‘’ ঈদের মূল্যবান বিষয় ও নিয়্যতের গড়মিল’’

পৃথিবীতে সব কিছুরই মূল্য আছে যদি আমরা সে বস্তুর যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারি। মানুষ থেকে ধরে আর যা আছে সবকিছুর। আর পৃথিবীর বস্তুর থেকেও বেশি মূল্যায়ন করতে হবে আমাদেরকে মহান আল্লাহর হুকুম। এর জন্য প্রয়োজনে আমাদের জীবন বিলাতেও কুন্ঠাবোধ করা উচিৎ নয়। জীবনের সব কিছুর চেয়ে আমাদের আল্লাহর হুকুমকে প্রাধান্য দেয়া উচিৎ। এমন কি আদম সন্তানের মূল্যবান জীবন থেকেও।

কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন মূল্যবানই থাকবে। আর কিছু কিছূ বিষয় আছে মানুষও থাকেনা আর তার মূ্ল্যও থাকেনা। এই পৃথিবীতে নিজের জীবনের পরে মূল্যবান হল আল্লার হুকুম ও তার বাস্তবায়ন। আর আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সব রকমের চেষ্টা করতে হবে। হোক না সামান্য, অথবা লোক নজরে কমমূল্য কিন্তু ভেবে দেখতে হবে মহান আল্লাহর


কাছে বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর সে অনুযায়ীই আমাদের জীবনকে পরিচালনা করা উচিৎ। এবং গুরুত্ব সহকারে এসব বিষয় মানতে হলে আমাদেরকে নবী (সঃ) এর জীবনি, সাহাবা আজমাঈন গণের জীবনি ভাল ভাবে পড়তে হবে। এবং সব বিষয়গুলো আগে নিজেকে বুঝতে হবে পরে সে অনুযায়ী বাস্তবে পরিণত করতে হবে। আমরা জানি বোখারী শরীফের ঈমানের অধ্যায়ের সাত নম্বর হাদীসে আছে, হাদীসটি


এমন, উবায়দুল ইবনে মূসা (রাযিঃ) ........ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। ১/ আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর রাসূল এ কথার সাক্ষ্য দান। ২/ সালাত কায়েম করা। ৩/ যাকাত দেয়া। ৪/ হজ্জ করা এবং ৫/ রমাদ্বানে সিয়াম পালন করা।
বোখারী ১ম খন্ড পৃঃ ১৬ হাদীস নং ৭

ঈমান আনার পরেই আমাদের উপর ফরজ হল নামাজের গুরুত্ব দেয়া। আর নামাজ কায়েম করার অর্থ হল সময়মত নামাজ আদায় করা নয় বরং পরিবারে, সমাজে, দেশে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করা। এরপর হল মুসলমানের মালের পবিত্রতা। মানে মালকে আল্লাহর জন্য ব্যয় করা। পরের বিধান হল হজ্জ পালন করা। আর এই হজ্জ পালনের মাঝেই বিদ্যমান আছে কোরবানি করার বিষয়টি। তারপরে পঞ্চম বিষয় হল রমাদ্বান

শরীফে সিয়াম সাধনা করা। আজকের মূল্যবান বিষয় বস্তু হল কোরবানি করা। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং ইসমাইল (আঃ) এর ঘটনা কে না যানে? ঘটনার বিবরন দেয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। আমার উদ্দেশ্য হল শয়তানের ওয়াস-ওয়াসায় ভূলে যাওয়া মুসলমানগণকে কোরবানির ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়া। আমাদের ঐতিহ্যপূর্ণ কোরবানির ইতিহাস মনে করে করে কোরবানি করার জন্য আমাদের মুসলমানদেরকে উৎসাহিত করা।


হিজরি সনের শেষ মাস হল যিলহজ্জ মাস। যিলহজ্জ মাস অত্যন্ত পবিত্রতম মাস। এমাসের নয় তারিখে সমগ্র পৃথিবীর মানুষের মধ্য থেকে যাদেরকে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তৌফিক দিয়েছেন তারা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে হজ্জের ফরজ পালন করে। এরপরের দিন কোরবানি করে। আর যারা হজ্জে শরীক হতে পারেনা তারা এই দিনটিতে নফল রোজা রেখে বিপুল ছওয়াবের অধিকারী হয়।


হাদীসের বর্ণনামতে এই রোজা রাখার মাধ্যমে বান্দার পূর্বের ও পরের দুই বছরের ছগীরা গুনাহ মাফ হয়ে যায়। যিলহজ্জের দশ তারিখ ঈদুল আদ্বহার দিন ঈদের নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহ পাকের নামে গৃহপালিত পশু যেমন গরু, ছাগল, মেষ, উট, দুম্বা ইত্যাদি কোরবানি করতে হয়। নয় তারিখ ফজর নামাজে থেকে শুরু করে তের তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর নামাজীকে একবার করে তাকবীরে তাশরীক বলতে হয়।


তাকবীরে তাশরীক আল্লাহ পাকের বড়ত্ব এবং আল্লাহর পাকের একাত্ব উচ্চঃস্বরে ঘোসনা দেয়া যে, আমরা আল্লাহ পাকের মোকাবেলায় অন্য কাউকেই মানিনা। তাকবীরে তাশরীক এই, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ- তাকবীরে তাশরীক ও কোরবানির পিছনে ঐতিহাসিক পটভূমি হল, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে হযরত


ইব্রাহিম (আঃ) কে মহান আল্লাহ তা’য়ালা পরীক্ষা করার জন্য তাঁর নিজ পুত্রকে স্বপ্ন মাধ্যমে কোরবানি করতে আদেশ করেছিলেন। পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ছুরি হাতে নিয়ে প্রস্তুত এবং পুত্র ইসমাইল (আঃ) ও ছুরির নীচে গর্দান রেখে প্রস্তুত। এমন সময় আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় আদেশ নিয়ে হযরত জিব্রাইল (আঃ) আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার! বলে উচ্চস্বরে চিৎকার করে নিশেধ করতে


লাগলেন। হযরত ইসমাইল (আঃ) ছুরির নীচ থেকে উত্তর দিলেন, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার! ‘’তুমি আমাদের আল্লাহ নও, আমাদের আল্লাহ মহান’’ অতঃপর হযরত ইব্রাহিম (আঃ) আল্লাহর দ্বিতীয় আদেশ প্রাপ্ত হয়ে প্রথম আদেশকে মানসূখ (মানে রহিত) মনে করে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোসনা করলেন এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। বললেন ‘’আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল-হামদ’’ এই স্মৃতি রক্ষা করে মহান আল্লাহর


যখন যে আদেশ হবে, তখন সে আদেশকে শিরধার্য করে নিতে হবে। এ শপথ অক্ষুন্ন রাখার জন্যেই প্রতি বছর নিজের জীবন অপেক্ষা প্রিয়পুত্রের পরিবর্তে একটি গরু, ছাগল বা উট দুম্বা কোরবানি করে নিজের নফসানিয়াতকে আল্লাহর সামনে কোরবানি করতে হয়। দশ তারিখ ঈদের নামাজের পর থেকে বার তারিখ সূর্যাস্তের পূর্বপর্যন্ত কোরবানির সময়। এর আগে বা পরে করলে কোরবানি হবেনা। দশ, এগার, বার এবং তের এই চার দিনকে ‘’আইয়্যামে তাশরীক’’ বলা হয়। এচার দিন রোজা রাখা হারাম।
বেহেশতী জেওর ৬ষ্ঠ খন্ডঃ


××বর্তমান আমাদের অবস্থা হল আমরা অনেকই কোরবানি করিনা মাল বেশি খরচ হয়ে যাবে বলে। আবার যারা করি তাদের মাঝে লোক দেখানো বিষয়টা বেশি দেখা যায়। অথবা দেখা যায় কোরবানি নিয়েও প্রতিযোগীতা চলছে আমাদের গ্রামে, শহরে এমন কি আধুনিক সমাজেও এই কোরবানি নিয়ে চলছে নানান তামাশা। যদি কোন মহৎপ্রান ব্যক্তি মনে করিও দেয় যে, কোরবানির এই নিয়ম-কানুন তবুও তারা


যেভাবে লোক মুখে শুনে আসছে সেভাবেই পালন করে। খুব কম লোকেই লৌকিকতা থেকে মুক্ত। নয়তো লৌকিকতার জন্যই সিংহভাগ মুসলমান কোরবানি করে। আমরা যখন কোরবানি করবো আল্লাহ আদেশ করেছেন যেভাবে ঠিক সেভাবেই পালন করতে চেষ্টা করা উচিৎ আমাদের সবার। কোরবানি বিষয়ে ছোট একটি গল্প সামনে আসছে আপনার আমাদের সবার এর থেকে শিক্ষা নেয়া উচিৎ।


×× ছোট গল্প। এক ব্যক্তি জীবনে মুটামুটি সব রকমের গুনাহের কাজের সাথে সম্পৃক্ত। আবার নামাজও পড়ে, তবে তাঁর সবচেয়ে বিশেষ গুণ হল কোন কাজে খরচ করাটা একেবারে সহ্য করতে পারেনা। সেটা আল্লাহর জন্যই হোক আর বান্দার জন্যই হোক। সংসারের জন্য খরচ করে বাধ্য হয়ে। এরপর যখন ভাল ইনকাম হল তখন থেকে শুরু হল কোরবানি করা। প্রতি বছর গরু কোরবানি দেয়া। এমন করে বেশ


কয়েক বছর কোরবানি করল। পৃথিবীর নিয়ম অনুসারে যখন ইনকাম কমে গেল, মাল আসবাবের দাম বেড়ে গেল তখন সব মিলিয়ে মুটামুটি ভাল খায়, ভাল পরিধান করে। কিন্তু কোরবানি করতে বেশি খরচ লাগবে তাই কোরবানি করা বন্ধ। দিনে দিনে মাল-আসবাবের দাম আরো চড়াও হতে থাকে এতে করে কোরবানি করতে চায়না কারন সারা বছরের জমানো টাকা বেশি খচর হয় তাই। তবে ধীরে ধীরে


সন্তানেরা বড় হবার পর লোকটাকে অনেক ভাবে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে কোরবানি করাতে চেষ্টা করে যে শরীকে কোরবানি করেন টাকা কম লাগবে, অথবা ছাগল কোরবানি করেন। কিন্তু যখনই লোকটা কোরবানি করতে রাজি হয় হয়তো চাপে পড়ে, নয়তো ছেলেমেয়েদের অনুরোধে কিন্তু সারা বছরের জমা টাকা খরচ হবে দেখে আবারও পিছ পা হয়। যাক কোরবানির সময় আসা পর্যন্ত এই বলে বলে সবাইকে শান্তনা দেয় যে,


এবার কোরবানি দেব যখনই কোরবানি সামনে এসে হাজির হয় তখনই তিনি নানা অযুহাতে তা থেকে বিরত থাকতে চান মনে করেন এতগুলো টাকা একসাথে খরচ করে ফেললে পরে কিভাবে তা আবার যোগাড় করবেন? এমন কি পশু বিক্রির হাটে গিয়েও ঘুরে আসে কিন্তু দাম বেশি হওয়াতে কোরবানির পশু আর কেনা হয়না। কেউ বললে বলে ভেবে চিন্তে সামনে পা রাখতে হবে। কোন মনিষী নাকি বলেছে আগে ঘরে বাতি দিতে হবে তারপর মসজিদে। অথচ সামনে আর ক’দিন বাঁচবেন সে হিসাব নেই। আপনারা সবাই এই ব্যক্তির উত্তম হেদায়াতের জন্য দোয়া করবেন।


×× আরেক ঘটনা। এমনও ব্যক্তি পৃথিবীতে আছেন, যিনি দুনিয়াদারি করেছেন, সংসার করছেন, সন্তান পালন করছেন, বাকি আরো আরো অনেক দায়িত্বও পালন করছেন কিন্তু এটা সেটা বলে কোরবানি করেনা। আবার বলেন যে, আমার ঋন আছে, আর ঋন রেখে কোরবানি হয়না এই বলে বলে জীবনে কখনোই কোরবানি করে নাই। আর এখন এমন অবস্থায় উপনিত আছেন যে, বয়ষ ও ষাটের কোঠায়। বাকি যে ক’দিন


হায়াত পাবেন সে ক’দিনে কি এত সুযোগ পাবেন আবার কোরবানি করার জন্য? মানুষ এতই সহজ সরল যে, কোথা থেকে কবে শুনেছে ঋন রেখে কোরবানি হয়না সেটা আঁকড়ে ধরে জীবন পাড় করে দিলেন। সামনের দিনগুলোতে কি যে হবে আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের? মনে ভয় হয় আমাদের আগামি যুগে তো মনে হয় কোরবানি কি তা জানতেও পারবেনা। ‘’আমরা শুধুই বয়ে বেড়াবো মুসলমানের নামের বোঝা। আর আখেরাতে আছে এই সবের জন্য প্রস্তুত করে রাখা সাজা’’।


×× আবার এমনও বিশ্বাসের মানুষ এই পৃথিবীতে বিদ্যমান তারা মনে করেন কোরবানি না করলে আমাদের সন্তানের মন খারাপ হয়, তাই না করে পারিনা। প্রতি বছরই এজন্যই কোরবানি করি যাতে করে ছেলে মেয়ের মনটা ভাল থাকে। মানুষের কোরবানি করা দেখে আফছূছ না করে। মনে কষ্ট না রাখে যে, বাবার টাকা আছে অথচ কোরবানি করেনা। বুঝুন এবার ছেলে মেয়ের মন খুশি করতে কোরবানি করে


অথচ মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে আদেশ করেছেন উনার প্রিয় বান্দাগণের মাধ্যমে যে, তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু আল্লাহর খুশির জন্য কোরবানি কর। আর আমরা মানুষের খুশি তালাশ করছি। ভেবে দেখার বিষয় কোরবানি করলেই হবেনা নিয়্যতকে আমাদের ঠিক করতে হবে যে, কার জন্য কোরবানি করছি? আর কতটা খুশি মনে কোরবানি করতে চেষ্টা করছি।


×× আবার এমন লোকও আছেন যারা কোরবানি করে খুশি মনে তবে কোরবানি করার পর যে তিন ভাগেভাগ করে তা করেনা। বরং নিজেদের ইচ্ছা মত সামান্য কিছু কিছু আত্মীয় স্বজনকে দেয় নয়তো আত্মীয় স্বজনের সামনে মুখ দেখানো যাবেনা বলে। গরীব-মিসকিনকে দুই কি চার টুকরা দিয়ে যতটুকু বাকি থাকবে দেবে ততটুকু রেখে দেয় নিজের সন্তানের মধ্যে কে দুরে আছে তার জন্য। অথচ নিয়ম হল সুন্দর


ভাবে তিনটি ভাগ করে এক ভাগে যতটুকুই আসছে সেটাই নিজে রাখা, আর বাকি দুই ভাগ থেকে একভাগ আত্মীয় স্বজনদেরকে দেয়া, আর আরেক ভাগ গরীব-মিসকিনদের মাঝে বন্টন করে দেয়। আমরা পশুও কোরবানিও করি আবার এর সাথে গড়মিলে মিশ্রিত করে ফেলি আমাদের নিয়্যত, পশু কোরবানি না হয়ে হয়ে যায় আমাদের ঈমানের কোরবানি। এজন্য হাদীসে বলা হয়েছে, আমলের প্রতিদান নিয়্যতের উপর নির্ভরশীল।
(বোখারী)

×× পৃথিবীতে বর্তমানে বেশির ভাগই দেখা যায় সব কাজেতেই প্রতিযোগীতায় লিপ্ত। এবার ও আগের কয়েকবার খেয়াল করলাম কোরবানি নিয়েও চলছে প্রতিযোগীতা। প্রতিবেশি একজন যদি এত দাম দিয়ে কোরবানি করে, আর আরেকজন যদি তাঁর থেকে বেশি দিয়ে করোবানি দিতে না পারে তবে তো কোরবানি করাই বৃথা। এমন কি আপন ভাইয়ে ভাইয়েও চলছে এই প্রতিযোগীতা বড় ভাই এত টাকা দিয়ে


কোরবানির পশু কিনেছে ছোট ভাই যদি এর থেকে বেশি দিয়ে কিনতে না পারে তবে যে সব শেষ। আবার দেখা যায় এ ক্ষেত্রে অনেক ছেলে মেয়েই বাবাকে উস্কানি মূলক বলেই ফেলে যে, অমুকে এত দাম দিয়ে কোরবানির পশু কিনেছে আপনি যদি তার চেয়ে বেশি দিয়ে কোরবানি না দেন তবে আমরা এই কোরবানি মানিনা। ভেবে দেখুন কি অবস্থা আমাদের ঈমানের? আমরা কি হাশরে আমাদের সামান্য ঈমান নিয়ে কি উঠতে পারবো আল্লাহর সামনে? জানিনা কি হবে আমাদের শেষ পরিণতি?


×× আবার দেখা যায় কারো কারো ভাল লাগে শূটকি গোশত ভাজা। তাই তারা কোরবানি করে কাউকে না দিয়ে রেখে দেয় সেই গোসত, অনেক দিন পর পর্যন্ত সেই গোসত রেখে রেখে খায়। অথচ আমরা মুখে মুখে বলি ‘’কোরবানি করি’’ ‘’কোরবানি করি’’ কার জন্য করি আমাদের মনে একবারও আসেনা। আর এও মনে আসেনা এর প্রতিদান কি রুপ হবে। আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দিন যেন শুধু একজনের জন্যই কোরবানি করি আর সেটা হয় কবুলিয়াত কোরবানি।


×× এমন হাজারও ঘটনা আছে আমাদের চারিপাশে কোরবানি নিয়ে, কেউ কেউ এমনও আছেন তারা কয়েক লাখ টাকা ঋন তবে বাড়ি ঘর আছে ভাড়া দিয়ে চলতে পারেন। এমন অনেক ব্যক্তিও নতুন ভাবে ঋন করে কোরবানি করে। মনে করে আমাদের বাড়ি-ঘর আছে যদি কোরবানি না করি তবে তো লোক সমাজে আর মুখ দেখানো যাবেনা। কারো সামনে গৌরব করা যাবেনা। না দিয়ে উপায় নেই তাই ঋন


করে কোরবানি দেই। মুখে বলেন কি করবো আল্লাহর জন্যই তো কোরবানি দেই এখন তিনি তো দেখছেন কিভাবে কোরবানি করছি তিনিই ভাল জানেন তিনি কি করবেন আবার এসবও ভাবেন। আর কেউ যদি বুঝাতে চায় যে, নিয়্যতকে যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে তখন খুব বড় গলায় বলে যে আমরা এগুলো জানি সব জানি আমাদেরকে এগুলো বলতে হবেনা কোরবানির ব্যপারে আমাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে।


পরিশেষে আমরা মহান আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে ফরিয়াদ করি আল্লাহ আমাদের ছোট থেকে ছোট আর বড় থেকে বড় যে যেই ধরনের পশুই কোরবানি করি আমাদের নিয়্যতকে যেন ঠিক করে দেন আর কোরবানিকে কবুল করে নেন উত্তম ভাবে। আমরা আমাদের নিয়্যতকে ঠিক করে নেই প্রত্যেক ভাল কাজের আগে। এবং নিজকে নিজে ভাল কাজের মাঝে মাঝে যাচাই করে নেই কার জন্য করছি, কতটা এখলাসি ভাবে করছি, প্রয়োজনে আমাদের আলেম ওলামাগণের থেকে পরামর্শ করে


নেই যে, কি ভাবে কোরবানি করতে হবে? কোরআন ও হাদীসে কি ভাবে করার নিয়ম আছে তা জেনে কোরবানি করি। কারন আমাদের মাঝে এমনও ব্যক্তি আছেন যারা যুগ যুগ ধরে কোরবানি করে আসছেন অথচ নিয়্যতের গড়মিল আর লৌকিকতার কারনে নিজেই নিজের আমলকে বর্বাদ করছে। জানেনা এই কোরবানি করে কোন ফলাফলই পাওয়া যাবেনা আল্লাহর কাছ থেকে। আমরা শুধু নিজেরা


নিজেদের ক্ষতিই করছি না। বরং নষ্ট করছি আমাদের ঈমানকে সাথে নষ্ট করছি কঠিন আখেরাতকেও। মহান আল্লাহর সামনে আমার কি নিয়ে দাড়াবো? এই লজ্জা আমাদের সবার মাঝে আসুক যাতে করে আমরা সঠিক ভাবে আমাদের সব কাজ আল্লাহর জন্যই করতে পারি। মহান স্রষ্টা আমাদের ছোট বড় সবাইকে কোরবানি করার মন তৈরি করে দিন এবং সবার কোরবানিকে কবুল করে নিন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

ভালো পোস্ট। মুসলমানদের জন্য উপকারী।

-

সূর আসে না তবু বাজে চিরন্তন এ বাঁশী!

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)