গল্পঃছেলেটি জানবে তার মা নষ্ঠা

প্রচন্ড ঠান্ডায় ঘুম ভেংগে গেল।অনুভব করলাম বিছানায় নয় জীবনের প্রথম নেশা  করার মাতালতায় আমি ফ্লোরেই ঘুমিয়ে পড়েছি।ইরানী সুগন্ধি গাজার নেশা যে কারু যাপিত জীবনের অনুভূতিকে থামিয়ে দিতে পারে এই প্রথম জানলাম।কতঘন্টার হিসেব আমার জীবনে আমি কখনো পাবনা সেটা ভাবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলাম।না আমাকে জানতেই হবে কতঘন্টার হিসেব আমার লাইফ থেকে হারিয়ে গেছে ।প্রতিবাদী মন যতবেশী চেচাচ্ছে,আমাকে জানতেই হবে  জিদ যত বেশী জোরালো হচ্ছে এবং তত জোরেই শুনতে পাচ্ছি ট্রেনের শব্দ।মনে হচ্ছে চলমান ট্রেনের দিকে আমি হাওয়ায় ভেসে যাচ্ছি।যতই ট্রেনের কাছাকাছি  যাচ্ছি ততই যন্ত্রনা বাড়ছে।আচ্ছা একটু পর আমি কি ট্রেনের চাকায় আমার নিশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতাকে দান করে আমি না ফেরার দেশে চলে যাব? আমার জানাযা হবেতো?সে আসবেতো?নাকি কেউ বেওয়ারিশ হিসেবে আন্জুমানের এম্বুলেন্স আমাকে নিয়ে যাবে বেওয়ারিশ ঠিকানায়?কেউ কি আমার জন্য...মোবাইলের রিংটোনে মাতাল ঘুমের আবেশ কেটে গেল।স্ক্রিনে রাহেলের ছবিটা জানান দিচ্ছে রাহেল কল করছে।রিসিভ না করলে পৃথিবীর মধুর সব গালাগালে আমাকে রাঙিয়ে দেবে প্রিয় বন্ধুটি।আর রিসিভ করলেও প্রথম যে শব্দটি শুনতে হবে,শালা।

শালা নিজের বাসা রেখে কার বাসায় গেছিসরে?

সত্যিতো আমি আছি কোথায়?অন্ধকারে বোঝার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম কোথায় আছি।আমার নীরবতায় রাহেল কি ভেবে লাইন কেটে দিল।আচ্ছা রাহেল কি এখন ভাববে আমি নগ্ন বুকের একজোড়া পায়রার মাঝে মুখ লুকিয়ে রাখার আবেশে ভুলে গেছি আমি কোথায় আছি?নাকি রাহেল ভাববে মেকআপের আস্তরে হারিয়ে যাওয়া কোন যুবতী রাতজাগা পাখির সস্তা পারফিউমের ঘ্রানে আমার শ্বাসপ্রশ্বাসের তীব্রতা সাইক্লোনের মত গর্জন করছে।যা ইচ্ছা তাই ভাবুক রাহেল।ভাবুক তার প্রিয় বন্ধুটি এখন জানে মায়াবড়ি কিংবা রাজা কনডমের কথা।শুধু রাহেল কেন পৃথিবীর সবাই জানুক।

কয়েকঘন্টা পর..

চোখ মেলে দেখি টেবিলে মোমবাতি জ্বলছে।চেয়ারে বসে আছে আমাদের সবার প্রিয় রুহুল আমিন ভাই।মোমবাতির হালকা আলোতে সিগারেটের প‌্যাকেটটা খুজে খুজে নিজের প্রতি বিরক্ত হচ্ছি দেখে রুহুল ভাই লাইটার সিগারেটের প‌্যাকেটে ঢুকিয়ে দিয়ে আমার দিকে ছুঁড়ে দিল।অনুভব করলাম জীবনে প্রথম গাজা খাওয়ার স্বাদের মত বাসিমুখে সিগারেট খাওয়ার স্বাদও আজ পাব।সিগারেট জ্বালিয়ে মোমবাতির আলোতে আলোকিত চেয়ারটায় বসে আমার শরীরটাকে আলোকিত করলাম।সজীব নয় মলিন হাসিতে রুহল ভাই হেসে আমাকে বুঝিয়ে দিলেন শুভ সকাল। তারপর  অন্যদিকে মুখ ফেরালেন।গতসন্ধায় আমি যখন এই রুমে আসি তখন এ যেভাবে রুহুল ভাই চেয়ারে বসেছিলেন এখনও তেমন বসে আছেন।টেবিলের উপর সিগারেটের ছাই নন এলকোহল বিয়ারের ক্যান দেখে মনে হচ্ছেনা এটা রহুলভাইয়ের রুম।
অগোছালো রুমের জন্য যিনি আমাদের প্রায় লজ্জাদেন আজ তার রুমই নয় জীবনটাই অগোছালো।গত সন্ধ্যায় যখন এসেছিলাম তখন ডিমলাইটের নীল আলোতে আমার দিকে তাকিয়ে প্রথম যে বাক্যটি বলেছিলেন সেটি হচ্ছে ,[si]আমার লিবনের কি হবে?[/si]তারপর অনেকক্ষ চুপ থেকে বললেন,[si] লিবন যখন জানবে আমার বোনের ছেলের সাথে ওদের মা রাতের আধারে ঘর ছেড়েছে তখন কি  হবে?স্কুলে গেলে যখন   জীবনের বাস্তবতা থেকে অনেক দুরের সহপাঠীরা যখন বলবে ওর মা ওর ফুফাত ভাইয়ের সাথে ভেগে গেছে তখন কি ও স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরী হবে?ওর মা নষ্টা তাই ওর সাথে কে মিশবে?আমাকে কি লিবন আর কখনো বলবে ,আব্বু আমার আর ভাইয়ার জন্য দসটা বল পাতাবা । [/si]
এরপর রুহুল ভাই কি বলেছে আমি আর শুনতে পায়নি।আনমনেই টেবিলে পড়ে থাকা সিগারেটে আর ইরানী গাজা মেশানো রোল তুলে নিয়ে আমার মা যদি লিবনের মায়ের মত করত তাহলে আমার কি হত জাতীয় ডজন খানেক শব্দ আমাকে দিয়েছে নেশায় মাতাল হওয়ার অন্যরকম স্বাদ!

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)

হুম... টাইটেলে নষ্টা বানানটা ঠিক করে নিবেন প্লীজ? 

Sad

আর লিখছেন না যে? ভালো লাগছিল পড়তে। 

নতুন মন্তব্য করুন

The content of this field is kept private and will not be shown publicly.
Smileys
:);):(:D}:):P:O8)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)