রাশিয়ায় ইসলামের অব্যাহত অগ্রযাত্রা

Normal
0

false
false
false

MicrosoftInternetExplorer4

st1\:*{behavior:url(#ieooui) }

/* Style Definitions */
table.MsoNormalTable
{mso-style-name:"Table Normal";
mso-tstyle-rowband-size:0;
mso-tstyle-colband-size:0;
mso-style-noshow:yes;
mso-style-parent:"";
mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
mso-para-margin:0in;
mso-para-margin-bottom:.0001pt;
mso-pagination:widow-orphan;
font-size:10.0pt;
font-family:"Times New Roman";
mso-ansi-language:#0400;
mso-fareast-language:#0400;
mso-bidi-language:#0400;}

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়ায় ইসলাম ক্রমশ বিস্তার লাভ
করছে। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে
বলশেভিক বিপ্লবের পর রাশিয়ায় সব ধর্ম
ও ধর্র্মীয় কর্ম নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। মসজিদ, ধর্মীয় উপসনালয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো হয়তো ভেঙ্গে ফেলা হয়
নয়তো অফিস বা গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নাস্তিক কমিউনিষ্টদের নিবর্তন মূলক শাসনের ফলে রাশিয়ায় ইসলাম
ধর্ম ৭০ বছর যাবত প্রকাশ্যে বিকশিত হতে পারেনি। ইসলামের প্রচার-প্রসার, দাওয়াত ও তাবলীগ সাময়িক
ভাবে বন্ধ থাকে। রুশ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুশাসন ও সাংস্কৃতিক রীতি-নীতি পালন স্থগিত হয়ে যায়। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন পাশ
হলে ইসলাম তার অন্তর্নিহিত সব শক্তি নিয়ে আবার জেগে উঠে। বর্তমানে ১৪ কোটি ২০ লাখ রুশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে
শক্তিশালী মুসলমানের সংখ্যা হচ্ছে প্রায় ২০ লাখ।

পরিবর্তিত পরিস্থিতি
মুসলমানদের অনুকুলে হলেও বেশ কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। বর্তমানে শত শত মুসলিম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
ও ধর্মীয় বিদ্যালয় সরকারের সংশিষ্ট বিভাগে নিবন্ধিত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বিপুল পরিমানে
নতুন মসজিদ নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে কাজান ক্রেমলিনে নির্মিত কুল শরীফ মসজিদ অন্যতম। এটা রাশিয়ার বুকে মুসলিম রেনেসাঁর বড় প্রতীক
হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। একই স্থানে একটি পুরনো মসজিদ ছিল যা ভয়ংকর সন্ত্রাসী জার আইভানের সেনা বাহিনীর
হাতে বিধ্বস্ত হয়। মস্কোর প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত Poklonaja gora নামক স্থানে একটি
স্মরণীয় মসজিদ নির্মিত হয়। এতে প্রতিদিন রেকর্ড সংখ্যক মুসলমানের সমাগম ঘটে। স্বায়ত্বশাসিত প্রজাতন্ত্রের রাজধানী গুলোতে
যেখানে মুসলমানগন সংখ্যাগরিষ্ট, বহু সংখ্যক নতুন মসজিদ গড়ে উঠে। বিশেষ করে Bashkaristan এর রাজধানী Ufa, Udmurtia এর রাজধানী Izhevsk, Adygia এর রাজধানী Maikop গড়ে উঠা মসজিদ গুলো
যেকোন মানুষের নজর কাড়ে।

ইসলামী শিক্ষা ও বিজ্ঞানের
ঐতিহ্য যদিও হারিয়ে গেছে তারপরও রাশিয়ার মুসলমানরা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের
জন্য প্রানপন প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। সউদী অর্থ সহায়তায় ইতোমধ্যে কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে
উঠেছে। জার ও বলশেভিক শাসনামলে
সরকার নিয়োজিত একজন মুফতী মুসলিম বিষয়াবলি দেখা শুনা করতেন। তিনি মূলত এজন সরকারী কর্মকর্তা। গর্বাচেভের ধর্মীয় স্বাধীনতা নীতির (Perestroika) ফলে তাতারিস্তান,
উত্তর ককেশাস ও মস্কোতে
নতুন স্বাধীন মুফতীর আবির্ভাব ঘটে। পরবর্তীতে শায়খ রাভিল যায়নুদ্দীনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় মুফতীদের
কেন্দ্রীয় কাউন্সিল গঠিত হয়। কাউন্সিল সরকারী প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রীয় গণ মাধ্যম, দেশ-বিদেশের ইসলামী
সংগঠন ও সংস্থার সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ বজায় রেখে চলেন। সম্প্রতি ‘The Social Doctrine of Russian Muslims’  শীর্ষক একটি প্রামান্য দলীল বেরিয়েছে। বর্তমানে তাতার, বাশকির, চেমেনিয় ছাড়াও রাশিয়ার স্থানীয় অধিবাসীগন
ব্যাপকভাবে পবিত্র কুরআন চর্চায় এগিয়ে এসেছেন। এটা রুশ সমাজে ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশে তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা
রাখছে।

এতে কোন সন্দেহ নেই
যে, যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণ,
ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা,
সুদমুক্ত অর্থনীতির
বিকাশ, হালাল ব্যবসার প্রচলন, ইসলামী সংবাদপত্র প্রকাশ, রেডিও-টিভি চ্যানেলের ব্যবহার এবং ইসলামী
শিক্ষার প্রবর্তনের ক্ষেত্রে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ¬াদিমির পুতিন এক টিভি
সংবাদ সম্মেলনে বলেনঃ

‘Islam is a great world religion rooted in the history of Russia,
Islam and Christianity are very close, and our Government should support the
Muslims organizations.’

 

 ‘ইসলাম রাশিয়ার ইতিহাসের গভীরে প্রোথিত একটি বিরাট বিশ্বধর্ম। ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্ম অত্যন্ত ঘনিষ্ট এবং আমাদের
সরকার মুসলিম সংগঠন গুলোকে সহায়তা দিয়ে যাবে।’

 শিক্ষা ব্যবস্থা :

রাশিয়ায় ইসলামী শিক্ষার
ইতিহাস বড়ই করুন ও মর্মবিদারী। সমাজতান্ত্রিক সরকার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহ দখল করে ফেললে  বিদগ্ধ মুসলিম পন্ডিতদের হয়তো হত্যা করা হয় নয়তো
কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। প্রায় অধিকাংশ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। উনবিংশ শতব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে
কিছু কিছু ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। বলশেভিকগন এমন একটি নাস্তিক্যবাদী রাষ্ট্রের
গোড়া পত্তন করেন যা আধুনিক ইতিহাসে এই প্রথম। কেবল ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় বরং সব
ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার বন্ধ করে দেয়। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় নাস্তিক্যবাদী রাজত্বের অবসান ঘটলে ধর্মীয় স্বাধীনতা
পূণরুজ্জীবিত হয়। বর্তমানে রাশিয়ার মুসলমানগন নানা অসুবিধা স্বত্ত্বেও ইসলামী শিক্ষা পূণ প্রবর্তনের
প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। দক্ষ শিক্ষকের অভাব বর্তমানে অত্যন্ত প্রকট। রাশিয়ার মুসলিম ছাত্রদের সুশিক্ষিত করার জন্য
বিদেশী বিশেষায়িত পন্ডিত ও উচ্চশিক্ষিত শিক্ষক দরকার কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বিদেশী শিক্ষকদের
বেতন-ভাতা দেয়ার মত আর্থিক সঙ্গতি স্থানীয় মুসলমানদের নেই। অপর দিকে সাইবেরীয় অঞ্চলের তীব্র শৈত্য প্রবাহ
ও রূঢ় আবহাওয়ার কারণে বিদেশী শিক্ষকগন রাশিয়ায় আসতে আগ্রহী নন।

বর্তমানে রাশিয়ায় গড়ে
উঠা গুরুত্বপূর্ণ ধমীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে রয়েছে মস্কো মুসলিম কলেজ,
রাশিয়ান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,
কাজান মুহাম্মদীয়া
মাদ্রাসা ও বুগুরুসলান মাদ্রাসা। এছাড়া দাগিস্তান ও ইঙ্গুশেটিয়ায় অনেক ছোট ছোট মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত
হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
স্থায়িত্ব ও সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য মুসলিম উম্মাহর সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

 জনসংখ্যার ক্রমাবনতি
:

রাশিয়ার জনসংখ্যা বহুবিধ
কারণে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে প্রতিবছর। সরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী নতুন শিশু জন্মের
তুলনায় জনগনের মৃত্যুরহার  বাৎসরিক প্রায় ১০ লাখ। বর্তমানে রাশিয়ায় জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি
২০ লাখে। ইদানিংকালে কোন ব্যাপক
যুদ্ধ বা মহামারীর প্রকোপ না থাকা সত্ত্বেও কেন জনসংখ্যার ক্রমানবতি ঘটছে? এ প্রশ্ন একান্ত সঙ্গত। রাশিয়ার অধিকাংশ জনগন প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর
পর্যায় পর্যন্ত নাস্তিক্যবাদী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীক্ষিত হওয়ার কারণে আল¬াহর উপর বিশ্বাস ও
পরকালীন  জীবনের উপর তাদের আস্থা নেই। ফলে তাদের জীবন হয়েছে অনিয়ন্ত্রিত ও লাগামহীন। মাত্রাতিরিক্ত নারী লোলুপতা, বিলাসিতা, মাদকাসক্তি ও ধুমপান
তাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষিত করে দিয়েছে। স্লাভ জনগোষ্ঠী অর্থাৎ রাশিয়ান, ইউক্রেনিয়ান,
এবং বেলোরাশিয়ানদের
মধ্যে চারিত্রিক অধঃপতনের মাত্রা অত্যধিক।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের
পর অধিকাংশ জনগণ নিদারুন অর্থনৈতিক
সংকটে নিপতিত হয়। তাদের জীবনধারা সমস্যা সংকুল হয়ে পড়ে। অনেকে আর্থিক টানাপোড়েন সহ্য করতে না পেরে পাশ্চাত্যে পাড়ি জমায়। ১৫ লাখ ইহুদী উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় রাশিয়া
ত্যাগ করে ইসরাঈলে বসতি গড়ে তোলে। এসব বাস্তুত্যাগী ইহুদীরা ফিলিস্তিন জনগনের প্রতি নির্মম অমানবিকতা
ও নির্দয় পৈশাচিকতার নজীরবিহীন তান্ডব চালায়। এর কারণ হচ্ছে এসব ইহুদীরা রাশিয়ার     সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়া-লেখা এবং
খোদাদ্রোহী সমাজে বেড়ে উঠার কারণে তাদের মাঝে মহৎ ও 
মানবিক গুনাবলির উন্মেষ ঘটেনি।

অপর দিকে রাশিয়ায় মুসলিম
জনসংখ্যার হার ক্রমশঃ বৃদ্ধি পেতে চলেছে। বিভিন্ন নৃতাত্বিক মুসলিম গোষ্ঠী বিশেষতঃ তাতার, উত্তর ককেশাস ও দাগিস্তান
বংশোদ্ভুত স্থানীয় জনগনের মাঝে জন্মহার বেশী। ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধ মেনে চলার
ফলে রাশিয়ার মুসলমানদের জীবনধারা সুশৃংখল ও সুনিয়ন্ত্রিত। অনেক নৃতাত্বিক স্লাভ গোষ্ঠী সুস্থ জীবনধারার সন্ধানে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছেন। এটা সন্দেহাতীতভাবে ইসলামের ক্রমবিকাশ ধারায়
ইতিবাচক অগ্রগতি। সমাজতত্ত্ববিদগন পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, জনসংখ্যা বিষয়ক এ প্রবনতা (Demographic
Trend) যদি আগামী দিনগুলোতে অব্যাহত থাকে তাহলে ২০৫০ খ্রিষ্টাব্দে রাশিয়ায় মুসলিম জনসংখ্যার
হার ১৫%  থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫১% এ উন্নীত হবে। বর্তমানে রাশিয়ান ফেডারেশনে মুসলমানদের সংখ্যা
দু’কোটি।

 নেতিবাচক প্রচারণা
:

ইঙ্গ-মার্কিন ইহুদী
চক্র সারা দুনিয়া ব্যাপী ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে নেতিবাচক প্রচারণা ও মিডিয়া
আগ্রাসন চালাচ্ছে রাশিয়ার মুসলমানগনও সে একই বৈরিতার শিকার। ১১ই 
সেপ্টেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘টুইন টাওয়ার’ ধ্বংসের ঘটনায় রাশিয়ার সংবাদপত্র,
রেডিও এবং টিভি চ্যানেলগুলো
আমেরিকা ও ইহুদী প্রপাগান্ডায় প্রভাবিত হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিষোদগার
করতে থাকে।
প্রচারণায় তাঁরা ‘ক্রুসেড’ ‘সভ্যতার দ্ব›দ্ধ’ ‘ইসলামী সন্ত্রাসবাদ’
ইত্যাকার শব্দসম্ভার
বারংবার ব্যবহার করতে থাকেন। মস্কোর জনপ্রিয় সংবাদপত্র ‘প্রাভদা’ র (Demographic Trend) প্রথম পাতায় প্রকাশিত একটি শিরোনাম ছিল-
‘Beat
the real Islam, Save the world’ ‘সত্যিকার ইসলামকে আঘাত করো, বিশ্বকে বাঁচাও’।

কতিপয় অতি উৎসাহী সরকারী কর্মকর্তা
রাশিয়ার মুসলিম সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে অনুসন্ধান চালায় এবং কাগজপত্র,
দলীল-দস্তাবেজ পরীক্ষা
করে দেখেন।
সন্দেহের বশবর্তী হয়ে
বহু মুসলিম সংগঠনের কার্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়। এহেন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জুমা মসজিদের ইমাম
ও খতিবগন সম্মিলিতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে সাক্ষাত করে ইসলামের শান্তিপূর্ণ চেতনা
সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন। ২০০২ সালে মস্কোতে অনুষ্ঠিত ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইসলাম’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক
সেমিনারে তাঁকে দাওয়াত প্রদান করা হয়। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে ঘোষনা দেন যে, ইসলাম ও সন্ত্রাসবাদ
সমার্থক নয় বরং পরোপুরি উল্টো।

দূর্ভাগ্যজনক ভাবে
সাধারণ মানুষ ইহুদী লবি ও মার্র্কিন পন্থী গনমাধ্যম দ্বারা এখনো প্রভাবিত। মুসলমানগন সরকারী কর্মকর্তা ও গনমাধ্যমের
ইসলাম বিরোধী প্রচারণার জবাবে সতর্ক ও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইসলামের খিদমত ও সেবাব্রতকে সামনে রেখে পেশাদার
সাংবাদিক ও গনমাধ্যম কর্মীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষন দেয়ার লক্ষ্যে মুসলিম সাংবাদিক ইউনিয়ন
গঠিত হয়েছে।  স্মর্তব্য যে, ১১ই 
সেপ্টেম্বরের দূর্ঘটনা  রাশিয়ার বহু
মানুষের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। দাওয়াতী কর্মীগন এ সুযোগকে কাজে লাগাতে ভুল
করেননি।

 ভয়েস অব ইসলাম :

মস্কোর অর্থডক্স খ্রিষ্টান
গীর্জার প্রধান রাষ্ট্র পরিচালিত মস্কো রেডিওতে একটি ইসলামিক প্রোগ্রাম পরিচালনার ইচ্ছে
পোষন করেন যাতে বিপুল সংখ্যক রুশ মুসলমান তাঁদের নিজেদের ধর্ম সম্পর্কে সম্যক জানতে
পারেন এবং রাশিয়ায় বিভিন্ন ধর্মীয় গ্র“পের মধ্যে যাতে পারস্পরিক সম্পর্ক নিবিড় হয়। জান্নাত সার্জে মার্কোস নামক এক নও মুসলিমের
তত্ত্বাবধানে ‘ভয়েস অব ইসলাম’ নামে মস্কো রেডিওতে একটি সাপ্তাহিক প্রোগ্রাম চালু করা হয়। উক্ত রেডিওর মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের তাফসীর,
হাদীসের ব্যাখ্যা,
শান্তি-শৃংখলা রক্ষায়
ইসলামের অবদান, ইসলামে সন্ত্রাসের স্থান নেই, বিভিন্ন জাতি, ভাষা ও ধর্মীয় গ্রুপের মাঝে সৌহার্দ্য সৃষ্টিতে ইসলামের ভূমিকা বিষয়ক প্রোগ্রাম
নিয়মিত প্রচার করা হয়। এসব প্রোগ্রামে রাজনীতি বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্ব ও সাংবাদিকতা বিষয়ে পারদর্শী ইসলামী পন্ডিতবর্গ অংশ
গ্রহণ করে ইসলাম সম্পর্কে
প্রচলিত ও প্রচারিত ভুল ধারণা অপনোদন এবং ইসলামের শাশ্বত সৌন্দর্য শ্রোতাদের মাঝে তুলে
ধরেন।

ভয়েস অব ইসলামে অংশ
গ্রহণকারী পন্ডিতগণ মস্কো রেডিওর ছ’ কোটি শ্রোতাদের একথা বুঝাতে চাচ্ছেন যে,
ইসলাম অধঃপতিত,
সৃজনীশক্তিহীন ও সন্ত্রাসী
কোন ধর্ম নয় বরং জীবন্ত, কার্যকর ও শান্তির ধর্ম। আইরিশ প্রোট্যাস্ট্যান্টগন যখন উত্তর আয়ারল্যান্ডের
স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে, বাস্কুরা যখন স্পেনে স্বাধীকার আদায়ে লড়াই করে অথবা তামিল টাইগাররা
যখন শ্রীলংকায় স্বাধীন ভূমির জন্য যুদ্ধ করে তখন কেউ তাদেরকে খ্রিষ্টান, ক্যাথলিক ও হিন্দু
সন্ত্রাসবাদী বলেনা। পক্ষান্তরে মুসলমানরা যদি কোথাও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে তাদের মুসলিম সন্ত্রাসবাদী
হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।  ইচ্ছাকৃত এ মিথ্যা প্রপাগান্ডার উদ্দেশ্য
হচ্ছে একশ’ পঞ্চাশ কোটি মুসলমানদের মধ্যে ভীতি ও বিদ্বেষ ছড়ানো এবং মুসলিম দেশ সমুহের সম্পদ
লুন্ঠনের ঔপনিবেশিক প্রক্রিয়াকে অব্যহত রাখা।

অধিকন্তু ‘Islam Minber’, ‘All About Islam’ I ‘Svremenja
Misl’  নামক সংবাদপত্র ও সংবাদ সাময়িকীর মাধ্যমে
ইসলামী জীবনাচার, সংস্কৃতি, সাহিত্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রুশ জনগনের মাঝে তুলে ধরা হয়। সাম্প্রতিক কালে রাশিয়ার মুফতী কাউন্সিল একটি
ওয়েব সাইট খুলেছেন, যার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীগন সংশি¬ষ্ট বিষয়ে বিপুল তথ্য-উপাত্ত গ্রহন করতে পারেন। ইমাম ভ্যালেরিয়া প্রখোভা নামক একজন রুশ মহিলা
কর্তৃক অনুদিত পবিত্র কুরআন ও তার ধারাভাষ্য রাশিয়ার জনগনের মাঝে আল্লাহ তা’লার মহান বাণী অধ্যয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব
ফেলেছে। এটা রুশ ভাষায় লিখিত
পবিত্র কুরআনের প্রথম নির্ভরযোগ্য তরজমা ও তাফসীর। এ রুশ মহিলা একজন আরবকে বিয়ে করে দীর্ঘদিন
দামেস্কে ছিলেন। সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতী পবিত্র কুরআনের অনুবাদ ও ভাষ্য রচনায় তাঁকে প্রভূত সহায়তা
দান করেন।

 তথ্যসূত্রঃ মুসলিম
ওয়ার্ল্ড লীগ জার্ণাল, মক্কা।

 

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

sl

 

সূরা আছ-ছফ (৬১)

তারা মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ তাঁর আলোকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।

তিনি তাঁর রসূলকে পথ নির্দেশ ও সত্যধর্ম নিয়ে প্রেরণ করেছেন, যাতে একে সবধর্মের উপর প্রবল করে দেন যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।

 

http://www.sotterpath.com/2011/07/%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%9B-%E0%A6%9B%E0%A6%AB-%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6/

নতুন মন্তব্য করুন

The content of this field is kept private and will not be shown publicly.
Smileys
:);):(:D}:):P:O8)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)