নবজাত শিশুকে মেরে ফেলার অধিকার মা – বাবার থাকা উচিত

সালাম

নবজাত  শিশুকে  মেরে  ফেলার  অধিকার  মা – বাবার  থাকা উচিত , এমন   দাবী করা হয়েছে  ব্রিটিশ এক  চিকিৎসা  সাময়িকীতে।    এর পক্ষে   যুক্তি  হলো ,    জন্ম  দেয়ার  পর  শিশুকে    মেরে  ফেলা  গর্ভপাত থেকে  আলাদা  কিছু  না ।

 

 


গর্ভপাত  করার  আইনগত  অধিকার  যদি  একজন নারীর থাকে , তবে নবজাত শিশুকে কেন   
মা - বাবা মেরে  ফেলতে  পারবেন  না ?   এই  অধিকার তাদের  দিতে  হবে । এই  দুই  ক্ষেত্রেই   মা- বাবার  মতামত  বেশী  গূরুত্বপূর্ণ   হওয়া উচিত ।  

 


“  জন্মের পর গর্ভপাত :  শিশু  কেন  বেঁচে  থাকবে ? ” -  এই    লেখাটি    অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়  সংশ্লিষ্ট  এক  চিকিৎসা  সাময়িকীতে প্রকাশিত  হয়েছে ।   এটি  লিখেছেন  ড:  আলবার্টো   জিওবিলিনী  ও  ড: ফ্রান্সসিসকা  মিনার্ভা ।  এই দুই  লেখকের  আরো  আবদার  , একে খুনও বলা যাবে  না   ,  এটা  হলো জন্ম  পরবর্তী  গর্ভপাত ।  যদি  এটা  অন্যায় বা অবৈধ  হয় ,  তবে  গর্ভপাতও  নিষিদ্ধ করতে হবে ।


সাময়িকীর  সম্পাদক  অধ্যাপক  জুলিয়ান  সাভুলেস্কো  জানান  , এটি  ছাপা হবার  পর   লেখকরা   মৃত্যুর  হুমকি পাচ্ছেন।  তিনি  এর  নিন্দা জানান  ।  তার মতে  , যারা   এই হুমকি  দিচ্ছে , তারা  উগ্রপন্থী ও উদার  মূল্যবোধের   বিরোধী ।


যদিও   দুই লেখকের  মতামত  বিতর্কের সৃস্টি  করেছে   , এই মতের অনেক সমর্থকও  জুটে  গিয়েছে  ।

শিশু  হত্যার  পক্ষে  যুক্তি :

দুই লেখক  ও  যারা এই মত সমর্থন করছেন, তারা    বিভিন্ন যুক্তি তুলে  ধরছেন  :


১.  নবজাত  শিশু  সম্ভাব্য  মানুষ ,    পূর্ণাঙ্গ মানুষ  না । তাই    বেঁচে থাকার   নৈতিক  বা  আইনগত  অধিকার  যা   স্বাভাবিক মানুষদের  আছে  , সেটা  তার  নেই ।

২. নবজাত শিশুকে  মেরে  ফেলা    ভ্রুণ  হত্যা  বা গর্ভপাত থেকে  আলাদা  কিছু  না ।   গর্ভপাত  করার অধিকার  যদি  একজন নারীর থাকে , তবে    শিশুকে  জন্ম  দেয়ার  পর  তাকে    মেরে  ফেলার  অধিকারও   মায়ের   থাকা  উচিত ।


৩. ভ্রুণ হত্যা যেমন   আইনত  স্বীকৃত ,  তেমনি  জন্মের  পরপর  শিশুকে  মেরে ফেলা খুন নয়  ,  সেটা জন্ম  পরবর্তী  গর্ভপাত হিসাবে  গণ্য হবে ।

৪. জোর করে শিশু  পালনের  দায়িত্ব   মা – বাবার   উপর  চাপিয়ে  দেয়া  যাবে না ; বিশেষ করে  শিশু যদি  শারীরিক বা  মানসিক  প্রতিবন্ধী  হয় । 


৫.   জন্মগতভাবে  অসুস্থ  শিশুকে   বড়   করার  দায়িত্ব পালনে কোন  মা – বাবাকে    বাধ্য করা  যাবে  না  ।    এই  দায়িত্ব পালনের  মত  শারীরিক  সুস্থতা , মানসিক  ধৈর্য্য  ও  আর্থিক  সামর্থ্য   তাদের  নাও থাকতে পারে ।

৬ .    যারা শারীরিক  ও মানসিক প্রতিবন্ধী , তারা  পরিবারের  জন্য  বোঝা । শুধু  তাই  নয় , তারা  সমাজ ও দেশের জন্যও  বোঝা । কারণ ,  এদের  পিছনে রাষ্ট্রের  প্রচুর  টাকা  খরচ করতে হয় ।

৭.       শিশু পালনের  খরচ যদি  মা – বাবা   বহন করতে  না পারেন  বা   কোন সমস্যার  জন্য তারা  বাচ্চা পালতে  না চান ,  তবে  নবজাত শিশু  অসুস্থ  না  হলেও   তাকে    মা - বাবা মেরে  ফেলতে  পারবেন  । 

শিশু  হত্যা :  ইসলাম  কী বলে ?

বেশীরভাগ  ইসলামিক চিন্তাবিদদের  মতে ,  যদি  মায়ের জীবন  ঝুঁকির  মুখে বলে  কোন  ধার্মিক  মুসলমান চিকিৎসক মত  দেন ,  তখনই শুধু  মায়ের   জীবন  বাঁচাতে  গর্ভপাত করা যেতে পারে  ।   তারা  তাদের  মতের  পক্ষে  কুরআনের  নীচের  আয়াতগুলির   উদ্ধৃতি   দেন  -

তোমরা  অভাবের ভয়ে   সন্তান  হত্যা করো  না ,  ওদের  এবং  তোমাদেরকে  আমিই রিযিক দিয়ে  থাকি ।  নিশ্চয়ই  ওদের হত্যা করা  মহাপাপ  (  পবিত্র কুরআন ,  সুরা   বনী ইসরাঈল  , আয়াত  ৩‌১ ) ।

....তারা  আল্লাহ  ও আখেরাতে  বিশ্বাসী  হলে   তাদের  গর্ভাশয়ে   যা  আল্লাহ  সৃষ্টি  করেছেন  , তা  গোপন  রাখা   হালাল  নয়  (  সুরা  বাকারা  ,  আয়াত  ২২৮ ) ।


নরহত্যা   অথবা  দুনিয়াতে  ধ্বংসাত্মক  কাজ করার  জন্য   ছাড়া  কোন  নিরপরাধ  মানুষকে  খুন করা মানে  যেন পুরো মানবজাতিকে  মেরে ফেলা (  সুরা  মায়িদা ; ৫ :৩২) ।


সন্তান  শারীরিক  বা মানসিক  প্রতিবন্ধী  ,  সন্তান পালনের  খরচ  মা – বাবা  বহন করতে  পারবেন না  বা  পারিবারিক  ঝামেলায় সন্তানকে  মানুষ করা  মায়ের  পক্ষে সম্ভব না – এসব   অজুহাতে  কোন অবস্থাতেই  সন্তানকে  খুন করা  যাবে  না ।  তা  করলে  আল্লাহর  আদেশ  অমান্য করা  হবে  ।  মনে রাখতে  হবে , নিরপরাধ   মানুষ হত্যা  ইসলামে  অন্যতম  বড় পাপ ।  সন্তান যদি  চরম অসুস্থ হয়  ,  তাহলে  মা – বাবার  জন্য  সেই অসুস্থ বাচ্চার দেখাশোনা  কষ্টকর হলেও  নিশ্চয়ই  এর মধ্যেই  রয়েছে   তাদের কল্যাণ ।  মনে হতে পারে  , অসুস্থ সন্তানকে  মেরে  ফেললে   অনেক  ঝামেলা  ও  অর্থ    বাঁচবে   , কিন্ত্ত    তাতে  রয়েছে  পরকালের অকল্যাণ ।

সম্ভবত  তোমরা  যা  পছন্দ  করো  না  , তা   তোমাদের  কল্যাণকর  আর  যে বিষয়ে  তোমরা পছন্দ  করো  , তা  তোমাদের  জন্য অকল্যাণকর  আল্লাহ জানেন , তোমরা জান  না  ।
( সুরা বাকারা ;  ২: ২১৬ )

আরো  মনে  রাখতে  হবে  ,  এই অসুস্থ  বাচ্চাও  আল্লাহরই  সৃষ্টি   ও  আল্লাহর  দাস ।

আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন ।  আল্লাহ    সবাইকে  এই পাপ থেকে দূরে রাখুন ।

 


 

দেহে যখন আত্মা আবার সংযোজিত হবে , যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে প্রশ্ন করা হবে ,

কী দোষে ওকে হত্যা করা হয়েছিল ? ( সুরা তাকবীর ; ৮১ : ৭-৯ ) 

 

http://www.ummah.com/forum/showthread.php?321788-Killing-babies-no-different-from-abortion-quot-experts-quot-say


http://www.telegraph.co.uk/health/healthnews/9113394/Killing-babies-no-different-from-abortion-experts-say.html

 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

কি নির্মম!
"কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।" [আল কুরআন]

-

"প্রচার কর আমার পক্ষ হতে, যদি একটি কথাও (জানা) থাকে।" -আল হাদীস

সালাম

ধন্যবাদ  কুরআনের  এই আয়াতটির কথা মনে করিয়ে দেয়ার  জন্য ।  ইনশাআল্লাহ  লেখাতে  দিয়ে    দেব ।

I've been browsing online more than 3 hours today, yet I never found any interesting article like yours. It's pretty worth enough for me.
In my view, if all web owners and bloggers made good content as you did,
the web will be much more useful than ever before.

পোষ্টটি পড়ে কিছুটা সময় স্থবির হয়ে ছিলাম। সত্যিই কি নির্মমতা! আমার কাছে তো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নির্মমতা মত হয় সে বাচ্চার প্রতি বাবামার আচরণকে, যে বাচ্চা বাবামা থাকা সত্ত্বেও নিজেকে অসহায় মনে করে।

ধন্যবাদ পোষ্টটির জন্য।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

সালাম

পৃথিবী সব যুক্তি একসাথে করে যদি কেউ নিজেদের, শাস্তি (মানে আল্লাহর সীমা লংঘনের শাস্তি) থেকে মুক্তি পেতে না পারে, তবে ধিক ঐসমস্ত জ্ঞানীগুণী জনদের। যারা দুনিয়ার যুক্তি দিয়ে আখেরাতে মুক্তির পথ রোধ করে, তাদেরকে দুনিয়ার লোকেরা জ্ঞানীগুণীজন বলতে পারে। তবে আল-কোরআনের ভাষায় তাদেরকে অজ্ঞ ছাড়া কিছুই বলবে না। আল্লাহ তা'য়ালা প্রত্যেক আদম সন্তানকে এই নির্মম মাসুম হত্যার গুনাহ থেকে বাঁচান। আরও বাঁচান চির জাহান্নাম থেকে 

আল্লাহ আমাদেরকে, আমাদের ঈমানকে বাচাঁন। 

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

lekhati pore onek valo laglo. Allah amader sothik pothe cholar toufik din. amin.

-

মোঃ আবুল খায়ের

অনেক সুন্দর সতর্কমুলক একটি লেখা
ধন্যবাদ.
এ বিষয়ে মেয়েদের কে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হবে

কথিত উদারপন্থার আসল সংজ্ঞা এখানেই নিহিত। যারা উদারপন্থা ও মানবতার দোহাই দিয়ে ধর্মের বিরোধিতা করে, তারাও মূলত এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতামূলক বিশ্বই প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
বর্ণিত তত্ত্বের প্রবক্তাদ্বয়ের বাবা-মায়েরই তাহলে অধিকার ছিল এদেরকে মেরে ফেলার, তাই নয় কি? এ ব্যাপারে তারা কি বলবে?
অবশ্য আমাদের সমাজেও একশ্রেণির মতলববাজ মানুষ (Sorry, অমানুষ) আছে, যারা শিশু নির্যাতনকে পিতামাতার অধিকার বলে গণ্য করে এবং এর পক্ষে নানারূপ কুযুক্তি প্রদর্শন করে থাকে। আমার জীবনেরও একটা বিরাট অংশ ব্যয় হয়েছে এদের সাথে তর্ক করে ও এদের সৃষ্ট শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মোকাবেলা করে। এ প্রসঙ্গে আমার একটি লেখা এই ব্লগে প্রকাশিত হয়েছে, যার লিংক:-

শিশু নির্যাতন করা কি পিতামাতার অধিকার?

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)