বাংলাদেশ থেকে দুই ধরনের মানুষ বিদেশে যায় দক্ষ আর অদক্ষ । অদক্ষদের মধ্যেই অপরাধ প্রবণতা বেশী দেখা যায় । কিছুদিন আগে সৌদি আরবে ৮ জন বাঙ্গালীর শিরোচ্ছেদ হলে অনেকেই মায়াকান্না শুরু করে এমনকি কতিপয় ব্যক্তিতো রাজপথে বুক চাপড়িয়ে মাতম করেছিল কেউবা বুকে পোষ্টার টাঙ্গিয়ে অভুক্ত থেকে রাজপথে দিশেহারা হয়ে ঘুরতেছিল ! বাংলাদেশী নাগরিক হওয়ায় আমি মনে মনে কষ্ট পেয়েছিলাম বৈকি তাছাড়া সৌদি রাজতন্ত্রকেও সমর্থন করিনা আর মনে করি তাদের বিচার বিভাগ আরো উম্মুক্ত হওয়া উচিত যাতে সবাই তাদের কৃত অপরাধ কিভাবে প্রমাণ হলো জানতে পারে আমরাও বুঝতে পারি যে সত্যি তারা অপরাধ করেছে , তাই সন্দেহাতীত ছিলাম না বলে কারো পক্ষেই কিছু বলার ছিলনা তবে ঠিকই ধারনা ছিল যে তাদের বিচার পদ্ধতি কমপক্ষে আমাদের চেয়ে উন্নত । সেখানে যে টাকা আছে যার বিচার হবেনা তার বা ক্ষমতাসীনদের সাত খুন মাফ এমনটা নয় নিশ্চিত ছিলাম । জিয়া অরফানাজের ২ কোটি টাকার মামলা চলবে কিন্তু শেয়ার বাজারের হাজার হাজার কোটি টাকার মামলার কথা মুখেও আনা যাবেনা আনলেই বেধড়ক মারপিট হবে আবার চোরের গুরুকেই চেয়ারম্যান করা হবে একেবারে এমনটাও না ! তাছাড়াও বাংলাদেশে থাকতেই তারা ছোট থেকেই যা দেখে গেছে ওখানেও হয়ত তাই ভেবে অপরাধ করতে গিয়ে ধরা খেয়েছে এমনটাও হতে পারে । তবে বিচারের শাস্তিপ্রয়োগের নীতিমালার সাথে সম্পূর্ণ একমত ছিলাম । রাতের অন্ধকারে চুরি করে ফাঁসী দেওয়ার চাইতে প্রকাশ্যে শিরোচ্ছেদই যে বেশী কার্যকরী এ ব্যাপারে সন্দেহ ছিল না । যে শাস্তি অন্যকে খারাপ কাজ থেকে দুরে রাখবে সেই শাস্তি কার্যকরইতো সর্বোত্তম পন্থা । বাংলাদেশে প্রতিদিনই পাঁচ ছয়টা খুন গুম হয়েই থাকে সঙ্গে আছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জানা অজানা ধর্ষন চুরি ডাকাতির ঘটনা । এগুলো সংবাদপত্রের পাতা ভর্তি থাকে আর আমরাও পড়ে খুব একটা অবাক হইনা এগুলো যে একেবারেই নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা !
কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না অন্যন্য দেশে এগুলো প্রতিদিন ঘটেনা তাই দুএকটা ঘটলেই সবাই অবাক হয় শঙ্কিত থাকে আর তাই প্রশাসনও উঠেপড়ে লাগে তদন্তে আর রিপোর্ট পাওয়া মাত্রই অপরাধীকে পাকড়াও করে বিচারের জন্য সোর্পদ করা হয় । এ এমন নয় যে আমাদের মতো লোকদেখানো তদন্ত কমিটি ! পারসোনার ঘটনা অনেকেই ভুলে গেছেন এর ৩ জন তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব নিয়েই দারুন হম্বিতম্বি শুরু করলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই সব চুপচাপ কোথায় রিপোর্ট আর কোথায় তদন্ত কর্মকর্তা ! একদিন হঠাত্ একজন মিডিয়ার সামনে হাজির হয়ে হাজির হয়ে ৩২ টি দাঁত বের করে বলল আমি একাই কি করব ! একজন হজ্বে গেছেন আর একজন নারায়নগন্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত ! নির্বাচনের দায়িত্ব দেয়ার মত কি আর কেউ ছিল না আর পারসোনার স্পার টাকায় হজ্ব হয় কিনা আমি জানিনা ! যাই হোক আমাদের অপরাধপ্রবণ মানসিকতার জন্য মূলত দায়ী হলো বিচার বিভাগের দীর্ঘসূত্রতা এবং ক্ষমতাসীনদের বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করার মতো ন্যাক্বারজনক অপচেষ্টা ।
মূল প্রসঙ্গে আসি । যাই হোক সৌদি আরবে শিরোচ্ছেদের পরও নাটক কম হলোনা কেউ কেউ তো বাদশাহরও শিরোচ্ছেদ করার হুমকী দিয়ে বসল কেউ নাট্যমন্চে রক্তাক্ত অভিনয় করল ! আমিও দর্শক ছিলাম অভিনয় ভালো হলেও কেন জানি হাততালী দিতে হাত উঠেনি ! নীরবে চলে এসেছিলাম ।শুধু মনে হচ্ছিল আমাদের দেশে যদি এমন প্রত্যক্ষ শাস্তির ব্যবস্থা থাকত তবে বুঝি ঢাবির মালেক আবু বকর রাজশাহীর নোমানী ফারুক শাহীন ঢাকার মুজাহিদ শীপনদের হারাতে হত না তাদের মায়েদের কোলও খালি হতো না ! কিন্তু আমরা তা করতে পারিনাই বলে আমাদের চোখের সামনে জোবায়েররা আজও ঝড়ে পড়তেছে অবলীলায় ! আর খুনীদের বিচার হওয়াতো দুরের কথা বুক ফুলিয়ে রাজপথে হেঁটে বেড়াচ্ছে আর নতুন খুনের পায়তারা খুঁজছে ! আর এগুলো দেখে দেখে অভ্যস্তরা বিদেশে গিয়েও দেশের যেটুকু সম্মান আছে তাও ডুবিয়েই চলেছে । আজ দেখছি যে দুবাইয়ে শিরোচ্ছেদ তো কাল কুয়েতে শিরোচ্ছেদ । আজ কুমিল্লার ইউএনও নিহত আর অপরাধকারীদের নিয়ে বসতেছেন তো কাল নোয়াখালীর উপজেলার চেয়ারম্যান তাদের নিয়ে বসতেছেন কিভাবে দেশের মান বাঁচানো যায় কত টাকা লাগে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক তবু শিরোচ্ছেদ ঠেকাও আন্দোলন আর এতে অনেকে ক্ষমতাশালী কষ্ট দেখে হয়ত মনে মনে ভাবতেছে ব্যাটা মারবি তো মারবি কুয়েতে কেন এদেশে মারতে পারলি না বেওয়ারিশ লাশ বলে চালিয়ে দেওয়া যাইত আর ২১ লাখ না দুই এক লাখেই সমাধা করে ফেলতাম !
http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?cid=2&id=184133&hb=3
আর এভাবেই ঠাকুরগাঁয়ের সাদিকেরা সাহসী হয় এমনকি নিষ্ঠুর বাবার কাছেও নিরাপদ থাকেনা আপন কন্যা ! মনে হচ্ছে এখন রক্তখেঁকো বাঘের কাছ থেকে বাঁচানোর জন্য বাঘিনী যেমন বাচ্চা নিয়ে গহীন জঙ্গলে যায় আমাদের মায়েদের ও কি অদুর ভবিষ্যতে ঘরবাড়ি ছেড়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিতে হবে !
http://www.karatoa.com.bd/details.php?pub_no=812&val=102927&menu_id=3
উত্তর ভবিষ্যত দিবে । তবে আমরা যদি বর্তমানের কালচার চর্চা করতে থাকি তবে উত্তর যে নেতিবাচক হতে বাধ্য অনায়াসেই বলা যায় ।
হয়ত দেশের কর্তাব্যক্তিরা ভাবছে শিরোচ্ছেদ থেকে অর্থের বিনিময়ে তাদের মুক্ত করে আনলেই বুঝি দেশের সুনাম রক্ষা হবে কিন্তু তা কখনোই বাস্তব নয় বরং এদের মুক্ত করে আনার ফলে ভবিষ্যতে অপরাধপ্রবণতা আরো বেড়েই চলবে এবং বিদেশে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশী পরিচয় দেওয়াই কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে । এক্ষেত্রে জামালের পরিবারই উদাহরন হতে পারে । অপরাধীকে ক্ষমা করার কথা বলতে আসলেই আত্মহত্যা করব । আমার কলিজাছেঁড়া ধনকে যে হত্যা করেছে তার ক্ষমা নাই !
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-01-26/news/219432
ক্ষমা যেন হীন দুর্বলতা ! আমরা ক্ষমা নয় বরং অপরাধীদের শাস্তির মাধ্যমেই অপরাধপ্রবনতা কমিয়ে আমাদের দেশের সুনাম আরো উজ্জল করতে চাই । নাহলে এই পশুগুলোর অপকর্ম সারাবিশ্বে আমাদের প্রিয় ছোট দেশকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দিবে না যে সুনামটুকু আছে তাও ডুবিয়েই ছাড়বে ।
সালাম
ভাল বলেছেন । বাংলাদেশীরা বিদেশে গিয়ে একটার পর একটা খুন করছে আর এখানে কিছু মানুষ দাবী করছে ও আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে লাখ লাখ টাকা পরিশোধ করে দেশের সম্মান বাঁচাতে । এ কেমন সম্মান যা খুনীরা শাস্তি পেলে নষ্ট হয় আর খুনীদের বাঁচালে তা রক্ষা পায় ?
লাখ লাখ টাকা খরচ করে খুনীদের না বাঁচিয়ে আমরা কি নিরপরাধ অসুস্থ মানুষ , কিছু বেকার যুবক , কিছু পথশিশুদের সাহায্য করতে পারি না ?
নতুন মন্তব্য করুন