প্রগতিশীলতা ও ইসলাম

আধুনিক কালে কিছু মুক্তচিন্তার মানুষ মন্তব্য করেন ইসলামী জীবন মানে
ধর্মান্ধতা, বাকস্বাধীনতা হরণ, বর্বর ও গোঁড়া জীবন ব্যবস্থা, জীবনকে সামনে
না নিয়ে পিছনের দিকে টেনে নেয়া। তবে কোন বিচারে বা যুক্তিতে ইসলামের
বিরূদ্ধে তাদের এই সন্দেহ তা স্পষ্ট নয়। ইসলাম সম্পর্কে তারা কতটা জ্ঞান
রাখেন তাও পরিক্ষীত নয়। ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান থাকলেও এই
বিষয়টি বুঝা যায়যে, ইসলাম সভ্যতার উন্নতি ও প্রগতির পথে কখনও অন্তরায় হয়ে
দাঁড়ায়নি।

ইসলামের বাণী গ্রহনের দায়িত্ব প্রথম যে জাতির উপর বর্তেছিল তারা
বেশিরভাগই ছিলো যুদ্ধবাজ যাযাবর এবং অপসংস্কৃতির আষ্টেপৃষ্টে বাধা একটি
জাতি। সহজাত কারণেই তারা ছিলো র্নিমম ও কঠোর প্রকৃতির । ইসলামের অন্যতম
শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো এসব উগ্র ও পাষান প্রকৃতির লোকেরা ইসলামের প্রভাবে
একটি মানবিক গুনসম্পন্ন জাতিতে পরিণত হয়েছিলো। তারা কেবল নিজেরাই
সুপথপ্রাপ্ত হয়নি বরং মানুষকে আল্লাহ পথে পরিচালনা করার নেতৃত্বও লাভ
করেছিলো। মানুষের জন্য একটি উন্নত সভ্যতা তৈরি এবং উন্নত সভ্যতার
পরিচালনাকারী মানুষের আত্মার বিকাশ সাধন ছিলো ইসলামের অলৌকিক ক্ষমতার এক
উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইসলাম কেবল আত্মিক উন্নতি সাধন করেই ক্ষান্ত হয়নি।

সভ্যতার অগ্রগতি, বিজ্ঞানের আর্শ্চয আবিষ্কার, যেগুলোকে বর্তমানে
প্রগতির সোপান বলে মনে করা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির যে অগ্রসরতা মানুষের মধ্যে
বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং যাকে অনেকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু বলে মনে করেন
ইসলাম তার সবগুলোকেই গ্রহন করেছে, ব্যবহার করেছে জীবনের সাবলীল ছন্দে।
মুসলীমরা সবদেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে সাহায্য ও পৃষ্টপোষকতা করেছে, এমনকি
ইসলাম সেই সভ্যতাকে বিলুপ্ত বা প্রভাবিত করেনি যা ইসলামের মূলনীতির সাথে
সরাসরি সাংঘর্ষিক ছিলো। ভারতবর্ষে মুসলীমরা শতশত বর্ষব্যাপী শাসন করার পরেও
অন্যান্য ধর্মালম্বীদের সাথে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি।

বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ইসলাম সবসময় গভীর ও একনিষ্ঠ প্রেরণা যোগায় । পবিত্র
কুরআনে আল্লাহ পাক বলছেন, “তিনিই স্তরে স্তরে সাজিয়ে সাতটি আসমান তৈরি
করেছেন ।তুমি রহমানের সৃষ্ট কর্মে কোন প্রকার অসঙ্গতি দেখতে পাবেনা ।আবার
চোখ ফিরিয়ে দেখ, কোন ত্রুটি দেখতে পাচ্ছ কি?” (সুরা: মুলক ১১)। সৃষ্টির আদি
থেকে অন্ত পযর্ন্ত সকল মানবজাতির প্রতি এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া
হয়েছে।পবিত্র কুরআন মানুষকে বারবার অনুসন্ধান করতে বলছে। মানুষের মধ্যে
বৈজ্ঞানিক গবেষণার অনুপ্রেরণা তৈরির জন্য এই আয়াতটিই কি যথেষ্ট নয়?

ইসলাম মানবতার সেবায় নিয়োজিত হয় এমন কোন কিছুর বিরোধিতা করেনা । ইসলাম
সভ্যতার মহৎ অবদানগুলো গ্রহন করে আর ক্ষতিকর দিকগুলো পরিহার করে ।সভ্যতার
নতুন নতুন আবিষ্কার, নবপ্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগের নিত্যনতুন পন্থা – এসব
কিছুই যতক্ষণ পর্যন্ত মানবতার সেবায় নিয়োজিত থাকে, ততক্ষণ ইসলাম তার
বিরোধিতা করেনা। জোয়ারের সাথে যেমন পলি আসে, তেমনি আসে রোগজীবাণু। একই ভাবে
আধুনিক সভ্যতার জীবন যাত্রার মানোন্নয়নের নানা উপাদানের সাথে আসে এমন কিছু
উপাদান যা সমাজে বিশৃংখলা, অনৈতিকতা ছড়ায়। যেমন : মদ্যপান। ইসলাম এগুলোকে
প্রতিরোধ করে, প্রতিকার করে আক্রান্তের। ইসলাম সভ্যতায় অনুপ্রবেশকারী
রোগজীবাণুর বিষাক্ত ছোবল থেকে মানবতাকে রক্ষার জন্য যথাসম্ভব কর্মপন্থা
গ্রহন করতে অনুসারীদেরকে অনুপ্রেরণা যোগায়। কাজেই যারা প্রগতিশীলতার নামে
ইসলামের বিরোধিতা করেন তারা আসলে প্রগতিশীল নাকি ইসলামের বিরোধিতার নামে
নিজেকে প্রচারের একটি সাইনর্বোড তৈরি করেন সে বিষয়টি আমার কাছে পরিষ্কার
নয়।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)
একজন ধর্ষণকারী হচ্ছে মুক্তচিন্তার মানুষ। কারণ, সে তার চিন্তাকে কোন সুনির্দিষ্ট নীতির মাঝে আবদ্ধ রাখে না, মনটাকে নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে বা এক জায়গায় আবদ্ধ রাখে না। কথিত কুপমণ্ডুকতা থেকেও সে মুক্ত। নিজের কামনা ও জৈবিক ভাবনা-চিন্তাকে শুধু স্ত্রীর মাঝে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে— এমন প্রথা ও সংস্কার মানতে সে রাজি নয় মোটেও।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)