ভাষা আন্দোলন এবং ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দের ভুমিকা

বিশ্বায়নের যুগে জাতি রাষ্ট্র যেমন বিপন্ন হওয়ার আশংকা রয়েছে, তেমনি মাতৃভাষাও বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। বিদেশী ভাষার প্রভাবে যেন আমাদের ভাষা হারিয়ে না যায় সে জন্য আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার জন্য মৌলিক গ্রন্থ রচনার জন্য আমাদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।মাতৃভাষা আন্দোলনের জন্য যারা উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেছেন তারা অনেকেই ছিলেন ইসলামী ব্যক্তিত্ব।
মাওলানা আকরম খান ছিলেন প্রখ্যাত আলেম, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, একই সাথে তিনি বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছিলেন। তার কুরআনের তাফসীর, সীরাত গ্রন্থ, তার সম্পাদিত দৈনিক আজাদ ও মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা উপমহাদেশের মুসলমানদের স্বতন্ত্র জাতি স্বত্তা রক্ষা ও বাংলাকে ভাষা হিসেবে সাহিত্যিক মানে তোলে ধরার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে।ভাষা আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা জ্ঞান তাপস, বহুভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি ইসলামী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য ৪৭ সালে দেশ বিভাগের আগেই তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছিলো।রাজনৈতিক দল হিসেবে খেলাফতে রব্বানীর সাংস্কৃতিক অংশ তমদ্দুন মজলিশ ভাষা আন্দোলনে উদ্যাগী ভূমিকা পালন করেছিলেন। এর নেতৃত্বে ছিলেন প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম। পরে তিনি বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য।ভাষা সৈনিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর প্রফেসর গোলাম আযম সে সময়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত তমদ্দুন মজলিশের সাথে জড়িত ছিলেন। ডাকসুর জিএস হিসেবে তিনি তৎকালিন প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। তাদের অবদানকে কখনই অস্বীকার করা যাবে না।
একুশের পথ ধরে ৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। এর ২১ দফা দাবী ছিল ঐতিহাসিক দলীল। আর প্রথম দফাই ছিল কুরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন করা যাবে না। এই ২১ দফার প্রণেতা ছিলেন প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম। তিনিই এর খসড়া তৈরি করেছিলেন।একুশের পটভূমিতে যে কয়টা আন্দোলন হয়েছে তার সবগুলোই ছিল সার্বজনীন।যুক্তফ্রন্ট যে ৪টি দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল তার মধ্যে ২টিই ছিল ইসলামী দল। একটি হচ্ছে নেজামে ইসলামী অপরটি খেলাফতে রব্বানী। বাকী ২টি দল ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ ও কৃষক শ্রমিক প্রজা পার্টি।ভাষা আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের বিরাট ভূমিকা ছিল।
পরবর্তীতে গঠিত কপ, ডাক, পিডিএমসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলোর বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। মাতৃভাষার সাথে বিদেশী ভাষা শিখতে হবে তবে বিদেশী ভাষার কারণে যেন আমাদের নিজস্ব ভাষা হারিয়ে না যায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।চীনা এবং জাপানীরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের নিজস্ব ভাষায়ই। বাংলা ভাষায় যেন এ দেশের সন্তানরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে সে দিকে আমাদের খেয়াল রাখা দরকার।বাংলা ভাষায় এমন মৌলিক বই রচিত হওয়া উচিত যেটা অন্য ভাষায় অনুদিত হতে পারে। অন্যরা যেন এখান থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
বাংলা ভাষা পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম স্বাধীন মুসলিম দেশের ভাষা। বাংলাদেশের রাজধানী যেমন ঢাকা, তেমনি বাংলা ভাষার রাজধানীও ঢাকা। কেউ কেউ এ ভাষার উপর কলকাতার প্রভাব আবিষ্কার করতে চায়। এ মানসিকতা আমাদের পরিহার করা দরকার।যে ভাষার জন্য মানুষ জীবন দিলো সে দেশে এখনও সর্বোচ্চ আদালতের রায় লেখা হয় ইংরেজী ভাষায়। এতে মনে হয় আমরা নিজেদের ভাষাকে গরীব মনে করি। এটা স্বাধীনতার চেতনার সাথে মানান সই নয়।সরকারি অফিসে নোট লেখার ক্ষেত্রে ইংরেজী ভাষাকে প্রাধান্য দেয়া হয়।তাহলে এতো কষ্ট করে বাংলা ভাষা প্রতিষ্টা কেনো করা হয়েছিলো? ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী আবদুস সালাম, রফিক, জব্বার, শফিক, বরকত জীবন দিয়ে শহীদ হয়ে বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করেছে। তাদের রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষা আজ রাষ্ট্র ভাষা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা লাভ করেছে।
ভাষা আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন ও অবদান রেখেছেন আমরা আজ তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। ইসলামী রাজনীতি, সংস্কৃতির বিকাশ যারা চায় তাদের মধ্যে স্বকীয়তা, স্বাধীনতার চেতনা থাকে সব সময়। তার বাস্তব প্রমাণ ভাষা আন্দোলন।মাওলানা আকরম খানের গনতন্ত্র ও ইসলামের পক্ষের পত্রিকা দৈনিক আজাদ সে সময়ে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে ভূমিকা পালন করেছিল। আর এ আন্দোলনকে সাবোটাইজ করেছে, সে সময়ে যে সরকার দমন নিপীড়নের নামে আন্দোলন বন্ধ করতে চেয়েছিল তাদের দালাল বামপন্থী আন্দোলনের পত্রিকা দৈনিক সংবাদ। আজ চাপার জোরে, সিন্ডিকেটেড নিউজের মাধ্যমে সত্যকে উল্টিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ দেশে সত্যকে ধামা চাপা দেয়ার জন্য একটি গোষ্ঠী কাজ করে। তারাই আজ ভাষা আন্দোলনের যারা সত্যিকার নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।এই চেষ্টা বাংলাদেশের ইসলামী জনতা কখনোই সফল হতে দেবেনা ইনশাআল্লাহ।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

ভালো লেখা। রেফারেন্স সহ লিখলে আরো ভালো হত।

ভালো লেখা।ভালো লেখা।

ধন্যবাদ সুন্দর লিখেছেন।

আমি এখনো বিশ্বাস করি যে, যারা আল্লাহর জন্য কাজ করে তাদেরকে আল্লাহই সম্মান দেখান। এবং মানুষের কাছে তারা কখনো সম্মান আশা করে না। কিন্তু এখানে ব্যাপারটা আর সম্মান-অসম্মানের থাকেনি; বরং এখন এসব ঘৃণ্য রাজনীতি, অসুস্থ রাজনীতির পাঁকে পড়ে গেছে।

তবে সত্যপন্থীদের সর্বদা সত্য পথে অটল থাকাই উত্তম, অন্যথা তারাও যদি অধমের জবাব দিতে গিয়ে অধমের আচরণ করে, তবে তারাও অধমে পরিণত হতে বাধ্য।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর লিখার জন্য।

সালাম

সত্য আল্লাহর তা'য়ালার পছন্দ আর যারা এপথে আছে, তাদেরকে আল্লাহ পছন্দ করেই এপথে এনেছেন। আল্লাহই তাদেরকে হেফাজত করবেন। আল্লাহই শেষ ভরসা। আমরা তো শুধুই আফছুছ করতে পারবো, আর মহান আল্লাহ করবেন যা কল্যান তাদের জন্য, আমরা আমাদের পূর্ন বিশ্বাস আল্লাহর উপর রাখলাম। আল্লাহর ফায়সালাই আমরা খুশি।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

পড়ে খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।

আপনার এ পোষ্ট খানা স্টীকী দেখেছিলাম। মন্তব্য করা হয়ে উঠেনি। আমাদের বিবেকে আঘাত করা একটি পোষ্ট। কিন্তু বিবেক তো ভোঁতা হয়ে গেছে মিথ্যার রাজনীতি করতে করতে। তাই ভোঁতা বিবেকে আঘাত কেন তার চেয়ে বড় কিছু করলেও সাড়া জাগবে বলে মনে হয় না।

ধন্যবাদ পোষ্টের জন্য।

-

সূর আসে না তবু বাজে চিরন্তন এ বাঁশী!

নতুন মন্তব্য করুন

The content of this field is kept private and will not be shown publicly.
Smileys
:);):(:D}:):P:O8)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)