মাওলানা সাঈদীর গ্রেফতারে একজন সাধারণ মানুষের অনুভূতি মন্তব্য

মেইলটির অনুবাদ এখান থেকে শুরু:

------------------------

১৯৮৮ সালের কথা, সিলেটে সাঈদী-বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে। আমি তখন সিলেট এমসি কলেজের ইন্টারমিডিয়েটে পড়া ছাত্র। আর দশজনের মতো স্বাভাবিকভাবে আমিও জামাত শিবির এবং সাঈদীকে চরমভাবে ঘৃণা করতাম। জাতির পিতার পোট্রেট ছবি আমার পড়ার টেবিলের সামনে টাঙ্গানো ছিলো, আমার মানসিকতা আশপাশের সবার মতোই ছিলো, সবাই পত্রিকা পড়ে আর শুনে যা মনে করে তেমন।

একদিন রিকশায় এক বন্ধু সহ যাচ্ছি। সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের কাছে গিয়ে দেখি রাস্তা বন্ধ, রিকশা থেকে নেমে যেতে হলো। মাঠ আর রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ, গাড়ি যাওয়ার রাস্তা নেই। সাঈদী বক্তব্য রাখছিলেন, তখনকার সরকার তাঁর সিলেট আসা ঠেকাতে পারেনি।

নেমে আমরা হেটে হেটে ভীড়ের জায়গাটা পার হচ্ছি, মাইকে তাঁর কথা শুনা যাচ্ছিলো। হঠাৎ যেন আমার সমস্ত অনুভুতি একটা ধাক্কা খেলো।এ মানুষটা কি বলছে? কোরআন শরীফের কি চমৎকার এবং সহজবোধ্য বর্ণনা! কিন্তু তখন শয়তান আমাকে ওখানে বেশিক্ষণ থাকার সুযোগ দেয়নি। সাথে থাকা বন্ধুর তাড়াহুড়োয় আমরা জায়গাটা পেরিয়ে চলে আসি। আমি চলে আসলাম, কিন্তু সাঈদীর অল্প শোনা কথাগুলোই আমার মাথার ভেতর অনুরনণ হতে থাকলো। আমি ভাবলাম, কোন না কোন একদিন উনার বক্তব্য আমি শোনব।

এ ঘটনার তিন বছর পর একদিন আমি সময় পেয়ে ভাবলাম শুনে আসি সাঈদী কি বলেন।নিজ ইচ্ছাতেই একাকী উনার এক তাফসীর মাহফিলে গেলাম, কথাশোনার জন্য, বুঝে দেখার জন্য ঘটনা কি! একসময় পরম আশ্চর্যের সাথে শুনতে থাকলাম চিরপরিচিতসুরা ফাতেহার ব্যাখ্যা তাফসীর। কি চমৎকারই না ছিলো উনার সরল বর্ণনা। জটিল কোন বিষয়কেসাধারণ মানুষের একদম বোধগম্য সহজভাবে বলার সৌন্দর্য্য দেখে আমি হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম।

জাতির পিতার ছবিটা আমি সরিয়ে রাখলাম। আমারমনে হচ্ছিলো, ইসলাম নিয়ে আমার আরো ভালোভাবে জানা বুঝা দরকার।

জীবিকার তাগিদে ইংল্যান্ডে গত পাঁচ বছর ধরে চিকিৎসক হিসেবে আছি। যান্ত্রিক জীবনে দেশের সাথে প্রয়োজন ছাড়া তেমন যোগাযোগই নেই। তবুও মাঝে মাঝে কোথাও যখন মাওলানা সাঈদীর নাম কানে আসতো বা চোখে পড়তো, আমার স্মৃতিতে ভেসে উঠতো সুরা ফাতিহার তাফসীর শোনার সেই ঘটনা।

হায়! এমন মানুষকেও সরকার গ্রেফতার করে ধর্মঅবমাননার দায়ে! নি:সন্দেহে সর্বশক্তিমান আল্লাহ সব কিছুই দেখছেন। তিনি সর্বদ্রষ্টা। সাঈদী এবং তাঁর সাথের অন্যান্য মানুষগুলো, যারা নিজেরা ইসলাম চর্চা করে আর মানুষদের ইসলামের দিকে ডাকে, তাদেরকে কেন এ নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে তা তিনি সবচেয়ে ভালোই জানেন।

এখানে আসার আগে দেশে একটা সেমিনারে গিয়েছিলাম। মাওলানা সাঈদী এবং কবি গীতিকার আবু জাফর সে সেমিনারে বক্তা ছিলেন। আবু জাফর তার বক্তব্যের সময় বললেন “হে আল্লাহ! আপনি আমার আয়ুর ১০ টি বছর সাঈদীকে দিয়েদিন। আমি দশ বছর সময়ে ইসলামের জন্য যা করতে পারবো, সাঈদী এ সময়ে তার হাজারগুণ সেবা করতে পারবেন ইসলামকে”। এ কথা শুনে আমি সারপ্রাইজড হয়ে পড়েছিলাম।

এরপর সাঈদী তার বক্তব্য শুরু করেই বললেন“আবু জাফর ভাই।আপনার দশ বছর আয়ু আমাকে দান করার কোন প্রয়োজনই নেই। যদি আল্লাহ আমাকে অতিরিক্ত দশ বছর দেবার সিদ্ধান্ত নেন, তাকে কারো কাছ থেকেই ধার করতে হবে না। তিনি সর্বশক্তিমান”।

সাঈদীর গ্রেফতারের পর থেকে বারবার সেদিনেরকথা মনে পড়ছে। আমি বিশ্বাস করি, ইসলামের জন্য কাজ করতে গিয়ে সাঈদী এবং তাঁর যে সহকর্মীরাগ্রেফতার হয়েছেন, তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন কিছুর ভয়েই ভীত নন।

আমি যখন মেইলটি লিখছি, আমার চোখ অশ্রুতেভরে আসছে। বাংলাদেশ থেকে ছয়হাজার মাইল দুরে বিদেশে বসে দেশকে কলিজাতে স্থান দিয়েছি। আল্লাহর কাছে সমস্ত আকুতি দিয়ে প্রার্থণা করি, হে আল্লাহ। তাদেরকে তুমি সাহায্য করোএবং দীর্ঘজীবন দাও। যদি ইসলামের জন্য তাদের জীবনদান তুমি লিখে রাখো তকদীরের খাতায়, তাহলে তাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউস দাও। মৃত্যুর পর চিরকালীন জীবনে আমাকে সেই পূণ্যবানদের সাথে রেখো হে আল্লাহ। মৃত্যুর পর হলেও আমি একবার বলতে চাই, আমার জীবনকে কোরআনের আলোয় আলোকিত করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমার পার্থিব জীবনে এতবড় অবদানের পরও আমি অক্ষম আপনার জন্য কিছু করতে পারিনি, ক্ষমা চাই”।

 উনাদের জন্য দোয়া করে আমি মনের গভীর থেকেবলি ‘আমিন’। পৃথিবীতে কি আর কেউ আছেন যিনি এ মজলুমদের জন্য দোয়ায় শামিল হবেন?

--------------------------------

 

সমাপ্ত। আমিও কায়মনোবাক্যে বলি,আমীন। ইয়া আল্লাহ, রাহমানুর রাহীম, আপনি আমাদেরকে আপনার পথে অবিচল থাকার ও আপনার সন্তুষ্টিঅর্জনের সামর্থ্য দিন। পার্থিব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করুন আমাদের, এছাড়া আমাদের আর কোনপ্রাপ্তির আশা নেই।

এটি মূলত ইংল্যান্ডে প্রবাসী একজন ডাক্তারের লিখা। মাওলানা সাঈদী এবং অন্যান্য জামায়াত নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনায় তিনি তাঁর ব্যাক্তিগত মানবিক অনুভূতি জানিয়েছেন। ইংলিশ মেইলটিকে আমি অনুবাদ করে সামহোয়ারে পোষ্ট করি। আধাঘন্টা পরে তারা আমাকে ব্যান করে দেয়। সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয় আগের সব পোষ্ট, আমি লগইন ই করতে পারি না আর। http://www.somewhereinblog.net/blog/vabnabihin/29191074

আমারব্লগে পোষ্ট করি। পনের মিনিটের ভেতরেই ব্যান করা হয়।

সোনারবাংলাদেশডটকমে এসেছে মূল ইংলিশ লেখকের নাম দিয়ে: http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=3061

তারা আমাকে কারণ দেখিয়েছে আমি স্বাধীনতাবিরোধী কাজ করেছি। এ মেইলটিতে স্বাধীনতা বিরোধী কি আছে তা আমার বোধগম্য হয়নি। একজন রাজনৈতিক নেতা ও আলিমে দ্বীনের গ্রেফতারে ব্যাক্তিগত ক্ষোভপ্রকাশ, দু:খপ্রকাশ এটি। পাঠকরা আলোড়িত হচ্ছিলো লেখকের সৎ মানবিক স্বীকারোক্তিতে, এতেই তথাকথিত মুক্তমনারা আতংকিত হয়ে পড়ে। যুদ্ধাপরাধের বিচার বিরোধী কিংবা দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী কিছু তন্ন তন্ন করে খুঁজে পেলাম না। অথচ মেইলটি অনেকের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। সামহোয়ারে প্রথমবার ব্যান করা এবং এখন অনেকের মন্তব্য থেকে বুঝা যায়। ভদ্র ভাষায় সুন্দরভাবে সত্য কথা বললে, তাতেই অন্যায়কারীদের অসহ্য যন্ত্রণার কারণ ঘটে। এর জন্য অভদ্র গালিবাজ হতে হয় না। সত্য সবসময়ই সুন্দর, এবং ভদ্র ব্যাবহারের কোন বিকল্প নেই। এরা কোন যুক্তি বুদ্ধির তোয়াক্কা করেনা, গায়ের জোরে মত প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সবারই যতবেশি সম্ভব লিখালিখি করা দরকার। আমার লিখার অভ্যেস নেই, যোগ্যতাও নেই জানি। তবুও ভাবছি যা পারি লিখবো, তাই আজ এটি লিখেছিলাম। লিখেই ধাক্কা খেলাম। ব্যাপারনা।

ইন্টারনেট এখন মুক্ত প্রকাশের প্লাটফর্ম, অথচ আমরা এর কোন গুরুত্বই দিচ্ছি না, বরং ফেসবুক আর ইউটিউবে চারপাশের সবাইকে সময় নষ্ট করতে দেখছি। গুগলে যুদ্ধাপরাধ মুক্তিযুদ্ধ এসব লিখে সার্চ করলে হাজার হাজার পেজ আসে মিথ্যা তথ্যে ভরপুর। এগুলো এক দিনে হয়নি। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ব্রেনওয়াশড মানুষগুলো লিখেছে, এখন মিথ্যার বালুকণা জমতে জমতে পাহাড় হয়ে দাড়িয়েছে।

যাইহোক, বিপদে পড়লেই বিশ্বাসীরা আবার আল্লাহতায়ালার বেশি কাছে ফিরে যায়। সুখের, স্বাচ্ছন্দ্যের দিন আমরা কাটিয়েছি, আনন্দ মুখরতায় ভূলে গিয়েছিলাম আমরা ইসলামী আন্দোলনের মানুষ। যাদের জীবন হওয়া উচিত অন্যরকম, হওয়া উচিত ইসলামের জন্য নিবেদিত। একমাত্র ভরসা এই যে আল্লাহ নিশ্চয় ক্ষমাশীল।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (5টি রেটিং)

সাঈদীকে গ্রেফতার করে সরকার ব্যাপক ঝুঁকি নিল।

ঠিক। এবং ক্যালকুলেটেড ঝুঁকি নি:সন্দেহে। 

আপনার শেষ প্যারাটা ছুঁয়ে গেল।

আর হ্যা, আপনার লেখার হাতও ভালো নিঃসন্দেহে। লেখা চালিয়ে যান।

অনেক ধন্যবাদ। উৎসাহিত হলাম। 

সাঈদীরা ব্যর্থ হবেন না ইনশাআল্লাহ। আর যদি না ফেরেন তো জান্নাত আর যদি ফেরেন তো আরো ব্যাপক মর্যাদা নিয়েই ফিরবেন, অতীত পর্যবেক্ষণে এমনটা আশা করা যায়।

ভালো বলেছেন। ইনশাআল্লাহ। ধন্যবাদ।

আমার মনে হয়, ফেসবুক আর ইউটিউব বাদ না দিয়ে এগুলোর মাধ্যমেই সত্য তুলে ধরা দরকার। অন্তত সামু বা আমার ব্লগের মত ব্যান করা হবেনা।

আল্লাহ মাওলানা সাঈদীসহ অন্যান্যদের ইসলাম প্রচারে অবদান কবুল করুন। তাদেরকে শীঘ্রই মুক্তি দান করুন। আমীন।

আমীন।

ঠিক বলেছেন। সম্ভাব্য সকল মাধ্যমেই আমি আমার বক্তব্য উপস্থাপন করায় বিশ্বাসী।

আমীন।

সাঈদীরা ব্যর্থ হবেন না ইনশাআল্লাহ। আর যদি না ফেরেন তো জান্নাত আর যদি
ফেরেন তো আরো ব্যাপক মর্যাদা নিয়েই ফিরবেন, অতীত পর্যবেক্ষণে এমনটা আশা করা
যায়।

একদম ঠিক।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (5টি রেটিং)