ঐক্যের প্রশ্নে বিশুদ্ধ আক্কীদার বিষয়টিকে ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই্; বরং তা থেকেই ঐক্যের সূচনা করতে হবে

* বিশুদ্ধ আক্কীদার ব্যপারটাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ
মুসলমানদের সফলতা শুধুমাত্র দুনিয়াতে নয়; বরং আসল সফলতা আখেরাতে। অশুদ্ধ
বিশ্বাস তথা শির্ক ও প্রত্যাখ্যাত বিষয় নিয়ে দুনিয়ায় সফলতা আসলেও আখেরাতে
আটকে যেতে হবে। আর আখেরাতে আটকে যাওয়া মানে পুরোটাই ব্যর্থতা!

* মুসলমানদের বিভাজনে কাফের-মুশরিকদের চতুর হাত রয়েছে; একথা অনস্বীকার্য। তাই আলেম ও শাসকগণের উচিত এসব বিষয় বুঝা ও নূন্যতম ঐক্যের সুযোগকেও হাতছাড়া না করা।

* মূলতঃ ঐক্য এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর পুরোটাই নির্ভর করে শাসক শ্রেণীর
মনমানসিকতার উপর। আফোসস করার বিষয় এটা যে, মুসলিম বিশ্বে ঐক্য এবং ইসলামী
অর্থনীতিতে বিশ্বাসী ও এর দ্বারা যে কি পরিমাণ সুফল আসা সম্ভব; এসব চিন্তা
করার মত শাসক বর্তমান নেই। যা দু'একজন আছেন তারাও নানাভাবে কোণঠাসা
অবস্থায়। সুতরাং অনেকেই শুধুমাত্র দাওয়াতী কাজের গুরুত্ব বুঝিয়ে থাকেন। আমি
মনে করি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুরো জীবনটাকেই
একত্রে সামনে রেখে আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তসমূহ
নিরপেক্ষ ও নিঃস্বার্থ দৃষ্টিভঙ্গিতে নিতে পারলে সামনে এগুনো সম্ভব হবে।
অন্যথা সময় আমাদের সামনে নিয়ে যাবে কিন্তু আমরা ঠিক পেছনে থেকে যাবো।

আপনার রেটিং: None
ঐক্যের জন্য প্রয়োজন মধ্যপন্থা ও উদারচিন্তা। যে সমস্ত বিষয় আল্লাহ ও রসূল তথা কোরআন ও হাদীসের দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত, সেগুলোর বিষয়ে কোন মতভেদ করা চলবে না। আর যেসব বিষয়ে কোন একদিকে সুনিশ্চিত ফয়সালা প্রদান করা সম্ভব নয়, সেসব বিষয়ে সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ঞুতা অবলম্বন করতে হবে। মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোর ফয়সালা নিম্নরূপভাবে হতে পারে:-
(১) নামাযে রফয়ে ইয়াদাইন করলেও সমস্যা নেই, না করলেও সমস্যা নেই। [যেহেতু এর পক্ষে সহীহ হাদীস থাকার বর্ণনা আছে বলে শোনা যায়, তবে  এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (সা.)-এর সর্বাধিক ও সর্বশেষ আমল কিরূপ ছিল তা নিয়ে মতভেদ আছে।]
(২) মিলাদ পড়তেও দোষ নেই, না পড়লেও দোষ নেই। [যেহেতু কোরআনে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের নিয়ে রসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরূদ ও সালাম জানানোর ঘোষণা আছে, তবে মানুষের মধ্যে সমবেতভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে দরূদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আর কিয়ামের বিষয়ে এই নীতি গ্রহণ করা যায় যে, যদি নবী (সা.)-কে হাজির-নাজির জ্ঞান করা উদ্দেশ্য হয়, তাহলে তা অনুচিত; তবে যদি অনুরূপ উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে আপত্তি নেই।]
(৩) তারাবীর নামায ৮ রাকাত, নাকি ২০ রাকাত- এ নিয়েও বিবাদ করবার কিছু নেই। [যেহেতু এ নামাজটি ফরয নয়, সুন্নত; এবং যেকোন সংখ্যক রাকাত পড়ার পক্ষেই দলীল রয়েছে; সেহেতু কোন ব্যক্তি বা দল কয় রাকাত তারাবী পড়ল, সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই।]
(৪) একামতের বাক্যগুলো একবার করে বলবে নাকি দু'বার করে বলবে, এ নিয়েও পারস্পরিক বিদ্রূপ ও ঝগড়াঝাটি নিষ্প্রয়োজন। [কারণ, একামত ফরয নয়, সুন্নত। একামত না দিলেও নামায হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বাক্যগুলো একবার বলবে নাকি দুইবার বলবে সে ব্যাপারে যদি উভয়ের পক্ষেই হাদীসের দলীল থেকে থাকে, তাহলে দুটোই tolerate করা বাঞ্ছনীয়।]
(৫) রসূলুল্লাহ (সা.) মাটির তৈরি নাকি নূরের তৈরি, এ নিয়ে কেউ কাউকে কাফের বা গোমরাহ বলা যাবে না। তবে মাটির তৈরি বলার দ্বারা যদি নবীকে হেয় করা ও আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের পর্যায়ে নামিয়ে আনা উদ্দেশ্য হয়, আর নূরের তৈরি বলার দ্বারা যদি নবীজীকে আল্লাহর সমপর্যায়ে সাব্যস্ত করা উদ্দেশ্য হয়, তাহলে উক্ত উদ্দেশ্যসমূহকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।
তবে আকীদাগত যে বিষয়গুলো নিয়ে আপোষ বা ছাড় দেয়া যাবে না, তা নিম্নরূপ:-
(১) তাওহীদ: আল্লাহ তাআলা আহলে কিতাবগণকে দাওয়াত প্রদান প্রসঙ্গেও তাদেরকে একটি বিষয়ে ঐক্যমতে আসার আহবান জানাতে বলেছেন যে, আল্লাহ ছাড়া কারো এবাদত করব না। অতএব, ঐক্যের নামে কোন সুস্পষ্ট শেরেকীকে স্বীকৃতি দেয়া যাবে না। যেমন- খ্রিস্টানদের ত্রিত্ববাদের আদলে আমাদের নবীকেও আল্লাহর সাথে এক ও অভিন্ন সত্ত্বারূপে গণ্য করা, ওলী-আউলিয়াগণকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে সাব্যস্ত করা ইত্যাদি।
(২) নবী-রসূল ও সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা: নবী-রসূলগণ নিষ্পাপ— এ বিষয়ে ঐক্যমত থাকতে হবে। হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী- এ ব্যাপারেও কোন ভিন্নমত গ্রহণযোগ্য হবে না। খোলাফায়ে রাশেদীন, উম্মাতাহুল মুমিনীন ও আহলে বাইতের সকলকে কোন গুরুতর অপরাধ, স্বার্থপরতা, ক্ষমতালিপ্সা ও বিশ্বাসঘাতকতা থেকে মুক্ত বলে বিশ্বাস রাখতে হবে। তবে বিজয়ের প্রাক্কালে বা বিজয়ের পরে ইসলাম গ্রহণকারী বিতর্কিত কিছু সাহাবীর বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ভাল-মন্দ যেকোন ধারণাকে tolerate করা যেতে পারে, যেহেতু তাদের বিষয়ে ঐকমত্যভিত্তিক কোন স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া কোন চিহ্নিত কুখ্যাত ঘাতক শাসককে যেনতেন প্রকারে কুযুক্তি দিয়ে সমর্থন করবার ব্যাপারে জেদ ধরার প্রবণতাকেও প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।
(৩) ধর্মের মনগড়া ব্যাখ্যা ও ভুতুড়ে মার্কা চিন্তা-দর্শন দিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে  নানারূপ কুযুক্তি দিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করার বিষয়টি মেনে নেয়া যাবে না।

Rate This

আপনার রেটিং: None