রোগীদের আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থল ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়’

দেশের একমাত্র
মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়’ আজ রোগীদের
আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থল। চিকিৎসা শিক্ষা থেকে শুরু করে সেবা ও গবেষণা—সব কিছুতেই নতুন
উচ্চতায় উঠে যাচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। এর স্বীকৃতি কেবল দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও মিলছে।  সম্প্রতি স্পেনের সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ ও যুক্তরাষ্ট্রের
স্কপাস প্রকাশিত জরিপে বাংলাদেশের ১১ নেতৃস্থানীয় বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে
৫ম স্থান অধিকার করে নিয়েছে এ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়
আজ দেশী ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি
উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণাও আজ এক অন্যন্য নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল
বিশ্ববিদ্যালয়। জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের এইমসসহ বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়,
চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বিশ্ববিদ্যালয়টির রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের
সঙ্গে বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থার অংশিদারী গবেষণার চুক্তি রয়েছে। তার মধ্যে
নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়, এইমস ছাড়াও রয়েছে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, মাহিদোল বিশ্ববিদ্যালয়,
রক ফেলার ফাউন্ডেশন, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআর’বি, ইএসএইড, সেভ দি চিলড্রেন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য
সংস্থা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ইউনিভার্সিটির সঙ্গে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা
বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নততর চিকিৎসা
শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। এ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের
ফলে অসংক্রামক রোগ বিষয়ক গবেষণাসহ নানা কার্যক্রম পেয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। সরকার আমাদের দেশের চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন এবং আরো গণমুখী করে তোলার জন্য
সর্বাত্মক চেষ্টা করে চলছে। প্রশিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি একে বিশ্বের একটি অন্যতম
সেরা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজও চলছে। এরই মধ্যে এক হাজার বেডের নতুন একটি
সুপার স্পেশাল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিত্য নতুন
নানা ধরনের যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হচ্ছে, যাতে রোগীরা এখানে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা
করাতে পারে। কিডনি প্রতিষ্ঠাপনের জন্য আগে মাদ্রাজ তথা সিঙ্গাপুরের কথা ভাবা হত কিন্তু
বর্তমানে কিডনি বিকল হওয়া রোগীর দেহে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বা প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে
এ প্রতিষ্ঠান টির মাধ্যমে। শতাধিক রোগীর দেহে এ পর্যন্ত কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বা প্রতিস্থাপন
করা হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। বর্তমানে বিভাগটি তিনটি ইউনিটের ২৪টি শয্যার
মাধ্যমে আন্তবিভাগীয় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগেও সমানভাবে সেবা দেওয়া
হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশু কিডনি রোগীদের। কিডনি ইউনিটে একটি পূর্ণাঙ্গ
ডায়ালিসিস সেন্টার রয়েছে, যেখানে কিডনি রোগীদের হেমোডায়ালিসিস সেবা দেওয়া হয়। এছাড়াও
বিরল রোগে আক্রান্ত টাঙ্গাইলের বীথিকে। ২৩ মে মুখের লোম অপসারণের জন্য মুখমণ্ডলে প্রথমবারের
মতো লেজার থেরাপি দেওয়া হয়। এরপর অস্ত্রোপচার করা হয় স্তনে। বর্তমানে সুস্থ ও সুন্দর
জীবনে ফিরে যাওয়ার পথে রয়েছে বীথি। গত বছর ১৯ মে এ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চালু হয়
হেমাটোলজি স্পেশালাইজড ল্যাব। এ প্রক্রিয়ার পথ ধরেই দ্রুত সময়ের মধ্যে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট
চালু করার কাজ এগিয়ে চলছে। আপাতত এ হেমাটোলজি স্পেশালাইজড ল্যাবটিতে রক্তরোগের বিভিন্ন
জটিল এবং নতুন বিশেষায়িত পরীক্ষা সংযোজন করা হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে সম্প্রতি
অপূর্ণাঙ্গ জোড়া যমজ শিশুর অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া একই বিভাগে আরেকটি
শিশুর শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ নিয়ে জন্মানো পূর্ণাঙ্গ শিশুর চিকিৎসা চলছে। জরায়ুমুখের
ক্যান্সার নির্ণয় করতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো উন্নততর লিকুইড বেইসড সাইটোলজি
পদ্ধতি। ভবিষ্যতে লিকুইড বেইসড সাইটোলজি পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে জরায়ুমুখের ক্যান্সার
ছাড়াও অন্যান্য ক্যান্সার সঠিকভাবে নির্ণয় করা যাবে। ফলে আশাহুত
মানুষদের মনে নতুন করে স্বপ্নের সঞ্চার ঘটিয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের সফলতায়।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None