গণতন্ত্র বনাম ইসলাম [সবার জানা একটা ঐতিহাসিক ঘটনার আলোকে]

গণতন্ত্র আর ইসলামের পার্থক্য বোঝার জন্য একটা ছোট্ট উদাহরণই যথেষ্ট। আমরা সবাই জানি, ইবলীস আদমকে সেজদা করেনি। আল্লাহর একটি হুকুমকে অস্বীকার ও দম্ভভরে প্রত্যাখ্যান করায় সে অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হয়। কিন্তু কেউ ভেবে দেখেছি কি, গণতন্ত্রের দৃষ্টিতে এ ঘটনাটা কিরূপ? গণতন্ত্রের প্রচলিত ধারণা এ পর্যন্ত যতটুকু জেনেছি, তাতে কে কাকে সেজদা করল বা না করল, এটা কোন অপরাধ হবার কথা নয়। সেজদা করতে বললেই কি করতে হবে নাকি? তার সেজদা করতে মন চাইলে করবে, না চাইলে না করবে, কিংবা যাকে যখন ইচ্ছা সেজদা করবে, এ তো তার ব্যক্তি স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে সৃষ্টির পক্ষে জেনেশুনে স্রষ্টার হুকুম অমান্য করাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। আর আল্লাহর সামনে নিজের অবাধ্যতার পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করাটা ক্ষমাহীন ধৃষ্টতা।
গণতন্ত্রে স্রষ্টা আর সৃষ্টির মর্যাদাকে সমান হিসেবে ধরা হয়। স্রষ্টাকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা যায়, ঠাট্টা-মশকরা করা যায়। গণতন্ত্রমতে স্রষ্টার মনোনীত মহাপুরুষগণের মর্যাদা আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মত বলেই বিবেচনা করা হয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবদেরকে নিয়ে রঙ্গ-তামাশা করা যায়, মনের মাধুরী মিশিয়ে তাঁদের চরিত্রকে নিজেদের মনের মত করে সাজিয়ে চিত্তবিনোদনের কাজে ব্যবহার করা যায়।
গণতন্ত্রে জনকল্যাণের চেয়ে জনমতটাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। একটা শিশু যদি আগুনে হাত দিতে চায়, তার কল্যাণ চিন্তা করে তার ইচ্ছাকে দমন করবার অনুমতি গণতন্ত্রে নেই। তার স্বাধীনতা আছে ওখানে হাত দেয়া বা না দেয়ার ব্যাপারে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবার। আপনি বড়জোর ওকে বারণ করতে পারেন, কিন্তু ওর হাতটা টেনে ধরতে পারবেন না।
গণতন্ত্রে জনপ্রিয়তাই একজন মানুষের (বিশেষত একজন নেতা বা নেত্রীর) শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত। ধর্ম, নীতি-নৈতিকতা, মানবিকতা, দয়ামায়া এসব খুব একটা জরুরী বিষয় নয়। নৈতিক বা মানবিক গুণাবলী না থাকলেও স্রেফ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থন লাভের কারণে একজন পুরুষ বা মহিলা একটা জাতির নেতৃত্ব লাভের দাবিদার হতে পারে। একটা লোক বা মেয়েলোক যদি চরম স্বার্থপর ক্ষমতালোভী হিংস্র অমানুষও হয়, তাকেও নির্বাচনে দাড়ানোর সুযোগ দিতে হয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীদের চাইতে ভোটের অংকে সে প্রথম হলে তার হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তর করতে হয়। আবার ক্ষমতা দিতে না পারলেও তার  প্রতি দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের সমর্থন থাকার কারণে তার সাথে যথেষ্ট তাযীমের সাথে আচরণ করতে হয়। সামান্য চোর-ছ্যাঁচরকে ইচ্ছেমত ধরে ঠ্যাঙ্গানো গেলেও শত শত মানুষকে বীভৎসতম পন্থায় হত্যার নির্দেশ প্রদানকারী গণতান্ত্রিক নেতা বা নেত্রীর প্রতি আদব প্রদর্শনে পান থেকে চুন খসলেই দেশব্যাপী হৈচৈ পড়ে যায়। একজন অপরাধী স্বভাবের দুর্বৃত্ত ব্যক্তিও স্রেফ জনপ্রিয়তার কারণে জনগণের অবিসংবাদিত নেতা বা নেত্রী হবার সুবাদে এ ধরনের শর্তহীন সম্মান লাভ করতে পারে, যা কেবল গণতন্ত্রেরই অবদান। অপরদিকে ইসলামের দৃষ্টিতে তাকওয়া তথা আল্লাহর আনুগত্যই শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা লাভের একমাত্র মাপকাঠি। জনগণ কাউকে তিনবার কেন, তিন হাজারবার নির্বাচিত করলেও আল্লাহর কাছে সেটার কোন মূল্য নেই, যদি তার স্বভাব-চরিত্র ভাল না হয়ে থাকে। শুধু জনসমর্থন বা জনপ্রিয়তাই কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে নিয়ে যায় না। আল্লাহর আইনে যে ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য অপরাধী, সারা পৃথিবীর মানুষ একমত হয়েও তাকে অনুকম্পা প্রদর্শনের এখতিয়ার রাখে না।
গণতন্ত্রে ন্যায়-অন্যাযের কোন স্থায়ী মানদণ্ড নেই। গণতন্ত্রে জনগণই ভগবান, জনগণের ইচ্ছাই ন্যায়। জনগণের ইচ্ছা পূরণে ন্যায়-অন্যায় নির্বিশেষে যেকোন পদক্ষেপ ও কর্মসূচী গণতন্ত্রে স্বীকৃত। গণতন্ত্রে অধিক সংখ্যক মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য অল্পসংখ্যক মানুষকে বলিদান গ্রহণযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যদি একজন ব্যক্তির ফাঁসির দাবি তোলে, তাহলে গণতন্ত্রের নিয়মানুযায়ী তাকে ফাসি দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাস্তবেই ফাসির যোগ্য অপরাধে অপরাধী কিনা, সেটা দেখার বিষয় হবে না। অনুরূপভাবে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যদি সরকার পরিবর্তনে আগ্রহী হয় এবং ক্ষমতাসীন সরকারকে হটিয়ে অন্য কাউকে ক্ষমতায় বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বেশিরভাগ মানুষের ইচ্ছা ও দাবি বাস্তবায়নের জন্য কিছুসংখ্যক মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যার কর্মসূচী দেয়াটা গণতান্ত্রিক অধিকার- এর সাথে দ্বিমত করলে গণবিরোধী হয়ে যাবেন। গণতন্ত্রের মতে, ১৫ কোটি মানুষের ইচ্ছা পূরণের জন্য ১৫ জন মানুষকে পুড়ে মরতে হতেই পারে, এটা আর এমন কী! কিন্তু ইসলাম বলে, যদি সারা পৃথিবীর সব মানুষ মিলেও একজন মানুষকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় বা হত্যার পক্ষে মত দেয়, তাহলে আল্লাহ পৃথিবীর সকল মানুষকেই হত্যার অপরাধে শাস্তি দেবেন। জনসমর্থন কাউকে আল্লাহর দণ্ড থেকে অব্যাহতি দেয় না। ইসলাম ব্যক্তির উপরে সমষ্টিকে, লঘিষ্ঠ সংখ্যক মানুষের উপর গরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষকে অগ্রাধিকার দেয় বটে; কিন্তু তাই বলে গরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষের ছোট চাহিদা বা প্রয়োজন পূরণের জন্য লঘিষ্ঠ সংখ্যক মানুষের বড় ক্ষতি করবার অনুমতি ইসলাম দেয় না। যেমন- দশজন মানুষের জীবন রক্ষার জন্য একজন মানুষের জীবন বিসর্জন দেয়াটা হয়তো গ্রহণযোগ্য, কিন্তু দশজন মানুষের রসনা বিলাসের জন্য একজন মানুষের জীবনের ক্ষতি করাটা গ্রহণযোগ্য নয়। আর জনগণের জীবন রক্ষার্থে সেই একজন মানুষের আত্মত্যাগটাও কেবল শত্রুর হাতেই হতে পারে, নিজেরা ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে হত্যা করা  চলবে না। তদুপরি কোটি মানুষের জীবন রক্ষার্তে সহস্র মানুষের জীবন দেয়া, আর কোটি মানুষের সমর্থিত এক বা মুষ্টিমেয় ব্যক্তির জীবন বা ক্ষমতা রক্ষার্থে সহস্র মানুষের জীবন দেয়া এক কথা নয়। গণতন্ত্র বলে, জনগণ কখনো ভুল করতে পারে না, জনগণের সমর্থিত কোন কাজের দিকে মন্দ দৃষ্টিতে তাকানো চলবে না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা বলেন, "আপনি যদি তাদের অধিকাংশ লোকের কথামত চলেন, তাহলে তারা আপনাকে পথভ্রষ্ট করে ছাড়বে।" কোন ব্যক্তি, দল, শ্রেণী বা গোষ্ঠীর কোন আবদার পূরণ বা দাবি আদায়ের জন্য জনগণের সম্পদ ও জীবন ধ্বংসকারী যেকোন কর্মসূচী দেয়াটা গণতন্ত্রে আইনসিদ্ধ ও স্বীকৃত অধিকার। কিন্তু মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নকারী কোন পদক্ষেপ বা কর্মসূচী ইসলাম অনুমোদন করে না। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ও ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টিমূলক কর্মকাণ্ড ইসলামী আইনে কঠোরভাবে দণ্ডনীয়। মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের এসব পন্থাকে গণতন্ত্রে অনুমোদন দেয়া হয় কোন্‌ যুক্তিতে, আমার বুঝে আসে না। এদেরকে যদি ছাড় দিতে হয়, তাহলে যারা পেশাদার অপরাধী- অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে, তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না কেন? তাদের জনসমর্থন নেই বলে?
যেসব কথিত ইসলামী রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম কায়েম করতে চান, তারা মূলত দুইটি ধারণার উপর কাজ করে থাকেন। প্রথমত, রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে পেলেই ইসলাম কায়েম করে ফেলা যায়। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের সবচাইতে সহজ ও নির্বিঘ্ন পন্থা হল গণতন্ত্র। তাই গণতন্ত্র কায়েম করতে পারলেই সেই রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের পথ প্রশস্ত হয়। প্রথমটির ব্যাপারে বলি, রাষ্ট্রক্ষমতাই যদি সবকিছু হতো, রাষ্ট্রক্ষমতাই যদি ইসলাম প্রতিষ্ঠার একমাত্র মাধ্যম হতো, যেনতেন প্রকারে রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জন করতে পারলেই যদি ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথ খোলাসা হয়ে যেত; তাহলে রসূলুল্লাহ (সা:)-কে তো রাষ্ট্রক্ষমতার অফার মক্কী জিন্দেগির শুরুতেই দেয়া হয়েছিল। তিনি তো ভাবতে পারতেন, আগে রাষ্ট্রক্ষমতাটা তো বাগিয়ে নেই, তারপর নাহয় চোরের উপর বাটপারি করে সময় সুযোগমত ইসলামী আইন জারি করে দেয়া যাবে। কিংবা তা যদি সম্ভব নাও হয়, অন্তত ধর্ম পালনে বিঘ্ন দূর করে সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতাটা নিশ্চিত করা যাবে; তারপর সেই নবসৃষ্ট অনুকূল পরিবেশের সুযোগ নিয়ে পুনরায় দ্বীন প্রচারে নেমে পড়ে জনগণকে শান্তিতে ও নিরাপদে ইসলাম গ্রহণ ও ইসলাম পালন করানো যাবে। কিন্তু এ ধরনের 'হেকমত' অবলম্বন করতে তো আমরা নবীজীকে দেখিনি। কারণ, রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করতে গেলে প্রথমে ইসলাম কায়েম না করবার মুচলেকা দিয়েই তবে করতে হতো। অনুরূপভাবে, গণতন্ত্রেও নির্বাচনে দাড়ানো ও ক্ষমতা গ্রহণের আগে প্রচলিত সংবিধান রক্ষা করবার মুচলেকা দিয়েই শপথ গ্রহণ করতে হয়। আমরা আরেকটি উদাহরণ টানতে পারি, কোন এক বৃহৎ রাষ্ট্রের একটি অংশকে কেউ যদি স্বাধীন করতে চান, তাহলে ঐ পূর্ণ অখণ্ড রাষ্ট্রটির ক্ষমতা গ্রহণে রাজি হবেন না সেই স্বাধীনতাকামী নেতা, কারণ সেই রাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণ করতে হলে তো রাষ্ট্রটির অখণ্ডতা রক্ষা করবার শপথ নিয়েই তবে করতে হবে। এতে তো তাঁর মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বার সম্ভাবনা থেকে যায়। আবার ধরুন, মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিয়োজিত কাউকে যদি রাক্ষসের যুবরাণী করার প্রস্তাব দেয়া হয়, তখন তার পক্ষে একথা ভাবার সুযোগ নেই যে, আগে তো অভিষেকটা সেরে নেই, তারপর নাহয় সুযোগ পেলে রাক্ষসরাণীরই টুটি চেপে ধরা যাবে। ...গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পক্ষে যে যুক্তিটা দেখানো হয়ে থাকে তাহল, রসূলুল্লাহ (স.) মদীনাতে জনগণের সম্মতি ও সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। অতএব, এখন যারা তাদের ভাষায় মূলধারার (প্রকৃতপক্ষে পথভ্রষ্ট ধারা) ইসলামী দল, তারা কোন দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হলে সেখানে প্রথমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তারপর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলেই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে ইসলামী আইন জারি করে। এ অবস্থা হচ্ছে সেই বিকারগ্রস্ত যুবকটির মত, যে কোন পতিতালয়ের সর্দারনীকে হেদায়েত করবার জন্য তার সাথে প্রেম করাকেই সহীহ পন্থা হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং এই মর্মে কর্মকৌশল নির্ধারণ করেছে যে, প্রথমে সর্দারনীর হৃদয়ে স্থান পেতে হবে, তারপর তার প্রতি সর্দারনীর ভালবাসাকে ব্যবহার করে তাকে ভ্রান্ত পথ থেকে ফিরিয়ে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা যাবে। অথচ এতে করে যে তার নিজেরই নৈতিকতা লাটে উঠতে বসেছে, সে নিজেই চিরতরে যৌনরোগীতে পরিণত হতে যাচ্ছে, সেই হুঁশ তার নেই। যারা মদীনায় রসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সাথে প্রচলিত গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে তুলনা করছেন, তাদেরকে বলি, রসূলুল্লাহ (সা.) অবশ্যই জনগণের সমর্থন নিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তার জন্য কি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছিল? জনগণ কোন ব্যক্তি, দল বা আদর্শকে পছন্দ করলে প্রাকৃতিকভাবে (naturally) আপনাআপনিই আল্লাহ সে ব্যক্তি বা দলকে সেই জাতির শাসনক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করে দেন। যে জাতি যেমন, সে জাতির উপর তেমন শাসক চাপিয়ে দেয়াটা আল্লাহরই ঘোষিত বিধান। এর জন্য তো আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট আয়োজনের দরকার পড়ে না। আচ্ছা, আধুনিক যুগে জনসংখ্যা আগেকার দিনের তুলনায় বহুগুণ বেশি হওয়ায় এবং প্রকাশ্য মতামত প্রকাশ জনগণের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার জন্য সমস্যা মনে হওয়ায় গোটা দেশের জনগণের মতামত গ্রহণ করার সুবিধার্থে গোপট ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের পন্থাকে না হয় গ্রহণ করে নিলাম। কিন্তু জনগণের এই ভোটের অধিকারটা প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণকেই জিম্মি করে আন্দোলন করতে হবে, জনজীবনকে অচল করে দিয়ে মানুষকে কষ্ট দিতে হবে, এর কোন নজীর আপনারা পেয়েছেন কোন্‌ নবীর জীবনে?

কথিত গণতন্ত্র বা ভোটের মাধ্যমে পৃথিবীর কোথাও ইসলামের বিজয় লাভ হয়েছে বা মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- এমন নজির পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের গাজা ও তুরস্কে কিছুটা সফলতা দেখা গেছে। কিন্তু ফিলিস্তিনের হামাসের কাছে ভোটে অংশগ্রহণটা কোন মূল কাজ নয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভে তারা মরিয়াও নয়, বরং ক্ষমতায় থেকে বা ক্ষমতার বাইরে থেকে উভয় অবস্থাতেই তাদের মূল কাজ হচ্ছে বহি:শত্রু ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা। আর তুরস্কে যেসব ইসলামী দল

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None