সালাম

সালাম

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

তরজমাঃ আপনার উপর শান্তি এবং রাহমত বর্ষিত হোক
সালামের আভিধানিক অর্থঃ সন্ধি, শান্তি, আনুগত্য।
পারিভাষিক অর্থঃ কোন মানুষের সাথে সাক্ষাতের সময় সালাম আদান প্রদান করা। অন্যের শান্তি কামনা করে প্রথমে কথা বলা।
নীতি কথাঃ প্রথম সালামকারী ৯০% সওয়াব পায়, সালাম গ্রহণকারী পায় ১০%।
মূল আলোচনাঃ আমরা মুসলমান। এজন্য প্রথমেই আমাদের শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ। এরপরের কথা হলো আমরা যেহেতু মুসলমান আর মুসলমানের সুন্নত হলো প্রথমে সালাম তারপরে কালাম(অর্থাৎ কথা)। আমরা বর্তমানে এমন অবস্থায় উপনীত হয়েছি যে, সবকিছুতেই সংক্ষিপ্ত করতে পছন্দ করি। যেমন পোষাকে, তেমনি কথাতে, তার সাথে সাথে আল্লাহর প্রিয় হাবীব (সঃ)-এর সুন্নতকেও সংক্ষিপ্ত করতে দ্বিধা করছি না। বরং সাদরে গ্রহণ করে তা নিজেরাও পালন করছি। ভালোমন্দ বিচার করছি না। যেমন, বর্তমানে সালাম হলো স্লামালিকুম, স্লামুআলাইকুম, আসলামু আলাইকুম, অথচ আমাদের প্রিয় নবী করীম (সঃ) এ শিক্ষা দেননি। বরং তিনি পূর্ণ সালাম দিতে শিখিয়েছেন- 'আস্-সালামু 'আলাইকুম। এবং বলেছেন সালামের অর্থ শান্তি। আধুনিকতা যদি হয় কোরআন ও হাদিসের জ্ঞানে সজ্জিত হওয়া, তাহলে সে আধুনিকতা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করে। আর আধুনিকতা বলতে যদি বুঝানো হয় জ্ঞান ও বুদ্ধির দরজায় তালা মেরে, লেজ কাটা আধুনিকতায় নিমজ্জিত থাকা বা নিজেকে আধুনিকতার ভেলায় ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া, তাহলে এই আধুনিকতা অবশ্যই স্রষ্টাকে ভুলিয়ে দেবে। আর এমন আধুনিকতা থেকে অবশ্যই প্রত্যেক মুমিন মুসলমানকে বেঁচে থাকতে হবে। আমরা যারা বর্তমানে আধুনিকতার সোপানে অবস্থানরত তাদের খুব বেশী খেয়াল রাখতে হবে যে, আধুনিকতা করতে গিয়ে যেন নবীজির সুন্নতকে ভুলে না যাই। বরং বর্তমানের আধুনিকতার নগ্নতা ডিঙিয়ে, ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনাকে সামনে রেখে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর দেখানো পথে চলি। এবং সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমের মর্যাদাকে সমুন্নত রেখে সামনে অগ্রসর হই।
হাদিসে আছে,

অর্থাৎ, "প্রথম সালামকারী অহংকার মুক্ত।"
অথচ আমরা সালামের প্রচলন তো করছিই না। তার উপর সালাম নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করছি। কোন মুসলমান যখন অন্য মুসলমানের ভালো চায় তখন তাকে সালাম দেয় এবং সালামের মাধ্যমে নিজেরও ভালো করে।
অন্য এক হাদীসে রয়েছে,
বুখারী ১মঃ-২০ নং পরিচ্ছিদ ২৭নং হাদীস।
"রাসূল (সঃ)কে কোন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছে, ইসলামে কোন কাজ উত্তম? আল্লাহর রাসূল (সঃ) বললেন ইসলামে উত্তম হলো তুমি লোকদের আহার করাবে এবং পরিচিত অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম করবে।"
বর্তমানে আমাদের অবস্হা হলো, আমরা সালাম কথাটা একেবারে ভুলেই গেছি। আর যারা দেই তারাও সংক্ষিপ্ত করে দেই। তাতে না আদায় হয় সুন্নত, আর না হয় সওয়াব। আসুন মুসলমান ভাই ও বোনেরা, আমরা লেজ কাটা আধুনিকতা বাদ দিয়ে নবী করীম (সঃ)-এর সুন্নত আঁকড়ে ধরি। অর্থাৎ, পূর্ণভাবে সালাম দেই এবং নবীজির ছোট একটি সুন্নত আদায় করি। কেননা আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে ভালবাসে, সে আমাকেই ভালবাসে, আর যে আমাকে ভলোবাসে, সে জান্নাতে আমার সাথেই থাকবে।" আসুন আমরা সবাই পরিপূর্ণ সালাম দিয়ে পরিপূর্ণ সুন্নত আদায় করি। এবং দুনিয়াতে নবী করীম (সঃ)-এর সুন্নত আদায় করে, জান্নাতে নবীজির চির কালের সাথী হই।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক দিন এবং কবুল করে নিন।
আমিন

 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

ওয়ালাইকুম আস সালাম

 

ধন্যবাদ চমৎকার পোস্টটির জন্য ।

সালাম

আপনাকে ও ধন্যবাদ বিষয়টি বোঝার জন্য

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

"রাসূল (সঃ)কে কোন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছে, ইসলামে কোন কাজ উত্তম?
আল্লাহর রাসূল (সঃ) বললেন ইসলামে উত্তম হলো তুমি লোকদের আহার করাবে এবং
পরিচিত অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম করবে।"

উপরোল্লেখিত হাদীসের অনুসরণ আমাদের মধ্যকার সাচ্চা মুসলমানদের মাঝেও আজকাল দেখা যায় না তেমন। অথচ বিষয়টি কত গরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ্ আমাদের তৌফিক দিন। এবং এ লেখার মধ্য দিয়ে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়ায় আপনার জন্য সর্বোত্তম প্রতিদানের দো'আ করছি আল্লাহর নিকট।

সালাম

লেখাটা পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

আল্লাহ সবাইকে তৌফিক দিন আমল করার। এবং সহজ করে দিন।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

নতুন মন্তব্য করুন

The content of this field is kept private and will not be shown publicly.
Smileys
:);):(:D}:):P:O8)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)