'সন্ধ্যাবাতি' -এর ব্লগ
|
|
|
|
|
লিখেছেন: সন্ধ্যাবাতি || রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১০ - ১১:৩০am
|
ঈদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ৯/১১ তে পড়ে গেলে ঈদ না ক্যানসেল করতে হয়! আবার সেদিন নাকি কুরান পুড়ানো দিবসও! তাই নিয়ে কি হয় সে নিয়েও টেনশন।
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
লিখেছেন: সন্ধ্যাবাতি || মঙ্গলবার, ৩ অগাস্ট ২০১০ - ৬:৩৮বিকাল
|
সামহোয়ার ইনে ইসলাম সম্পর্কে আমার জ্ঞান নিয়ে যেভাবে কনফ্রন্টেড হয়েছিলাম আসার একেবারে দ্বিতীয় দিন, সেরকম আগে কোথাও হই নি। এক সময় খুঁজে খুঁজে যখন ইসলাম নিয়ে কিছু বলা হলেই জবাব দেয়া শুরু করলাম, তখন আস্তে আস্তে বুঝতে পারছিলাম, আমি কত কম জানি!
একদিন তর্কাতর্কির মাঝেই হঠাৎ থমকে গেলাম এক অদ্ভূত উপলব্ধিতে... কুরআনটা আমার তখনও পর্যন্ত নিজের ভাষায় আগা গোড়া পুরাটা একবারে পড়া হয় নি! খতম করেছি তো ছোটবেলা, সে তো আছে। এখান থেকে সেখান থেকে দারস পড়েছি, ব্যাখ্যা শুনেছি, অনুবাদ পড়েছি, কিন্তু কি আশ্চর্য, যেই আমি হাজার পৃষ্ঠার সুনীল কিংবা তার চেয়েও মোটা গন উইথ দ্যা উইন্ড পড়ে ফেলতে পারি এক সপ্তাহে, সেই আমি জীবনের প্রায় দুই দশক পার হয়ে ফেলেছিলাম কুরআনের মাত্র ছয় হাজার শব্দ আগা থেকে গোড়া রিডিং না পড়েই! অদ্ভূত লজ্জা নিয়ে কুরআনের অনুবাদ পড়া শুরু করেছিলাম সেই রমজানে, কয়েক বছর আগে। শুরু থেকে একটু একটু আরবির সাথে অনেক বেশি করে অনুবাদ পড়া শুরু করলাম প্রতিদিন। আর সে কি বিষ্ময়! কুরআনে অনেক কিছু এত সুন্দর ভাবে বলা আছে, যেটা আমি আগে কখনও শুনি নি!
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
লিখেছেন: সন্ধ্যাবাতি || বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০১০ - ৮:৩০বিকাল
|
ছোটবেলা মাই হবিজ রচনা পড়েছিলাম বোধ হয় দুই একবার। কিন্তু তখন নিজের শখ বলতে কিছু হয়ে উঠে নি। সেই গত বাঁধা বাগান করা আর স্ট্যাম্প কালেকশন নিয়েই লিখে দিয়ে আসতাম। কিন্তু একটু বড় হচ্ছিলাম যখন, তখন কত শত সব শখ মাথায় চেপে বসা শুরু করলো এক একবার। ক্লাস সিক্স থেকে ছুটিতে কখনও বোরড হই নি! সেই বছরে ছুটিতে মাথায় ঢুকেছিল এম্ব্রয়ডারী করব। একটা লাল টুকটুকে সূতীর সালওয়ার কামিজে ফ্রেইম লাগিয়ে হালকা সবুজ শেইডের সূতা দিয়ে টুকটুক করে সূক্ষ্ম একটা কাজ করে ফেললাম। কে বলবে এর আগে কখনও এম্ব্রয়ডারী করি নি! কয়েকটা সোফা ব্যাগ আর ট্রাপেস্ট্রিও করে ফেললাম ঝটপট। তরপর অবশ্য আর কখনও সূইয়ে সূতা লাগাই নি… বইয়ের নেশাটা মোটামোটি কনস্ট্যান্ট। বই আমার শুধু পড়লে চলে না। কোন বই খুব ভালো লেগে গেলে সেটা কিনে নিজের কালেকশনে রেখে দেই। আর ছবি আঁকা শুরু করে তো রীতিমত দুই সপ্তাহের ক্লাসও করে ফেললাম। আঁকলাম যতদিন, খারাপ আঁকি নি। কিন্তু যখন বুঝলাম ছবি আঁকতে কি পরিমান ধৈর্যের দরকার হয়, তখন আঁকার সরঞ্জামগুলোর ব্যবহার আস্তে আস্তে কমে গেল…
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
লিখেছেন: সন্ধ্যাবাতি || মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০১০ - ৯:৫৭বিকাল
|
রিফাত ভাইয়ের বিয়ের সময় আমার বয়স ছিল পনের। তখনই শুনেছি ভাইয়া ভাবীর প্রেমের বয়স প্রায় বারো। কত যুদ্ধ করে যে বিয়ে করলো অবশেষে দু'জনে। কিন্তু বিয়ের দিন ভাবীকে নিয়ে যাওয়ার সময় ভাবীর কান্না দেখে কে! এক পর্যায়ে ভাবী পুরা বেহুঁশ, ভাইয়া বিব্রত মুখে দুই হাতে শক্ত করে ভাবীকে ধরে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ পানি আনে, কেউ বাতাস দেয়। এর কয়েক দিন পরেই বিয়ে হল কবির মামার। মামা মামীর আকদ হয়েছিল ছয় মাস আগে। বিয়ের দিন মামীর চোখে এক ফোঁটা পানি নেই। মামীর মা কাঁদছিলেন, মামী শুধু ওঁর মাথায় হাত বুলিয়ে চলে আসলেন। মামীর আড়ালে তখন সবাই ফিসফাস--বউ মানুষ না কাঁদলে ক্যামন লাগে! সেই পিচ্চি আমার চোখে এত বিসাদৃশ লাগছিল ব্যাপারটা! এত বছরের পরিচয়ের পর বিয়ে হলো, তখন কাঁদতে কাঁদতে বেহুঁশ হতেও কেউ কিছু বললো না, যেন সেটাই স্বাভাবিক! অথচ অনেক আগে আকদ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকতার দিন না কাঁদলেও ছি-ছি! এ কি কান্ড! কোনটা স্বাভাবিক?!
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
লিখেছেন: সন্ধ্যাবাতি || মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০১০ - ৯:৫৭বিকাল
|
ওখানে আমার প্রায়েই যেতে হয়। কিন্তু সত্যি বলছি, যেতে একেবারেই ভালো লাগে না। থাকতে হয় হয়তো একটানা ঘন্টা দু’য়েক। ওই দুই ঘন্টা আস্তে আস্তে আমার মনে চোরাগুপ্তা বিষণ্নতারা ঢুকে যায়।
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
লিখেছেন: সন্ধ্যাবাতি || বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই ২০১০ - ৭:০০am
|
ক্লাস নাইনের শেষেই তল্পি তল্পা গুঁটিয়ে চলে আসলাম সিডনী। তখন পনেরো ছিলাম।চারপাশের পরিবেশের বৈপরিত্য বেড়ে গেল আরও অনেক। এখানে স্কুলে এসেও সেই একা মেয়ে হিজাব পরি, একা মেয়ে নামাযের রুমের জন্য দৌঁড়াদৌঁড়ি করি, ইউনিফর্ম মডিফাই করার জন্য প্রিন্সিপালের কাছে ছুটাছুটি করে স্কার্টটাকে লম্বা করে গোড়ালী পর্যন্ত নামাই, সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। স্কুলে বন্ধুদের মধ্যে দুই জন বাদে সবাই অমুসলিম ছিল। অন্য মুসলিম মেয়ে দু'জনের মধ্যে একজন বাঙালী ছিল। সে বাঙালী এবং মুসলিম হওয়ার পরেও তার বয়ফ্রেন্ড আছে, সে স্পোর্টসের সময় শর্টস পরে, নামায পড়ে না, সে বাংলা না পারলেও গড়গড়িয়ে হিন্দী বলে, হালাল হারামের অত কেয়ার করে না, তাহলে আমি ওর থেকে এত ভিন্ন কেন--প্রথম দিকে ভাঙা ভাঙা ইংরেজি নিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর যে কতগুলো অতি উৎসাহী পনেরো বছরের মেয়েদের দিতে হলো!
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
লিখেছেন: সন্ধ্যাবাতি || সোমবার, ২৮ জুন ২০১০ - ৮:২১am
|
সব কিছুর মধ্যে একটা ব্যাপার পুরাপুরি ঠিক ছিল যে জন্য আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর সাথে আমার বিশেষ একটা সম্পর্ক ছিল, খুব ব্যক্তিগত একটা সম্পর্ক। ছোটবেলা থেকে আল্লাহকে যেমন পারসোনালি কল্পনা করে নিতাম--আল্লাহ শাওয়ার ছাড়ছে, পৃথিবী পর্দায় ঢেকে দিচ্ছে, ফেরেশতা পাঠিয়ে আমাকে নামিয়ে আনছে, অর্থ্যাৎ কিনা আমাকে ঘিরেই আল্লাহর কাজকর্ম (!), এই বোধটা বড় হয়ে বিকশিত হয়েছে! কখনও মনে হয় নি আল্লাহ আমার কথা শুনছে না, পাত্তা দিচ্ছে না। ক্লাস সেভেনে একটা লেখা পড়েছিলাম ছোটদের পত্রিকায়, কানিজ ফাতিমা নিপু নামের একজন লিখেছিলেন, সেটায় আল্লাহর ভালোবাসা সম্পর্কে সেই হাদীসটা ছিল--আল্লাহ তার সমস্ত রহমতের মাত্র ১% সারা পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টিতে ভাগ করে দিয়েছেন, বাকি সব তাঁর নিজের জন্য। হাদীসটা তখনই প্রথম শুনেছি। ওই লেখাটা যে কতবার পড়লাম! এটা পড়ে আমার আল্লাহকে আরও আপন মনে হতো। আজকেই মাত্র নওকে বলছিলাম, আজ অব্দি আল্লাহ আমার কোন প্রার্থনাকে অপূর্ণ রাখেন নি। একটাও না!
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
লিখেছেন: সন্ধ্যাবাতি || শনিবার, ২৬ জুন ২০১০ - ৭:১৮am
|
আমার ক্লাস ফাইভ, তারপরে আবার সেভেন থেকে বেশ ঘনিষ্ঠ, ভালো বন্ধু জুটে যায়। এখনও যোগাযোগ আছে ওদের সাথে। আমাদের এক সাথে কত আনন্দ বেদনার স্মৃতি! বিজ্ঞান মেলায় জাফর ইকবালের সামনে তালগোল পাকানোর স্মৃতি, দুই দুইটা বিজ্ঞান মেলায় গো-হারা হারার স্মৃতি, স্কুলের সামনে মাইডাসে আড্ডা কিংবা এক সাথে বাড়ি ফেরা, কোচিং করা। হাজার নিষেধ থাকা সত্ত্বেও ক্লাস পালিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা, তারপর গণ বকা খাওয়া। আছে সবার সাথে বই পড়ার স্মৃতি। ছুটির পর এক সাথে গান গাওয়ার স্মৃতি। অসাধারণ একটা সময় ছিল তখন, যখন মনে হতো, পুরা পৃথিবীটা অসাধারন! আমরা অসাধারন! সব কিছু সম্ভব!
মেয়েগুলো বড় বেশি ভালো ছিল, কিন্তু সারা ক্লাসে আমি ওই একাই হিজাব পড়তাম। বেশির ভাগ সময় নামাযও পড়তে যেতাম একা একাই।
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
লিখেছেন: সন্ধ্যাবাতি || বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০১০ - ৬:০৯am
|
স্কুলে ভর্তির আগ পর্যন্ত গড়নটা মা বাবা ঠিক যেভাবে চায় সেভাবে হলেও, স্কুলে ভর্তির সাথে সাথে পৃথিবীটা আস্তে আস্তে বড় হয়।
আমি আমার জীবনে মোট তিন জন হুজুরের কাছে পড়েছি। প্রথম জনকে ভাইয়া ডাকতাম। তখনও স্কুলে ভর্তি হই নি। ভাইয়া খুব আদর করতেন, চিপস টিপস দিয়ে ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করতেন। কিন্তু উনি পড়া দিতেন বলে পছন্দ করতাম না। ভাইয়া আসলেই নানা অজুহাত শুরু হয়ে যেত। মনে হয় শুধু আরবি হরফগুলো শিখেছিলাম ভাইয়ার কাছে।
দ্বিতীয় জনও ভাইয়া ছিলেন। কিন্তু এই ভাইয়া রেগে গেলেই বিচ্ছিরি একটা কথা বলতেন। 'এক থাপ্পড়ে…... বের করে ফেলব।'
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
লিখেছেন: সন্ধ্যাবাতি || সোমবার, ২১ জুন ২০১০ - ৮:২৭বিকাল
|
অমুসলিম থেকে মুসলিম হলে তাদের মুসলিম হওয়ার গল্প সবাই আগ্রহ নিয়ে শুনে। অথচ মুসলিম পরিবারে জন্ম হলেও ইসলামের দিকে আসার বা না আসার গল্প থাকে। আমার অনেক দিনের ইচ্ছা, আমার নিজের এই পথ চলার কথা লিখব। আর কারও জন্য না হলেও নিজের জন্যই। জীবনের বাঁক ঘুরে যায় অনেক সময় খুব আপাত: ছোট খাট কারণে।সেগুলোর কথা ভুলে যেতে ইচ্ছা করে না একদম।
-------
|
|
|
|
|
|