামরুল ভাই কিছুক্ষন আগে ফোন দিয়েছিল আমার কাছে।এ যেন এক প্রতিযোগিতার ফালা। যেনো ভালবাষার বন্দন, কে কার আগে আমাকে জানাবে।গত সমবারে আমাদের ব্লগার জানাব নজরুল ইসলাম ভাই ও জানিয়ে দিলেন জুমুয়াবারে পিকনিক। বুধবার রেজিস্টেশনের শেষ সময়। আসলে এ ভ্রমনটা প্রবাসি ভাইদের ইসলামি জ্ঞান সার্বিক মান উন্নয়ন দিতেই কর্তৃপক্ষের এ প্রচেস্টা।এক কথায় শিক্ষার জন্যই আমাদের সফর।

   ভ্রমণ কার না ভাল লাগে! নিশ্চয় ভালো লাগে সবার। এক্ষেত্রে নেতিবাচক জবাব দেয়ার মতো কেউ থাকার কথা না। কারণ ভ্রমণের মজাটাই আলাদা। বন্ধুদের সঙ্গে ইচ্ছেমত ঘুরে বেড়ানোর মাঝে কী যে মজা, যে কোন দিন ঘুরে বেড়ায়নি তার পক্ষে বুঝে ওঠা কখনই সম্ভব না; যে চোখ তা কোন দিন পর্যবেক্ষণ করেনি তার পক্ষে শান্তনা-প্রশান্তির নীড় খুঁজে পাওয়া কোনভাবেই সম্ভব না। এ যেন এক হারানো মানিক খুঁজে পাওয়া। আমরা যারা প্রবাসি তাদের জীবনে এ ভ্রমণের গুরুত্ব আরো অনেকগুন বেশি ।আমাদের এসফরটা আসলে শিক্ষা সফর ।শিক্ষা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একই সাথে এটি সারা জীবনের জন্য একটি স্মৃতির স্মারকও বটে। ভ্রমণের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে আলকুরআন বলছে :‘বল,তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর। অতঃপর দেখ পূর্ববর্তীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছিল’। তাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক। (সূরা : আর-রূম, আয়াত- ৪২)‘বল, তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর তারপর দেখ, অস্বীকারকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছে।’ (সূরা : আল্আনআম, আয়াত-১১) ভ্রমণে আল্লাহর অসংখ্য সৃষ্টি ও অপরূম মহিমার সোনালি চিত্র ফুটে ওঠে চোখের সামনে। শুনা যায় প্রবাল, পাথর, ঝিনুক-শামুকের মুখে এক আল্লাহর জিকির ধ্বনি। চোখের সামনে ভেসে ওঠে যুগে যুগে যালিম, মুশরিকদের পরিণতির বাস্তব চিত্রও। আল্লাহর এ অপরূপ সৃষ্টি দেখার পরেও যারা প্রভুর সামনে নিজেদের শীর নত করতে পারেনি তাদের মত হতভাগা আর কে থাকতে পারে! 

  ভ্রমণপ্রিয় মানুষের কাছে ভ্রমণের স্থান হিসেবে কাতারের ওয়াকরা গার্ডেন টা ও গুরুত্ব সম্পূর্ই। তবে একাকি ভ্রমণের চেয়ে গ্রুপ ভিত্তিক ভ্রমণের মজাটা অনেক বেশি। অনেকের কাছে আবার ভ্রমণ মজাদার নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে নানান কারণও রয়েছে। ভ্রমণ মজাদার হওয়ার জন্য সময় ও স্থান নির্বাচন করাটা একটা বড় বিষয়। সময় উপযোগী যথার্থ স্থান নির্বাচন করতে পারলে ভ্রমণ ভাল লাগারই কথা। ভ্রমণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মজাদার স্থানের মধ্যে কাতারের আল খোর গর্ডেন,অয়াকরা গার্ডেন। পছন্দনীয় এ স্থানগুলো নির্বাচন করতে মোটেও ভুল করিনি আমাদের ভ্রমণের দাইত্তসিল গন।

  আগে থেকেই এখানে জায়গা নির্ধারণ করে নিতে হল। আমাদের প্রায় সবারই এটাই প্রথম ওয়াকরা গার্ডেনে ভ্রমণ।ওয়াকরা গার্ডেন ভ্রমণ যে এত্ত মজার তা নিজে না করলে বলে বোঝানো যাবে না। এখানে সব ব্যবস্থাই আছে। যেন একটা বাড়ি। আমাদেরকে রিসিভ করতে আগে থেকেই এখানে এসে উপস্থিত। আগের বন্দুরা তাদের আন্তরিকতায় মনে হলো এ যেন জান্নাতি পরিবেশ।৮টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই কর্মব্যস্ত লোকগুলো সকল কাজ আনজাম দিয়ে যথাস্থানে যোগদান করে একটু আনন্দ উপভোগ করার জন্য। শিশু, কিশোর যুবক, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সব বয়সের পুরুষ/মহিলা যোগদান করে ভ্রমনে। যথা সময়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ রশীদ চৌধুরী সহ-সভাপতি জুবের আহমদ চৌধুরী পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী হাফেজ আনোয়ারুল ইসলাম। বিভিন্ন্য খেলা দুলার দায়িত্ব পালন করেন সোনার বাংলাদেশ ব্লগের বিশিষ্ট লেখক রেজাউল করিম ,গোলাম হোসেন ভাইসহ আরো কয়েকজন। এবার শুরু হলো মাইকে ঘোশনা ৯টায় আপনাদের নাস্তা। ড্যলিগেট ১১৫৬ জন ।নাস্তা সেড়ে খেলা শুর হল বস্তা দোড়,হাড়ি ভাগ্গা,বিস্কেট দোড় বাচ্চাদের, খেলার পাকে পাকে সবাই কখন কোথায় যাবো তার পরিকল্পনা। শেষে সিদ্ধান্ত হলো গার্ডেনটা ঘুরে ঘুরে দেখার। এত দীর্ঘ পথ যার বিবরণ দেয়া সংক্ষিপ্ত পরিসরে সম্ভব নয় তবে এতটুকু বলা যায় যে ভহু সময় পার হতে হয়, যা আমাদের জন্য বেদনার হলেও প্রতীক্ষমাণ সেই গার্ডেন পৌঁছার পর সব ভুলে গেলাম। আরো শুভাস চড়াতে থাকে!

 এত সুন্দর, অপরূপ সৃষ্টির মাঝখান থেকে বিদায় নেয়াটা একটু কঠিনই বটে।

 তারপর সব মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে চলে এলাম ডিউটিতে।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.3 (3টি রেটিং)

বিদেশের মাটিতে এক চিলতে বাংলাদেশ।আপনার অসাধারণ লেখনীর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

সালাম

লেখাটি পড়ে ভাল লাগলো। অন্যরকম ভাল লাগা।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

হুম, প্রবাসে বিশেষ করে আরব দেশগুলোতে যেমন বছরে প্রা‌য় দু'একবার বৃষ্টি এসে মরুর বুকটা ঠান্ডা করে দিয়ে যায়, তেমনি বছরে দু'একটি এরূপ ভ্রমণ/শিক্ষা সফর/পিকনিক আমাদের প্রবাসীদের বুকটা ঠান্ডা করে দেয়।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

কান্দন ছাড়া কোন উপায় খুজে পাচ্চিনা। কারন ছবি বড় আকারে পোস্ট করতে পারচ্ছিনা।মুডুরাকি কিছু বলবেন।

(বনভোজন ২০১২)কাতারের আল ওয়াকরা গার্ডেন!http://sonarbangladesh.com/blog/TAHER2011/93728 যাহারা আরো ছবি দেখতে চান এখানে চলে আশুন।

নতুন মন্তব্য করুন

The content of this field is kept private and will not be shown publicly.
Smileys
:);):(:D}:):P:O8)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.3 (3টি রেটিং)